গারো পাহাড়ের গদ্যে ড. এস এম শাহনূর (পর্ব-১৭)

পন্ডিত ইন্দ্র কুমার সিংহ ‘কর্মযোগী মহেশচন্দ্র ও কুমিল্লা মহেশাঙ্গন’ নামক ইতিহাস গ্রন্থে। অবশ্য গ্রন্থটিতে ১৯৬৯ সালে প্রকাশিত পন্ডিত ড. রাসমোহন চক্রবর্তী লিখিত ‘মহাপ্রাণ মহেশচন্দ্র ভট্টাচার্য্য’ (প্রথম খন্ড) গ্রন্থটির সরব প্রতিধ্বনি বর্তমান।
➤ রামমালা ছাত্রাবাসের অধ্যক্ষ রাসমোহন চক্রবর্তী মনেপ্রাণে স্বদেশী ছিলেন ফলে আন্দোলনে জড়িত এমন সন্দেহে ৬ মাস রাজবন্দি হিসেবে ঢাকা ও কুমিল্লায় জেল খেটেছেন।
➤কে এই শচীনদেব বর্মণ বা অজয় ভট্টাচার্য্য?
এইসব দুর্লভ তথ্য ইন্দ্র কুমার সিংহ প্রকাশ করে নতুন গবেষণার পথ প্রশস্ত করে দিয়েছেন।৪০-৫০-৬০ এর দশকে সিনেমার গান ও কাহিনী লিখে প্রভূত খ্যাতি অর্জন করেছিলেন কবি ও সাহিত্যিক অজয় ভট্টাচার্য্য। তাঁর অনুজ কবি ও প্রাবন্ধিক সঞ্জয় ভট্টাচার্য্য ১৯৩২ সালে কুমিল্লা থেকে সাড়াজাগানো সাহিত্য কাগজ ‘পূর্ব্বাশা’র প্রকাশক ও সম্পাদক ছিলেন। অজয় ভট্টাচার্য্যরে ঘনিষ্ঠ বন্ধু ছিলেন ত্রিপুরা রাজবংশের সন্তান সঙ্গীতজ্ঞ শচীনদেব বর্মণ, অজয়ের লিখিত অনেক গানের সুর করেছেন আবার গেয়েছেনও। অজয় ভট্টাচার্য্য ও সঞ্জয় ভট্টাচার্য্য উভয়েই ঈশ্বর পাঠশালার ছাত্র ছিলেন। তাঁরা যে এখনো কুমিল্লার গৌরব সেই ইতিহাস পুনরুদ্ধারে সংস্কৃতি গবেষকদের দৃষ্টি আকর্ষণ করেছেন গ্রন্থকার।[ ‘কবি ও গীতিকার অজয়কুমার ভট্টাচার্য্য’ প্রবন্ধ থেকে]
➤মহেশ চন্দ্র ভট্টাচার্য ও মিথ:
১৯৩৫ সালে জনহিতার্থে বিজনা নদীর উপর লোহার ব্রিজ ও কসবা থেকে বিদ্যাকুট পর্যন্ত মহেশ রোড নির্মাণ করেন।
কসবার ডম্বুর মাঝি এক পয়সার জন্য মহেশ চন্দ্র ভট্টাচার্যের ছাতা রেখে দেন।আগরতলার রাজা বিজনা নদীর উপর ব্রিজ নির্মাণের জন্য তাঁর নামে জায়গা লিখে দেন এবং ব্রিজ নির্মাণের অনুমতি দেন।বিজনা নদীর এ ব্রিজের নাম মহেশ ব্রিজ।
➤পরলোক:
১৯৪৪ সালে ভারতের কাশীধামে এ পুণ্যলোক মহাপুরুষ শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন।
@➤তথ্য ঋণ:
[১] -গ্রন্থবর্ষ স্মারক গ্রন্থ ২০০২ , বাংলা একাডেমী, ইন্দু কুমার সিংহ লিখিত “রামমালা গ্রন্থাগারঃ কুমিল্লা” নিবন্ধ থেকে।
[২] মহাপ্রাণ মহেশচন্দ্র ভট্রাচার্য্য।।পন্ডিত ড. রাসমোহন চক্রবর্তী।
ইংরেজী ১৯৬৯ সালে প্রকাশিত।
[৩] শান্ত নূরুননবীর লেখা ‘মহেশাঙ্গন ও রামমালা পাঠাগার’ নিবন্ধ থেকে।দৈনিক প্রথম আলো।
প্রকাশ ১৭ মার্চ ২০১৪ ইং।
[৪] ‘ইমরান মাহফুজের ‘অজানা ইতিহাস নিয়ে দাঁড়িয়ে আছে ‘রামমালা গ্রন্থাগার’ নিবন্ধ।
The Daily Star Bangla
অক্টোবর ১৮, ২০২০
[৫] কর্মযোগী মহেশচন্দ্র ও কুমিল্লা মহেশাঙ্গন।।পন্ডিত ইন্দ্র কুমার সিংহ
প্রচ্ছদ।। ঈশ্বর পাঠশালার প্রাক্তন ছাত্র স্বনামধন্য চিত্রশিল্পী অধ্যাপক সমরজিৎ রায় চৌধুরী।
পৃষ্ঠা সংখ্যা: ২০০
প্রকাশকাল: আগস্ট ২০১১।
☆জাপান প্রবাসী লেখকঃ প্রবীর বিকাশ সরকার,গবেষক ও মাসিক কিশোরচিত্র সম্পাদক।
[৬] যাঁদের জন্য ব্রাহ্মণবাড়িয়া ধন্য।। রেজাউল করিম
[৭] নবীনগরের আলোকিত মানুষের কথা।।সম্পাদনায়: স্বপন মিয়া
প্রকাশনী: নব প্রকাশ।