T3 || আমার উমা || বিশেষ সংখ্যায় সুনৃতা মাইতি

দুর্গাই সহায়

 

দৃশ্য ১

ভূমিকা- শরতকালের একটি মনোরম সন্ধ্যায় দেবলোকের ইন্দ্রপুরে দেবরাজ অপ্সরী উর্বশীর নৃত্য অবলোকন করছিলেন।

(দেবরাজ ইন্দ্র সিংহাসনে হেলান দিয়ে বসে অন্যমনস্ক ভাবে কি যেন চিন্তা করছিলেন ও মাঝে মাঝে মোবাইল দেখছিলেন। উর্বশী তার নাচ চালিয়ে যাচ্ছিল…)

উর্বশী নাচছিল ,”দুম তানা নানা না না…বাজে গো বিনা…আ আ.”.এই গানটির সাথে । তারপর হঠাৎ থেমে গিয়ে…

উর্বশী- আমার আর ভাল্লাগছে না। কয়েক কল্প ধরে এইসব আদ্যিকালের রদ্দি নাচ নাচতে নাচতে আমার বোরডমের হদ হয়ে গেছে। আর পারছি ন‍া। এখন পরিবর্তন চাই। মনসাদি যাকে বলেন… পরিবত্তন…পরিবত্তন….অ্যাই কে আছিস… গন্ধর্ব নাকি কিন্নর!…কে আছিস…ডিজে অব স্বর্গ … মিউজিক সিস্টেমে রকি – রাণী ঝুমকা চালা তো…আজ উর্বশী দিল খোলকে নাচেগা….

পেছন ঝুমকা…ঝুমকা গান চলতে শুরু করে আর উর্বশী নাচতে শুরু করে। বেশ কিছুক্ষণ নাচ চলার পর…

ইন্দ্র – ( থামানোর চেষ্টা চালাচ্ছেন…কিন্তু কেউ শুনছে না…মিউজিক চলছে . উর্বশী নেচে চলেছে…. বাধ্য হয়ে ইন্দ্র সিংহাসন থেকে নেমে এসে…)

এই থামো.. থামাও বলছি…বন্ধ করো এই নৃত্য… থামো.. ইয়ে অপ্সরা উর্বশী….কি যেন বলছিলে? পরিবর্তন? পরিবত্তন? বটে …বটে …ভাবতে হচ্ছে …সিরিয়াসলি ভাবতে হচ্ছে …ভাবা প্রাকটিস করতে হচ্ছে …

এমন সময়ে নারদের আগমন…

নারদ- নারায়ন! নারায়ন! কি হলো দেবরাজ ইন্দ্র? অমন সুন্দর ঝুমকা – নাচ থেমে গেলো কেন?

ইন্দ্র – এই এলেন চলতা ফিরতা টুইটার।

(গলা একটু ঝেড়ে)

সেটা জেনে আপনার কি হবে দেবর্ষি? আই…কে আছিস আমার পারিজাত ব্রান্ডের ল্যাপটপটা নিয়ে আয় তো। আসন্ন স্বর্গ অধিবেশনের ব্লু প্রিন্টটাতে একটা ভাইটাল অ্যাডিশন করবো। এই পবনদেব আছো কোথায় তুমি? আমার সোস্যাল মিডিয়া ম্যানেজার। পরিবর্তন চাই…পরিবর্তন….

নারদ- কি পরিবর্তন দেবরাজ? একটু যদি খুলে বলেন…

ইন্দ্র – আপনার সব কিছু অত বিস্তারিত ভাবে জানার কি দরকার দেবর্ষি নারদ? লাগানি- ভাঙানির বাইরে এসে জগৎ হিতার্থে কিছু ভাবুন।

(ইতোমধ্যে পবনদেবের আগমন ত্বরিত গতিতে)

নারদ- হেঁ হেঁ! দেবরাজ! জগতের জন্য ভেবে ভেবে আপনার অত চওড়া ছাতি তো শুকিয়ে আমসি হয়ে গেল । কত ভাবেন আপনি! শুয়ে শুয়ে ভাবেন, নাচ দেখতে দেখতে ভাবেন,গান শুনতে শুনতে ভাবেন, পাতালস্তানের নিউজ পড়তে পড়তে ভাবেন…হে …হে…

