গল্পেরা জোনাকি -তে সুতপা পূততুন্ড

মটন কসা

শঙ্খ বাবু দিন মজুরের কাজ করে,প্রতিদিন ১০০/- সংসার বলতে স্ত্রী আর ৭ বছরের ছেলে,বুড়ো বাবা। মা দীর্ঘদিন হোলো গত হয়েছেন।
বাবা মাঝে মাঝেই পুরোনো বন্ধুদের সাথে ক্যারাম খেলে সময় কাটান। বার্ধক্য ভাতার পুরোটাই খরচা করেন চায়ের আসরে।
শঙ্খ বাবুর স্ত্রী সেলাই করে কিছু রোজগার করেন,ছেলের স্কুলের রং পেন্সিল রাবার আরো নানান জিনিষেই ব্যায় করেন,কিছু সংসার চালাতে খরচ হয়ে যায়।
সংসারের খরচ সামলাতে আবার রান্নার কাজ নিয়েছে সতী।তাতে একটু সুরাহা হয়,ওরা একজনের খাবার দিয়ে দেয়,সতী পুরোটাই বাড়ি নিয়ে চলে আসে।এতে বাবা ছেলের তরকারি হয়ে যায়,আর মাছের পিস বেশ বড়।
ছেলের বায়না একদিন পাঠার মাংস খাবে, রবিবার বাছা হলো, শঙ্খ র ছুটি বাবাও বাড়ি থাকেন।
সতী জমানো টাকায় সারে তিনশো মাংস কিনে নিয়ে এসেছে,কসিয়ে মাংস রান্না করেছে, বরুণ খাবে!
বরুণ ঃ মা – একটু কসা দেবে? এক পিস মা…..
সতী ঃ আচ্ছা তুই স্নান সেরে আয়! আমি সবে বসিয়েছি।
সতী ঃ বাবা স্নান করে নিন আজ সবার একসাথে খাওয়ার দিন,মনে আছে ত?
শ্বশুর মশাইঃ আচ্ছা বৌ মা,আমি এই যাব এক ডুব দেব, ব্যাস!
পাশের দোকানে ফোন এসেছিল, শঙ্খ কে খবর দিয়ে গেছে, শঙখ স্নান সেরে ফোন করতে গেছে…..
শঙ্খ র মুখটা কেমন ফ্যাকাসে!
সতী কি গো কি হয়েছে?
শঙ্খ ঃ বাবা কোথায়?
সতীঃ এইত পুকুরে স্নান সারতে গেছে।
শঙ্খ ঃ কাকা বাবু গত হয়েছেন!
সতীঃ হঠাৎ?
শঙ্খ ঃ হ্যা গো, হার্ট ফেল,বুকে সর্দি জমেছিল।
সতী ঃ যা!!!!বরুন কে কি বলব?
শঙ্খ ঃ হ্যা,কত আশা করে আছে মটন কসা খাবে বলে!
কিন্তু……..
ফেসবুক দিয়ে আপনার মন্তব্য করুন
Spread the love

You may also like...

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

কপি করার অনুমতি নেই।