কর্ণফুলির গল্প বলা সাপ্তাহিক ধারাবাহিকে এস মিঞা ওমরান (পর্ব – ৪)

মাছ

কি আজগর আলী ভাই কতদিন হল তোমাকে দেখি নাই। কোথাও গেছ নাকি?
না..কোথাও যাইনি।আসলে ঘরের কাজ নিয়ে খুব ব্যস্ত ছিলাম। বন্যার সময় ঘরের অনেক ক্ষতি হয়।তাই এদিকে আসতে পারিনাই।
দাও,আগে এক কাপ চা এবং একটা রুটি দাও।
আমিত অবাক! যে আজগর আলী ভাই দোকানে একবার না আসলে তার পেটের অন্ন হজম হয় না। আর সে আজগর আলী ভাই এতদিন দোকানে আসে না। আর চায়ের কাপে চামচ চালাচ্ছে। তার টুং-টুং শব্দে পুরো দোকান মুখরিত হয়ে উঠে।
তারপর চায়ের কাপে চুমু খেতে খেতে আজগর আলী একটি কথার জলসা উঠা।ঘরের কাজ শেষ হওয়ার পর একটা ঘটনা ঘটলো। এ কথা বলে আবার চায়ের কাপে চুমু খায়।
তোমার ভাবীসাবকে বললাম চল ঘরে ঢুকে যায়। কিন্তু তার কথা হল আগে মিলাদ শরীফ পড়তে হবে।
তারপর ঘরে। তা নাহলে ভূত-পেত্নী ঘর আছর করতে পারে। তার জন্যে দুই মসজিদের দুজন হুজুরকে দাওয়াত করলাম। মিলাদ পড়িতেছি। ইয়া নবী সালামাইকা বলে হঠাৎ একজন হুজুর দাঁড়িয়ে গেলেন। আরেক জন দাঁড়ালেন না।উল্টো দিলেন বাধা। উনার কথা হল এটা বেদাতি কাজ। কোথাও জায়েজ নাই। এ নিয়ে চলে দুজনের মধ্যে বাকবিতন্ডা। একজন আরেকজনকে হাদিস মসলা দিয়ে বুঝাতে চেষ্টা করে। কেউ কারো বুঝ্ মানতে রাজি না।এক পর্যায়ে হাতাহাতির উপক্রম। আমি বাজার থেকে জিলাপি এনেছিলাম মিলাদ শেষে সবাইকে দিব।আমার সবকিছু ব্যস্তে গেল।
বসা আর দাঁড়ানো মধ্যে তফাৎ কি?
দোকানের ভেতর থেকে এক অল্প বয়সী আগন্তুক ব্যক্তি জিজ্ঞেস করল। তখন আজগর আলী বিস্তারিত বলতে লাগলো। যখন মিলাদ শরীফ পড়ানো হয়, তখন নবীজি গায়েবিভাবে এসে উপস্থিত হন।কিন্তু আরেক জন ঈমাম সাহেবের কথা হল নবীজি গায়েবি জানে না। এক মাত্র আল্লাহ ছাড়া। এ নিয়ে দুই জনের মধ্যে দ্বন্দ্ব বেধে।
আচ্ছা যাক।
মুন্সি আমার বাকী খাতাটা দেখ।কত টাকা দেনা আছি তোমার। আর আজকের খরচসহ মোট কত হল।শোধ করে দিয়ে যাই।আবার দেখা নাও হতে পারে। কারণ দুই -তিন দিনের মধ্যে ইটের ভাটায় চলে যাওয়া লাগবে। ইচ্ছে ছিল আর যাব না।শরীরে আর সয়ে না।তা আর হল না।মুন্সিকে দুঃখের গল্প শুনায়। তারপর বসা হতে উঠে দাঁড়ালো।
মুন্সি আমার বাড়ির দিকে দৃষ্টি রেখ।কখন কি লাগে, আমি তোমার কথা বলে যাব।
