সাপ্তাহিক ধারাবাহিক উপন্যাসে সোনালি (পর্ব – ২৫)

রেকারিং ডেসিমাল
ছাদের ট্যাংকের গায়ে কল। দু ধাপ সিঁড়ি দিয়ে নেমে সেইখান থেকেই ঠাকুরের জল নেওয়া, বাসন ধোয়া ইত্যাদি। লক্ষ্মী পুজোর পরের দিন সকালে ছেলেরা অফিসে যাওয়ার পর সারা বাড়ি ঝিমোচ্ছে। নতুন বউয়ের শুতে বসতে হাঁফ ধরে। ভিতরে ছ মাস বয়সের ছোট কেউ সারা দিন ফুটবল খেলা চালিয়ে যাচ্ছিল। তবু নিজের খাটে কাত হয়ে শুয়ে গল্পের বই পড়ার চেষ্টা চালায় সে। দিদা দাদূর ঘরে গায়ত্রীদি সকালের খাবার দিয়ে বকবক করে চলেছে। হঠাৎ ধুপ করে আওয়াজ মাথার ওপরে।
উঠে বসে বউমা। কি হল রে ?
বারান্দার শুরুতেই কাকিদের ঘর। সামনে দিয়ে ছাদে যাবার সিঁড়ি। সেজ কাকু ও বেরিয়ে এসেছেন ঘর থেকে আওয়াজ পেয়ে।
একটা গলা পাওয়া যাচ্ছে যেন ছাদের থেকে?
সবাই, কি হল, কি হল করতে করতে সিঁড়ি বেয়ে দৌড় দিল ছাদের দিকে। নতুন বউ একটু আস্তে ওঠে। গাইনি ডিপার্টমেন্টে দু বছর হাউসসার্জন হয়ে কাজ করে এসেছে। গায়নোকোলজিস্ট হবারই স্বপ্ন এখনো। সিঁড়ি ভাঙতে তাই তার বিশেষ সাবধানতা। ওপরে গিয়ে সবার চক্ষু ছানাবড়া। বাড়ির বড় বউ, ডাক্তারের শ্বাশুড়িমা, কলতলায় পড়ে রয়েছেন ঠাকুরের বাসনদের সঙ্গে।
হাউ মাউ খাউ শুনে কাকুই দৌড়ে গেলেন তুলতে । তিনি ব্যায়াম বীর মানুষ। যিনি পড়ে গেছেন তাঁর ওজন একশো ছাপিয়ে। ব্যায়াম করা লোক না হলে তাঁকে তোলা যে সে লোকের কর্ম নয়।
কাঁদতে কাঁদতে শ্বাশুড়ি জানালেন গত কালকের লক্ষ্মী পুজোর বাসনগুলো পরিষ্কার করতে এসেই পা স্লিপ করে গিয়েছে জলে।
কোন মতে সবাই মিলে ধরাধরি করে এনে দোতলায় শোবার ঘরের খাটে বসানো হল।
বউমা চটপট ফোন করলেন অফিসে শ্বাশুড়ির পুত্রকে।
— শিগগিরী এস। মাকে ইইডিএফে নিয়ে যেতে হবে। এক্সরে লিখে দিচ্ছি আমার প্রেসক্রিপশন প্যাডে।