T3 শারদ সংখ্যা ২০২২ || তব অচিন্ত্য রূপ || বিশেষ সংখ্যায় সুস্মিতা পাল

বানভাসি

জোলো হাওয়াটা আজ সকাল থেকে একটু নরম পড়েছে, বাদলাটা এবার বোধহয় ধরল। পাঁচদিন চারদিক ভাসিয়ে জল ঝরল, থৈ থৈ সারা গেরাম জুড়ে। হারু মিঞার ঘরখান চোখের সামনে ধসে পড়ল গো,কত হুজ্জুতি সামলে গত বচ্ছর তৈরী করেছিল। আসরফ বেজার মুখে দাওয়ায় পা ছড়িয়ে বসল। কাজকামে বের হওয়ার নাই, পরশুই দেখে এসেছে নিজের চাষের জমিটুকু জলের তলায়। নতুন ধানের চারাগুলো জলের ঘোমটার তলে মুখ লুকিয়েছে,তার ছ’মাসের টাটকা বিবির মতো। বড় লাজুক নুরি, চাঁদের মতো মুখখানি ঘোমটার মেঘ দিয়ে ঢেকে ফেলে তাকে দেখলেই। ভাব হয়েছে,তবে এখনো পুরো আড় ভাঙ্গেনি নুরির।শাদিতে বেশ টান পড়েছে জমানো টাকায়,ভেবেছিল এবার বোধহয় ফলন ভাল হবে। কোন্ জাহান্নম থেকে বাদল এল-দাওয়ার এক কানা নীচ পর্যন্ত ধরে ফেলেছে জমা জল। কপালে কি আছে আল্লাহ জানেন!
” কি ভাবেন মিঞা? “নুরির গলা শুনে মুখ তুলে তাকায় আসরফ। নোলকটা চিকচিক করে দুলে ওঠে নুরির ঘাড় ঘুরিয়ে তাকানোর সঙ্গে সঙ্গে।
“ডর লাগে বিবিজান। নদের জল যদি বাড়ে ,সরকার থেইক্যা বাঁধ খুলি দেয়,জমি তো ভাসব পুরাপুরি। খাইবা কি?”
“ভয় পাও ক্যান? দুইজনা হাতে হাত মিলাইয়া কাম করুম। ঠিক উপায় হইব। শুধু তুমি মিঞা…..”
“আমি কি ?”
“আমারে এমন কইরাই সোহাগে বাইন্ধা রাইখ্যো। সোহাগও এক বাদলা ঝড়, যেমন আসে তেমন চইল্যাও যায়।তাই ডর লাগে যে।”
ছাইরঙা আকাশটা একটু আলো ছড়াতে থাকে,ঠান্ডা জল পেরিয়ে আসা হাওয়া গায়ে লেগে শিরশির করে ওঠে।নুরির জলে ভরে আসা চোখের দিকে তাকিয়ে অন্য এক বানের ইশারা পায় আসরফ। বিবির মুখটা বুকে চেপে ধরে চুলে ঠোঁট ডোবায় ,এবার বানভাসি হতে আর ভয় করে না তার।

ফেসবুক দিয়ে আপনার মন্তব্য করুন
Spread the love

You may also like...

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

কপি করার অনুমতি নেই।