ইন্দ্র – ( প্রভূত খচে গিয়ে) এই যান তো …এক্ষুনি যান তো আপনি..কৈলাশ , বৈকুন্ঠপুর সহ দেবলোকের সর্বত্র এমনকি পাতালস্তানে পর্যন্ত গিয়ে আগামী স্বর্গ অধিবেশনের নিউজটি সার্কুলেট করে আসুন তো। যেটা ভালো পারেন সেটাই করুন দেবর্ষি নারদ…সারকাজম আপনাকে মানায় না।

নারদ- নারায়ন! নারায়ন! আজ্ঞে দেবরাজ…

পবনদেব- হোল্ড অন। আমি এসে গেছি।কিং অব স্বর্গলোকের অফিসিয়াল স্যোসাল মিডিয়া হ্যান্ডলিং ম্যানেজার। আপনাকে আর বেশি বেগ পেতে হবেনা। ওই মোটামুটি ব্রিফ করলেই হবে। আমি ইন্দ্রলোকের অফিসিয়াল ওয়েবসাইটে নিউজটা দিয়ে দিচ্ছি, স্বর্গফেসবুক আর স্বর্গগ্রামেও একটা লাইভ আপডেট দিয়ে দিচ্ছি৷ ডেট ফেট , ভেনু আর টাইম সব দেওয়া থাকবে। আমি হাওয়ার বেগে সবাইকে পার্সোনাল মেইল করে দিচ্ছি৷ আপনি বাকিটা দেখে নিন। ওই হাত কচলে কচলে রিকুয়েস্টের ব্যাপারটা আর কি। আর শুনুন শিবুদার বাড়িতে অবশ্যই সবার আগে যাবেন। অধিবেশনে ওঁর বাড়ির সবাই যেন অতি অবশ্যই আসেন। দে আর ভেরি ইম্পর্ট্যান্ট।

ইন্দ্র – ঠিক ঠিক। যানগে ।আপনার বৈষ্ণববিনয় দিয়ে দুগ্গাদেবীর মেজাজের শক্ত চিঁড়ে ভেজান গে। যান।

পবনদেব- (ল্যাপটপে খুট খুট করতে করতে)… আর জল -জংগলের দেবী মনসাকে স্পেশাল ইনভিটেশন না দিলে মুশকিল। পুরো কেস জন্ডিস হয়ে যাবে। কৈলাশ থেকেই ওখানে যাবেন মনে করে। বাকি রইল ব্রক্ষ্মলোক , যমলোক আর বৈকুন্ঠ। ওগুলো তারপর একে একে করবেন।

(মনসার উল্লেখ শুনে ইন্দ্র মুখ ভ্যাটকালেন)

নারদ- আজ্ঞে, গন্ধর্ব আর কিন্নরলোকে যাবোনা?

ইন্দ্র – ( ঘাবড়ে গিয়ে) ক্ষেপেছেন! অধিবেশনে এলেই তারা গন্ধর্বল্যান্ড আর কিন্নরস্তান নিয়ে বখেরা খাড়া করবে। আর…আর অপ্সরীদের তো ডাকবেনই না। এলেই হ্যাশট্যাগ মি টু করে আমার পেছনে পরে যাবে। পাতালস্তানেও যাবেন কিনা ভাবুন, গেলেই আপনার বীণা কেড়ে নিয়ে টিঁকি ধরে নাচাবে…

দৃশ্য ২

কৈলাশ

নারদ- নারায়ণ ! নারায়ণ! দুগ্গা গিন্নী বাপের বাড়ি যাবেন বলে শিবুদা নন্দী ভৃঙ্গী নিয়ে জব্বর প্ল্যান পোগ্রাম করে নিয়েছেন হবে। সারাদিন আর সারারাত এখন পার্টি চলবে। জিও কাক্কা! একদিন ঢুঁ মারব সময় সুযোগ করে। কৈলাশের মহাপ্রসাদ বলে কতা! নারায়ণ ! নারায়ন! যাকগে শিবুদার বাড়ির কলিং বেলটা টিপি। ইয়ে…শিবুদা বাড়ি আছেন? দুগ্গামা বাড়ি আছেন?