তার পুরো নাম হল কাসেম মুন্সি। সবাই তাকে সংক্ষেপে মুন্সি বলে ডাকে। আসলে তার তেমন প্রাতিষ্ঠানিক ধর্মীয় শিক্ষা নেই।এক, দুই জামাত লেখাপড়া করেছে। এক সময় এলাকার সকল অপকর্মের সাথে জড়িত ছিল। এমনকি নারী ঘটিত ঘটনাও অনেক ঘটেছিল তার জীবনে।এখন বয়সের একটা পর্যায়ে এসে মুখে আধো কাঁচাপাকা দাড়ি। মাঝে মধ্যে এক, দুই ওয়াক্ত নামাজ পড়ে। দূরের কেউ তাকে দেখলে বিশ্বাস করবে না। অতীত জীবনে সে এত কুকর্মে লিপ্ত ছিল।
সন্ধ্যা হল।
ট্রাক আসছে ইটের ভাটায় লোক নেওয়ার জন্য। ইটের ভাটায় সাধারণত ট্রাকে করে লেবার নেওয়া হয়।তাদের সাথে শুরু হতে শেষ পর্যন্ত পশুর মত আচরণ করে থাকে ভাটার মাঝিরা। তাদের কোন কথা চলে না সেখানে। কারণ তারা টাকার বিনিময়ে বিক্রি হয়ে গেছে। মধ্যযুগীয় গোলামির ন্যায়।
কেউ ত্রিশ হাজার।
কেউ চল্লিশ হাজার।
আবার কেউ পঞ্চাশ হাজার টাকা । এভাবে বিভিন্ন কর্মের জন্য বিভিন্ন লেবার বিক্রি হয়ে থাকে।
গ্রামের হত দরিদ্র মানুষগুলো বর্ষাকালে যখন হাত গুটিয়ে বসে থাকে। যখন আয়ের কোন উৎস নেই। স্ত্রী ,ছেলেমেয়ে নিয়ে চরম বিপাকে পড়ে। তখন এসব মানুষগুলো মাঝিদের নিকট ধরা দিতে হয়।হাত পারতে হয় টাকার জন্য। তা-না হলে যে,গৃহে সন্ধ্যা প্রদীপ জ্বলবে না।পেটে দানাপানি জুটবে না।
সবাই চলে আসছে। কিন্তু আজগর আলী এখন আসে নাই। তার জন্য সকলের অপেক্ষা। মাঝি তার জন্য বাড়িতে লোক পাঠায়।কিন্তু সে বাড়িতে নাই। তার স্ত্রী খোঁজ করতে করতে তাকে দোকানে পায়।যখন তাকে যাওয়ার জন্য বলা হয়। তখন সে বলে, কথাত ছিল আরো দুদিন পরে যাবে।
তখন তার স্ত্রী উপহাস্য করে বলে। আমরা গরীব মানুষ।
যখন মাঝির টাকা গিলেছি, তখন আজ আর কাল বলে কি হবে। যেতে ত হবে। এ কথা বলে তার হাতে একটা পুটলি ধরে দে।
পুটলির ভেতর কি কি দিয়েছ? আজগর আলী জিজ্ঞেস করে।
একটা কাঁথা।
একটা বালিশ আর জামা কাপড় বেঁধে দিয়েছি।
আচ্ছা ঠিক আছে। বাড়ির দিকে নেমে যা।আর বালার দিকে খেয়াল রাখিস। একবারের জন্য তাকে সতর্ক করে দে।এ কথা বলে কোমর হতে বিড়ির প্যাকেটা বাহির করল।
ট্রাকে উঠার পর আজগর আলী একটা ছেলেকে দেখতে পায়।পনের-ষোল বছর হবে। এক কোণে চুপচাপ বসে আছে। কারো সাথে কোন কথা নেই। সারাক্ষণ কি যেন ভাবতেছে।চোখে মুখে তারই প্রতিচ্ছবি। আজগর আলী জিজ্ঞেস করবে করবে বলে জিজ্ঞেস করা হইতেছে না।কারণ সবাই বিভিন্ন কথার জলসা নিয়ে ব্যস্ত।কে শুনে কার কথা। যখনি কথার ছেদ পড়লো এ সুযোগে সে একজনকে জিজ্ঞেস করল।
হাফিজ..ও হাফিজ।
উুঁ। সে জবাব দিল।কি?
