কর্ণফুলির গল্প বলা সাপ্তাহিক ধারাবাহিকে সৈয়দ মিজানুর রহমান (পর্ব – ১৮)
by
·
Published
· Updated
অনন্ত – অন্তরা
আমি অলীক স্বপ্নে ভাসিনা, আমার দু’চোখ রঙহীন ফ্যাঁকাসে বাস্তবতার আকাশে জরাজীর্ণ কাটা বিছানো পথে- আমি রূপ দেখিনা, লম্বা বা খাটোও নয়, জীবনে ভালোভাবে বাঁচতে টাকার প্রয়োজন মানি, মেধা, শক্তি , সাহস, ইচ্ছে, মনোযোগ নিষ্ঠার সাথে নৈনিকতার বলয়ে এগোতে পারলে সততাকে পূঁজি করে জীবন চলতে সমস্যা হয় না, তাই আমি ভয় পাইনা, শুধু ভয় পাই একজন পুরুষকে ভালবাসতে কারণ যদি সে মানুষ না হয়ে ওঠে!!
“সবার উপরে মানুষ সত্য তার উপরে নাই
অন্তর্নিহিত নারী-পুরুষ অন্তহীন বীজমন্ত্র
সেতো পরিপূরক একের মধ্যে দুইয়ের”
এখানে যে যার অবস্থানে সে-ই অদ্বিতীয়, খাটো করে দেখার কোন সুযোগ নেই ।আমি বলবো পুরুষ তো বেঁচে আছে নারীত্বে- নারীর ভালোবাসা বিহীন পুরুষ–
মানুষ হয় কিভাবে? সেই নারীকে অসম্মান, নির্যাতন, পাশবিক অত্যাচার, বয়স মানে না ধর্ষণে!! নৈতিকশিক্ষা আমলে না নেওয়ার কারণে মানসিক অবস্থা কদাকার “ মানুষ মানুষের জন্য” গানের কলিটি হারিয়ে যাচ্ছে দিনদিন মানবতার নামে যতসব বাণিজ্যে !! সমাজ বা সরকার প্রতিরোধে ব্যর্থ – সামাজিক বিপ্লব ছাড়া এখন আর কোন পথ খোলা নেই- তখনই কেবল আইন তার সঠিক ব্যবস্থা নিতে পারবে যখন বিপ্লপ সফল হবে ।
কথাগুলি বেশ গুরুত্বপূর্ণ, বিড়ালের গলায় ঘন্টি বাঁধার লোকের বড় অভাব, এতো ভারী ভারী কথা আর ভালো লাগে না , বাদ দিন না এইসব কথা অন্য কথা থাকলে বলুন ।
আজ ভরা পূর্ণিমা জানে তো?
না জানিনা তো ! চাঁদকে ঘিরে চেড়া মেঘের কী দুর্দান্ত আনাগোনা! চাঁদকে ভালোবাসবে তাই এতো চাওয়া!
হা হা হা – বেশ বলেছেন! তার আগে বলুন তো আপনি এখন কোথায়? কিভাবে দেখছেন এই মোহিত দৃশ্য?
আরে বাবা আমি এখন ছাঁদে- ভরা পূর্ণিমায় কী করে ঘরে থাকি বলুন? ঐ চাঁদ যে আমার সখী, সহচর- কতকথা বলি ।
এতক্ষণে একটি জায়গায় মিল খুঁজে পেলাম, আচ্ছা আপনি গান গাইতে পারেন?
তাই বুঝি – তাহলে খুঁজে পেয়ে গেলেন একটি দুর্বল জায়গা – এখন কী করবেন শুনি? হ্যাঁ একটু একটু গুনগুন করতে পারি, কেমন বলুনতো ?
হ্যাঁ পেয়েছি – আপনার দুর্বলতা আমাকে আরো বেশী নমনীয় করে তোলে- আজ একটি নদীর আবিষ্কার করলাম, যে নদী নারীর মতো – নারী ও নদীর মতো কথা কয় । গান যখন জানেন সে জানায় আমি ভীষণ পুলকিত ।
কী ভীষণ কথা ! বাক রুদ্ধ হয়ে আসে শুধু ভেতরটা খিলখিল হাসে, আচ্ছা কেন এতো পুলকিত হলেন?
“চাঁদনী রাতে যাব ছাঁদে প্রেয়সীর হাত ধরে
বিছিয়ে পাটি হারমনিয়ামে ধরবে গান সুরে
সুরে ঐ ভরা পূর্ণিমা রাতে । হারিয়ে যাব সে
সুরের মূর্ছনায় অবাক নয়নে রবো চেয়ে প্রেয়সীর
মুখাবয়বে । চাঁদকে বলবো, তোমাকে বলেছি
যার কথা সে মোর বাহু ডোরে, আর কষ্ট দেবনা
জ্যোৎস্না বিলিয়ে তুমি যাও নীরবে ঘুমিয়ে ।
আমি থাকি প্রেয়সীর আঁচলতলে অঘোম মায়ায়
প্রেম জুড়ে ।”