(দুগ্গার বৈঠকখানা। সরস্বতী টেবিলের সামনে ল্যাপটপ খুলে বসে আছে। তার টেবিলে এক দিস্তে বই রাখা। লক্ষী মোবাইল নিয়ে কেরদানি মারছে। কার্তিক একটা ট্যাব নিয়ে খুব মনিযোগ সহকারে দেখছে। আর গণেশ প্লেটে করে কি একটা সাঁটাচ্ছে।)

দুগ্গা- ( দরজা খুলে বিরক্ত মুখে)- আবার আপনি? জানেন না এখন আমি বাপের বাড়ি যাবো বলে কদিন খুব ব্যস্ত থাকি। বাক্স -প্যাটরা প্যাকিং আছে, ফেসিয়াল আর স্পা আছে, দশ হাতে ম্যানিকিওর আছে, শিবুদার জন্য সব কিছু গুছিয়ে পরিপাটি করে রাখার কাজ আছে…হাজার রকমের ঝক্কি। যা বলবার তাড়াতাড়ি বলে বিদেয় হন দিনি। আর হ্যাঁ , কাকে চাই আপনার এখন, শিবুদা না আমি?

নারদ- ( শিব দুর্গার বৈঠক খানায় উঁকি মারতে মারতে) আহা! কি অপূর্ব দৃশ্য ! সবাই তো আছে দেখছি একেনে। আমাদের সরো,কাতু, গণশা, মা লক্ষী…। এট্টু ভেতরে আসি নাকি দুগ্গা ম্যাডাম? হে হে হে…

দুর্গা- ( ব্যাজার মুখে)- আসুন । আপনাকে আর কে আটকাতে পারে? ছুঁচ হয়ে ঢুকে ফাল হয়ে বেড়ানোর অভ্যেস কি আর অত সহজে যাবে?

নারদ- ( জিভ কেটে) – নারায়ণ ! নারায়ন! আরে দরকার না থাকলে কি আর শুদুমুদু আসি? দেবরাজ ইন্দ্র হঠাৎ কি এক জরুরি স্বর্গ অধিবেশন ডেকেছেন। আপনাদের সকলকেই যে আসতে হবে ম্যাম।

দুর্গা- মরণ! এ তো মহা বিরক্তিকর! অধিবেশন ডাকার আর সময় পেলনা দেবু? গত কয়েকবছর ধরে তো “আত্মনির্ভরশীল দেবলোক” করে করে হেঁদিয়ে মরছে। কি নকলবাজ রে! এদিকে ইয়েতে নাই চাম…গোবিন্দের নাম। ধরাবাসীর দেখাদেখি আ্যজেন্ডা আবিষ্কার করলে হবে? যত্ত সব আপদ জুটেছে আমার কপালে! এবারের অ্যাজেন্ডা কি ?…ঝেড়ে কাশুন তো দেবর্ষি।

নারদ- নারায়ণ ! নারায়ন! আমি কি আর অত জানি মা শক্তি? আমার রয়টারত্বে ভাটা পড়েছে আজকাল। আমাকে দেখলেই সবাই মুখে কুলুপ আঁটে। ওই একবার যেন কি সব পরিবর্তন …পরিবর্তন শুনছিলুম যেন…দেবরাজের মুখে…

দুর্গা- আ মোলো যা! পরিবর্তন তো দেবী মনসার অ্যাজেন্ডা! ওটা আবার ইন্দ্রদেব অ্যাডপ্ট করলো কবে ? তা সে কি পরিবর্তন আনতে চলেছে শুনি?

নারদ- আহা! পরিবর্তন কি একেবারেই হয়নি মা ঠাকরোন? ডিজিট্যাল দেবলোক,স্বচ্ছ দেবলোক…সবই তো….ইন্দ্রের আমলেই বাস্তবায়নের প্রভূত চেষ্টা …

দুর্গা- ( নারদ কে থামিয়ে দিয়ে) ..ওরে আমার ইন্দ্রদেবের পি আর এলেন রে…কে কতো ডালে…কে কতো পাতায় আমি বিলক্ষণ বুঝি। ওইসব হলো গিয়ে যুগের হাওয়া ..ওতে ইন্দ্রের কেরামতি কোথায়? সে কোথাকার তালেবর হে? আপনি চুগলি করলে করুন গে …যান..দুগ্গা কাউকে ভয় পায়না।

নারদ- কি জানি মা শক্তি? আমি তুশ্চু ঋষি…

দুগ্গা- হয়েছে.. হয়েছে। একেবারে বিনয়ের ঝাড়। আপনি কি বস্তু তা জানতে কারও বাকি আছে? আই সরো…মহিষাসুরকে মেলটা পাঠালি?