বল।
ছেলেটা কে?তাকে ত চিনলাম না।
ও আমাদের আবুলের ছেলে। আবুলের কথা শোনামাত্র সে একটা দীর্ঘশ্বাস ছাড়ল। আহারে; আবুলের জন্য খুব দুঃখ হয়।গতবার ইটের ভাটায় হতে জ্বর নিয়ে বাড়ি ফিরছিলো। চিকিৎসার অভাবে পরে খারাপের দিকে চলে যায়। এখন এক পা, এক হাত চিরদিনের জন্য অচল হয়ে যায়। সারাক্ষণ শুয়ে বসে দিন পার করে। অথচ আবুল আমাদের চেয়ে কি সুস্থ সবল ছিল। আর আজ ভারী কাজ করা তার জন্য অসম্ভব। সে আমাকে অনেকবার বলেছিল। তার খুব জ্বর অনুভব হচ্ছে চামড়ার নিচে। ভাসমান হচ্ছে না।আমি বলছিলাম মাঝিকে বলে দুইদিন বাড়িতে বিশ্রাম নিয়ে আস আর ভালো করে ডাক্তার দেখাও।পরে বলছে কিনা জানিনা। তারপর হাতে ধরানো বিড়িতে একটান দিল।একরাশ ধোঁয়া ছাড়তে ছাড়তে বলে।
তো,এখন কি ছেলেটা যাবে?
না গিয়ে কি, কোন উপায় আছে।হাফিজ বলল। সংসারে অভাব-অনটন। অসচ্ছল, রোগা-সোগা পিতা ঘরে। ছেলেটি পরিবারের এখন একমাত্র আয়ের উৎস। তাছাড়া আবার মাঝির কুপরামর্শে পড়ে বিয়ে করিয়ে দিয়েছে। নব যৌবনের উচ্ছ্বাসে ছেলেটাও বিয়ের জন্য খুব উত্ত্যত করতে থাকে। বিয়ের সকল খরচ মাঝি বহন করে। এখন ইটের ভাটায় কাজ করে সকল টাকা শোধ করতে হবে।
তাহের মাঝি হল খুব চালাক প্রকৃতির লোক। মাঝিদের মধ্যে সে সবচেয়ে বেশি সফল। কারণ সবাই রাখে একটা ইটখোলা। আর সে রাখে একাধিক ইটখোলা। এ মাঝিগিরি করে এলাকাতে অনেক জাগায় জমির মালিক হয়েছে এ কয়েক বছরে। একসময় সে-ও লেবার ছিল। ইটের ভাটায় কাজ করত। পরে আস্তে আস্তে মাঝিগিরি শুরু করে।
আজগর আলী জিজ্ঞেস করে হাফিজকে।আবুলের ছেলে কোন্ কাজে যাচ্ছে?
ও…খড়মার কাজ করবে।
ইটের ভাটায় বিভিন্ন জনকে বিভিন্ন কাজ করতে হয়। প্রথমতঃ শুকনো মৌসুমে মাটি এনে জমানো হয়।একেকটা টিবির উঁচু কমপক্ষে সত্তর হতে আশি মিটার হবে। এভাবে প্রায় তিন থেকে চারটি টিবি করে। আর যখন কাজ শুরু হয় তখন দুজন এ টিবি হতে মাটি কেটে দেয়। অন্য দুজন এ মাটি নিয়ে আসে যিনি গাওরার কাজ করে। অথ্যাৎ যিনি এ মাটি গাওরার মেশিনের ভেতর দিয়ে রুটি বানানো খামির মত তৈরী করে দেন।তারপর এক থেকে দুজন এ খামি খড়মাওয়ালাদের নিকট দিয়ে আসে।তারা সারি সারি ইট বানাতে থাকে। তারপর এ কাঁচা ইটগুলো কয়েক দিন রোদে শুকানোর পরে একসাথে কয়েক হাজার ইটের ভাটায় দিয়ে পোড়ানো হয়।
