গারো পাহাড়ের গদ্যে ড. এস এম শাহনূর (পর্ব-৮)

মহেশাঙ্গন পূর্ববঙ্গের শান্তি নিকেতন

১৯৭১ সালের পূর্ববর্তী সময়ে পূর্ববঙ্গের শান্তিনিকেতন খ্যাত কুমিল্লার মহেশাঙ্গন ইতিহাসে আজ বিস্মৃত প্রায়।স্বাধীনতার আগে সমগ্র উপমহাদেশ জুড়ে ৮ একর জমির উপর ১০/১১টি প্রতিষ্ঠানের কমপ্লেক্স মহেশাঙ্গনের সুখ্যাতি ছিল।এখানে রয়েছে এখন ঈশ্বর পাঠশালা, রামমালা গ্রন্থাগার, রামমালা ছাত্রাবাস, নিবেদিতা ছাত্রী নিবাস, নিবেদিতা বালিকা বিদ্যালয়, পুঁথি সংগ্রহশালা, নাটমন্দির, আয়ুর্বেদ ভেষজ গবেষণাগার, হোমিওপ্যাথ স্টোর, সংস্কৃত কলেজ ও ঈশ্বর পাঠশালা ব্যায়ামাগার। এছাড়া আছে একটি পুকুর। একটি ট্রাস্টি বোর্ডের অধীনে সরকারি সাহায্য ছাড়াই পরিচালিত হচ্ছে প্রতিষ্ঠানটি। এটি ছিল উপমহাদেশের রাজনীতি, সংস্কৃতি ও ধর্মচর্চার অবাধ কেন্দ্র। যা দু’বাংলা মিলিয়ে একটিই মাত্র।

➤যে সকল বিখ্যাতরা মহেশাঙ্গনে এসেছিলেন:
কুমিল্লা মহেশাঙ্গনের ইতিহাস সমগ্র বাংলাদেশের ইতিহাসের সাথে নিবিড়ভাবে সম্পৃক্ত। ১৯০৬ সাল থেকে বাংলাদেশ তথা সমগ্র ভারতবর্ষের সকল পরিবর্তনের ইতিহাস মহেশাঙ্গণের সঙ্গে জড়িত।ভারতীয় উপমহাদেশে বিভিন্ন সময় বিভিন্ন ক্ষেত্রে যাঁরা আলোড়ন তুলেছেন এবং পরিবর্তনের ইতিহাস সৃষ্টি করেছেন তাঁদের অধিকাংশই মহেশাঙ্গনে পদার্পণ করেছেন, সভা করেছেন তাঁরা হলেন,
তৎকালীন ভারত বর্ষ ত্রিপুরা রাজ্যের উল্লেখযোগ্য সভা-সমিতি সংগীত সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান,উল্লেখযোগ্য বক্তৃতাসমূহ এখানেই নাকি সম্পাদিত হয়েছিল! এখানে এসেছিলেন -এ. রসুল, নৃপেন বসু, মহাত্মা গান্ধী,সুরেন্দ্রনাথ বন্দোপাধ্যায়, চিত্তরঞ্জন দাশ, রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর,বিপিন পাল, সুভাষচন্দ্র বসু,চিত্তরঞ্জন দাশ,যতীন্দ্র মোহন সেনগুপ্ত, অরবিন্দ ঘোষ, কস্তরীবাই গান্ধী,মৌলভী লিয়াকত হোসেন,রাজা গোপাল আচারিয়া,শ্যামাপ্রসাদ মুখোপাধ্যায়, ড.দীনেশচন্দ্র সেন,সরলাদেবী চৌধুরী,নরেন্দ্রনাথ দেব, ড.নলিনী ভট্টশালী, বিভূতিভূষণ মুখোপাধ্যায়, শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়,শরৎচন্দ্র বসু, ক্ষিতিমোহন সেন,কালীমোহন ঘোষ, কাজী নজরুল ইসলাম ,মহারাজা মহীন্দ্র চন্দ্র নন্দী, সরোজিনী নাইডু,আশ্রাফ উদ্দিন চৌধুরী,ত্রিপুরার মহারাজা মানিক্য বাহাদুর, হেমপ্রভা মজুমদার ,মহেন্দ্রনাথ দাস, ভীম ভবানী, এ.ভি থ্যাককার, প্রাণগোপাল গোস্বামী, রামদাস বাবাজী,ভোলানাথ গিরি,আলোক বাবা,শ্রী আনন্দময়ী মা, ড.নীহার রঞ্জন রায়, সীমান্ত গান্ধী, শশীভূষণ বিদ্যালংকার,ডাব্লিউ এম ক্লার্ক,বিধুশেখর শাস্ত্রী, পারিমোহন ভট্রাচার্য,ড. ধীরেন্দ্রনাথ সেন,ড. সুধীর সেন,আবদুল গাফফার খান, মেঘনাদ সাহা,আইসিএস আলী ব্রাদার্স,মেজর এ সি চ্যাটার্জি,আচার্য এ.বি.কৃপালনি, সুচেতা কৃপালনি, মেঘনাদ সাহা, আনন্দশঙ্কর রায়, হুমায়ুন কবির প্রমুখ।

ফেসবুক দিয়ে আপনার মন্তব্য করুন
Spread the love

You may also like...

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

কপি করার অনুমতি নেই।