সরস্বতী – হ্যাঁ মা,পাঠিয়ে দিয়েছি। ওই পুরোনো মেল আ্যাড্রেসটাতেই তো? মহিষাসুর .পাতালস্তান@…

দুর্গা- কি জানি! মালটা আমার সাথে রেগুলার মর্ত্যে গিয়ে গিয়ে বিশাল কেত শিখেছে। মেইল করে বচ্ছরকার বধের আমন্ত্রণ না দিলে তিনি আসেন না। হোয়া কিংবা মেসেন্জারে রিপ্লাই করেই না, এমন ত্যাদড়! হ্যাঁ রে লক্ষ্মী …তখন থেকে দেখে যাচ্ছি মোবাইল নিয়েই পড়ে আছিস। এই জন্যই শান্তশিষ্ট নাড়ুটাও রেগে যায়। মোবাইল রেখে সংসারের দিকে একটু তাকা। অত চঞ্চলা হলে হয়? দু দন্ড একটু স্থির হয়ে বসতো মা।

লক্ষী- দেখো মা…আমি একজন স্বর্গগ্রাম ইনফ্লুয়েন্সার। আমার এই পদ্মসম্ভবা হাতে সবসময় মোবাইল রাখতে হয়, নইলে পিছিয়ে পড়তে হয়।

দুর্গা- ইন্ফ্লুয়ন্সর না ইয়ে। যাও গিয়ে এক কাপ চা করে আনো নারদ কাকুর জন্য । পড়াশুনা বন্ধ করে নারায়নের গলায় ঝুলে পড়লে…এবার সংসারের কাজ শেখো। দিদিটাকে দেখেও তো কিছু শিখলেনা… আমার সরো মেয়েটার রাতদিন শুধু পড়াশুনো আর পড়াশুনো…আর কোনওদিকে মন নেই বুঝলেন দেবর্ষি…একটার পর একটা ডিগ্রী পেয়ে চলেছে…কি যে গর্ব হয়…

নারদ- না না মা.. চা টার দরকার নেই…আমার ঢের কাজ আছে। দেবরাজ ইন্দ্রের কথা না শুনলে আমার ছাল ছাড়িয়ে নুন মাখিয়ে…

দুগ্গা- বুঝেছি …বুঝেছি…ফুটুন এইবেলা। আর পরের বার থেকে সিওর হয়ে আসবেন আমায় কি বলে ডাকবেন। মা না ম্যাডাম?

( মাথা নীচু করে নারদের প্রস্হান)

সরো- ( সরস্বতী এখন ল্যাপটপ সরিয়ে একখানা পুজো সংখ্যা নিয়ে বসেছিলেন… মায়ের কথা শুনে মাথা চেপে বল্লেন) ..কিন্তু এইবার আমি আর পারছি না। মামাবাড়ির পুজো সংখ্যাগুলো পড়তে পড়তে আমার চোখে ঝিলিমিলি লেগে গেছে। গুষ্টিশুদ্ধ যে যেখানে ছিল, রণে- বনে -জলে- জংগলে সবাই বাংলা ভাষার লেখক হয়েছেন, পাঠক বলতে আছি এই একমাত্র আমি….

গনশা- (ঢেঁকুর তুলে)_ স্বর্গাটো আর স্বর্গুইগি দুটোরই মান দিন দিন পড়ে যাচ্ছে মা…ফুল অ্যাডালট্রেশন…ঘিটাও হদ্দ বাজে…

দুগ্গা- যাও গে…জোয়ানের আরক খাও। পেটটাকে একটু তো রেস্ট দিতে হয়? এই তো গণেশ চতুর্থীতে লাড্ডু আর মোদক কম সাবড়ে আসোনি। তার পরেও অনলাইনে যা পারছ আনাচ্ছ…বলি বাপের কি টাকার গাছ হয়েছে র্যা? উনি তো ছেঁড়া বাঘছালে শুয়ে লাখ টাকার সাধন ভজন করে যাচ্ছেন…