নানাবিধ আলোচনা করতে করতে তারা ইটখোলায় পৌঁছে যায়। তখন রাতের প্রায় দ্বি পহর। পশ্চিম আকাশের চাঁদটা শির বরাবর। কিছুক্ষণের মধ্যে পুবাকাশে হেলে পড়বে। সবাই ঘুমানোর জন্য তাড়াহুড়ো শুরু করল।কারণ কাল ভোর হতে কাজ শুরু করতে হবে। সবাই আগে ভালো ঘরগুলো দখল করছে। লেবারদের থাকার জন্য ইটখোলায় অস্থায়ী ঘর বানানো হয়।যে মাঝির লেবাররা আগে আসে তারা তাদের মত করে ঘর দখল করে। তাহের মাঝি লেবার দেরিতে আসায় তাদের জুটলো ভাটার দক্ষিণে একটা দূর্বল ঘর।যে যার মত বিছানা পাতিয়ে শুয়ে পড়ে। কিন্তু আজগর আলী ঘুম আসে না জায়গা বদল করায়। আধো ঘুম আধো জাগে এভাবে সে রাত পার করে। তখন ধলপহর। রাতের আকাশে ঈষৎ আলোর ঝলকানি দেখা যায়। বিভিন্ন মসজিদ হতে মানুষ জাগানো গজলের সুর বেসে আসে। সে সবাইকে ঘুম থেকে জাগাতে শুরু করে। সকলে হাতমুখ ধুয়ে যে যার যার কাজ লেগে পড়ে। আজগর আলী এবং হাফিজ তারা দুইজন মাটি কাঁটার কাজ করে। হাফিজ প্রতি ধমে ধমে মাটিতে কোদাল চালায়।সে যখন কোন কাজ শুরু করে তখন তাতে আর কার্পণ্য করে না।একজন তাকে ডাক দে।
ও হাফিজ ভাই। এবার একটু ধম নাও।যেভাবে কাজ শুরু করেছ মনে হয় সব একদিনে করে ফেলবে। সবেমাত্র কাজ আরম্ভ। এভাবে তোমাকে এখনে ছয়মাস করতে হবে। এখন আস সকালের নাস্তা বিরতি হয়েছে। যদিও বলা হয় নাস্তা কথা কিন্তু খাওয়া হয় মূলত ভাত।
আগামী এক দুই দিনের মধ্যে ইটের ভাটায় আগুন দেওয়া হবে। তাই সকাল হতে লেবারেরা রাশি রাশি ইট ভাটার ভেতর ঢোকাচ্ছে। আর কয়েকজন তা সাজিয়ে বসাচ্ছে। আর হৈ-হুল্লোড় করছে।এক স্বর গরম পরিবেশের সৃষ্টি হয়েছে। আরেক জন ভাটার ভিতর থেকে তাড়া দে।
হুঁ…উ কই।
জলদি জলদি ইট আন।বিকালের মধ্যে শেষ করতে হবে।
যখন ইট পোড়ানো হয়।তখন ইটের ভাটায় হতে কাঁচা মাটি পোড়ানোর এক অদ্ভুত গন্ধ বের হয়।বাতাসের মাধ্যমে তা নাকে ঢুকে যায়। আজগর আলী এ গন্ধ সহ্য করতে পারে না।তার কাছে মানুষের দেহ পোড়া গন্ধের মতো মনে হয়। তখনি তার মনে পড়ে যায় দোজখের কথা। ধর্মে শুনেছে মানুষ পাপ করলে এভাবে পোড়ানো হবে। সঙ্গে সঙ্গে সে পূর্বের গুনাহ স্মরণ করে তওবা এস্তেগফার পড়তে থাকে। আল্লা যেন মাপ করে দে।
সন্ধ্যা হল। অনন্যা মাঝির লেবাররা কাজ শেষ করে গা গোসল করে পরিস্কার। কিন্তু তাহের মাঝির লেবাররা এখন কাজ করে। কারণ তাদের প্রতিদিনের নির্ধারিত ইট বানানো এখন শেষ হয়নি।
কেরানি এসে প্রতিদিনের হিসাব নিয়ে গেছে। তাহের মাঝি গেছে অন্য ভাটায়।এবার সে একসাথে দুটা ইটখোলা রেখেছে। তাই সময় ভাগ করে দুই জাগায় দিতে হয়। এক সপ্তাহ এখানে থাকলে, পরের সপ্তাহ অন্য ভাটায় দিতে হয়। সে না থাকলে লেবাররা কাজে অলসতা করে। আবুলের ছেলে গোসল সেরে পুরো শরীরে তেল মেখে বাহির হয়েছে। গুমোট আঁধারেও কেমন চিকচিক করে তার চেহারা। অন্যদিকে আজগর আলী গোসলের পর আগুন পোহাচ্ছে। তিন চারটি পোশাক গায়ে দিয়েছে তার উপর দিয়ে আবার চাদর তবুও তার শীত ছাড়ছে না।আর হাফিজ, ইউনুস এবং জাফর তারা রাতের খাবার শেষ করে বসছে জুয়া খেলার জন্য। দুই চারজন বসে বসে তাদের খেলা দেখছে। মাঝে মাঝে দেখিয়ে দিচ্ছে যার পাশ দিয়ে বসে। কার্ড বিতরণের পরে একজন তাড়া করে।
