কবিতায় শুভদীপ মাইতি

বৃষ্টি যদি কোনদিন জীবাশ্ম হয়ে যায়
তুমুল বৃষ্টিতে যখন ঘুমিয়ে আছে উপকূল, দু’পাশে ঢেউয়ের মত পাড় ভাঙছে জল।
এখানে মৃত গাছেদের সারি। শেকড়ের টান দিয়ে ধরে আছে মাটি ও আভূমি
পড়ে থাকা শাঁখের আবরণে আত্মগোপন কাঁকড়া শাবক অথবা ক্ষুদ্র প্রাণের
এমন বর্ষণমুখর দিনে শীতল নোনা হাওয়ায় আরও বেশি গাঢ় হচ্ছে তন্দ্রা
মানতের থান জুড়ে ছড়িয়ে আছে তরাট ফুলেদের দেহ। আহত বৃষ্টির ফোঁটায় ছিটকে যাচ্ছে সে ও তাহারা। হরিদ্রাভ বাগান জুড়ে এতো যে বিষাদ, আমি তার হাত ধরে হাঁটি, গল্প শোনাই প্রবাসী অসুখের। অসুখ নিয়ে চলে যায় নিরাময় ঘাস ফড়িংয়ের উড়ান। অকস্মাৎ ঢেউ ভেঙে এগিয়ে আসে ছই নৌকো। আমাদের প্রান্তিক গ্রামে গড়িয়ে নামে বিকেল।
অতঃপর ডেকে ওঠে ঝিঁঝিঁদের পাড়া। একে একে ভেঙে যায় মুখোশের আড়াল
পায়ের শব্দরা হারিয়ে গেলে বৃষ্টি যদি কোনদিন জীবাশ্ম হয়ে যায়,
এই বুকে তুমি খুঁজে নিয়ো এক অশ্বঘোটক বৃষ্টি হতে চেয়ে
শুধু তোমাকেই চেয়েছিল মানতের উঠোনে।