গণেশ- টাকা না টাকা না স্ক্রীপ্টোকারেন্সি( স্বর্গ + ক্রিপটোকারেন্সি)। তার ওপর আবার কৈলাশ আর বৈকুন্ঠপুরের কিছু সস্তার শেয়ার ম্যানিপুলেট করে হেভি দামে বেচে দিয়েছি। কিনেছে কে বলতো? মহিষাসুর এন্ড কোং । আরে নারদের কানে ভুলভাল ইনফরমেশন দিয়ে দিয়েছিলুম। নারদের যা কাজ, ঠিক লাগিয়ে দিয়েছে, আর ব্যাটা অসুর টোঁপ খেয়ে গেছে।

কার্তিক- ওই জন্যই ! তাই বলি , মহিষাসুরটা পাতালস্তানের ডার্ক ওয়েব থেকে এত ত্যান্ডাই ম্যান্ডাই করছে কেন? কথায় কথায় বলছে হাঁড়ির হাল করে দেবে… হ্যাঁ রে গনশা তোর মাথায় নাকি বুদ্ধির চৌবাচ্চা আছে এক খান? দেবলোকের শেয়ার তুই পাতাললোকে বেচে দিলি? এ কি কান্ড! তোর বুদ্ধির চৌবাচ্চায় কে সি নাগ ফুটো করে দিল নাকি রে?

গনশা- কাতুদা! অত চাপ নিও না। তলিয়ে ভাবো, ব্যাপারটা জলের মতো ক্লিয়ার হয়ে যাবে। মা না থাকলে কৈলাশ কোমপানি ডকে ওঠে। আর লক্ষীদির সোস্যাল আপডেশন থেকে মুক্তি পেলে নাড়ুদা পুরো নাক ডেকে অনন্ত নিদ্রায় চলে যাবেন কয়েকদিনের জন্য । ফল? বৈকুন্ঠ কোম্পানি ভোলাটাইল। ব্যাস , দুটোরই শেয়ার চচ্চড় করে নামবে…আর মার্কেট ডিমান্ড বুঝতে না পেরে মহিষাসুর সব শেয়ার জলের দামে ছেড়ে দেবে। সুযোগ বুঝে আবার কিনে নোব…তাই নো চিন্তা ডু ফুরতি। এখন মহিষাসুরও কদিন বিজি থাকবে …বধ হতে হতে এইসব দিকে আর মনোযোগ দিতে পারবে না। পাতালস্তানের ইকনমি নয় ছয় হয়ে যাবে। হা …হা… হা…

সবাই সেই হাসিতে যোগ দেয়। দুগ্গা এসে গণেশকে জড়িয়ে ধরেন।

দুগ্গা- এই জন্যই বাছাকে আমার এত ভালোবাসি। সবাই তো তাই আমায় গণেশ- জননী বলেই ডাকে। বুদ্ধিরও বলিহারী! দেখলি কাতু, সরো,লখু,… গণশার আমার কতো দূরদৃষ্টি!

দৃশ্য ৩

(জয় মা মনসার জয়, সর্পলোকের একচ্ছত্র সুপ্রিমো লোকায়ত দেবী… উর্বরতার দেবী মনসার জয়… জয় সর্পদেবী মনসার জয় …মনসা দেবীর ডানহাত জল- জংগলের অধিষ্ঠাত্রী দেবী অরন্যা আকা বনবিবির জয়…)

নাগিন মিউজিক চলছে। আর ব্যাকগ্রাউন্ডে এই স্লোগান চলছে। এর মাঝে মনসা স্টেজে ঢুকলেন। চোখে সানগ্লাস পরা। মাথায় সর্প মুকুট। বডিতে সাপছাপ ড্রেস পরা। বনবিবির সবুজ শাড়ি, গায়ে সবুজ গাছপালার গয়না।

মা মনসা বসতেই নারদের আগমন। বনবিবি পাশে দাঁড়িয়ে…

বনবিবি- জয় জংলা…

মনসা- আরে নারদ যে! তা কি মনে করে? ওরে কে আছিস… দেবর্ষি নারদকে একটা মোড়া দে। কিরে লেফটেন্যান্ট পঞ্চফণা কোথায় গেলি…দেবর্ষি নারদকে চপ মুড়ি এনে দে সানকিতে। বুঝলেন নারদ…আমাদের লোকায়ত তেলেভাজা শিল্প এখন সমুন্নতির শিখরে পৌঁছে গেছে…