অ্যাঁ,হাফিজ ভাই call কর।
আমি সতের।
ইউনুস ঊনিশ call করে।
জাফর আর আরেকটি জন তারা দুইজন নাই বলে। ইউনুস গোপনে একটা কার্ড নিয়ে জোকার নির্বাচন করে। প্রথমে টেক্কা খেলে সে ফিট্ নিয়ে নে।দ্বিতীয় ফিটে্ সে সাব্ খেলে। তার উপর হাফিজ তুরুক খেলে,জাফর খেলে রুইতন। তখনি খেলা মরে যায়। ইউনুস আর হাফিজ তারা দুইজন সহযোগী। তাদের মধ্যে হালকা বাকবিতন্ডা শুরু হয়। কেন তুমি তুরুক করলে। একজন আরেক জনকে দোষারাপ করে আর গোঁৎ গোঁৎ করে বিড়ি টান দে।মাটি দিয়ে একটা ছাইদানি বানিয়েছে। তার মধ্যে বিড়ির ছাই আর শেষাংশ ভরে গেছে।
এভাবে কখন ঝগড়া।
কখন দোষারপ আর খেলতে খেলতে কখন যে রাত ফুরিয়ে যায় তার খবর রাখে না।কাজে যোগ দেওয়ার আগ দিয়ে একটু ঘুমিয়ে নে।আজ হাফিজের মন মেজাজ খুব খারাপ। প্রচন্ড ঊষ্ণ। কোন কথা তখন সহ্য হয় না।তাই গাওরা ওয়ালার সাথে সকাল সকাল একধাপ ঝগড়া হয়ে যায়। আজগর আলীর মধ্যস্থতায় তা মিমাংসা হয়। গাওরা ওয়ালাকে অনেক বুঝিয়ে -সুঝিয়ে সে ফিরিয়ে দে।তবুও দূর হইতে একজন আরেকজনকে খোঁচা মেরে কথা ছুড়ে দে।
কি হাফিজ ঝগড়া কর কেন?
দেখুন না,আজগর আলী ভাই আপনেত ছিলেন না।এর মধ্যে মাটি নিতে একটু দেরি হওয়াতে সে গরম হয়ে যায়। আমরা নাকি কাজে ফাঁকি দিই।
কাজ চুরি করি।
যাক, সেটা আল্লাই দেখতেছে।কাজ করি না চুরি করি। ঝগড়াঝাটি বাদ দাও।আজগর আলী তাকে শান্তনা দেওয়ার চেষ্টা করে। তারপর যখন পরিবেশ শান্ত হ তখন আজগর আলী তাকে আস্তে আস্তে জিজ্ঞেস করে। গতরাতে কত টাকা হারাইয়াছ।
হবে হাজার তিনেক চারেক।
এভাবে কতজনের পরিশ্রম আর হাত ঘুরে সৃষ্টি হয় একটি ইট।
একটি স্বপ্ন।
তারপর এ ইটগুলো চলে যায় দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে। গড়ে ওঠে বিভিন্ন শিল্পকারখানা আর বিলাসবহুল লীলা বাটি। অথচ যে তৈরি করে তার মাথা গোঁজার আশ্রয় নেই। আবার আছেত একেবারে জীর্ণশীর্ণ অবস্থা। বর্ষার পানি পড়ে। গ্রীষ্মের রোদ পড়ে ঘরের ছাল ছিঁড়ে। তবু আপন মনে তৈরি করে যায় নির্লিপ্তভাবে।
ফেসবুক দিয়ে আপনার মন্তব্য করুন
Spread the love

You may also like...

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

কপি করার অনুমতি নেই।