বনবিবি- জয় জংলা…

নারদ- নারায়ণ ! নারায়ণ! সে তো যাবেই। ইয়ে দুর্জনে তো বলে বাকি সব জল আর জংগলের তলায় ডুবে গেছে। চপ আর ঢপ লাগবে না, কাজের কথাটা টপ করে বলেই কেটে পড়ব মা জননীরা। আপনাদের এখানে এলেই বড্ড ভয় করে। আপনার রাজ্যের চাঁদবদন লাল্টু জেঠুদের আর সদাগরী গান্ধীছাপ কাকুদের যে কোনঠাসা করে দিয়েছেন! সব তো ফিকে লাল আর হালকা সবুজ হয়ে গেলো! আমিও তো বুড়োমানুষ! তারপরে আবার নামটি যে আমার নারদ। চরম কেলেঙ্কারি আর কি! ধরার দিদির অনুপ্পেরণায় যদি আপনি খুশি হয়ে “নারদশ্রী” উপাধি দিয়ে দেন তবে তো আরও গেরো! ইডি এসে ধরবে। নারায়ণ ! নারায়ণ ! তা মা বনবিবি আপনার জল জংগল তো সর্পলোককে গ্রাস করে নিল।

বনবিবি- এ আবার কি কতা নারদজেঠু? আমরা তো কোলাবরেশনে কাজ করি।

নারদ- কোলাবরেশন তো নয় চোলাবরেশন…ইয়ে…নারায়ণ ! নারায়ন! আমি চট করে খবরটা দিয়েই চলি মা…অনেক কাজ আছে…

মনসা- যাতা হেয়…যাতা হেয়…এত জলদি কেন হ্যায়? দুটি সুখ -দুখের কথা আগে বলতা হ্যায় , তারপরই তো আপনাকে ছাড়তা হেয়। কোন দুর্জন আমার সর্পলোক নিয়ে আখবা ফেয়লাতা হেয়? গৌর সে বাতাইয়ে ওই আপদকা নাম। তাছাড়া জল- জংগল এখন আমারই অধিকৃত হেয়। তাছাড়া আপনাকে তো একটু ঝেড়ে কাশনা হেয়..ওই আমোদগেঁড়ে দেবরাজের বক্তব্য কি হেয়? আপনাকে কেন হঠাৎ এই অসময়ে ভেজতা হেয়? আর আপনিও বা ওই ধর্মঘটী, লোডশেডিং, চাক্কা জ্যাম জেঠুদের আর গান্ধীছাপ নিষ্ক্রিয় কাকুদের নিয়ে অত কনসান কিউ হেয়?

নারদ- না না কনসার্ন নেহি হেয়। আপনাকে দেবরাজের ইনভিটেশন পাঠানোটাই মেন হেয় । তবে ওই দেবরাজ আপনার রাজ্যের অবস্থা নিয়ে একটু চিন্তিত হেয় আর কি! বনবিবির গাছপালাও তো ধমাধম কাটা পড়তা হেয়, পরিবেশ দুষনও বাড়তা হেয়…

মনসা- তা নারদজেঠু আমাদের সর্পলোক আর জল- জংগল নিয়ে আপনার অত ভাবনার কোনও দরকার নেই হ্যায়। গাছপালা শিল্পকা জন্যে কাটাতা হেয়। গাছপালা বেশি থাকলে উন্নয়ন তো ধপাস করে নেমে যাতা হেয়। আপনার ইন্দ্রকে নিজের চরকায় তেল দিতে বোলতা হেয়।

বনবিবি- ঠিক! আমাদের সুপ্রিমো মা মনসা এই সর্পলোককে শ্রী যুক্ত করবার অভিপ্রায়ে অবিচল হেয়। ইউসর্গোনেস্কো পর্যন্ত তার জন্য ম্যাডামকে পিঠ চাপড়াতা হেয়। আপনি কোথাকার কে হেয় দেবর্ষি নারদ!

নারদ- নারায়ণ ! নারায়ণ ! সে তো বটেই…সে তো বটেই। আমি আর কে হেয়! আসলে আসন্ন স্বর্গ অধিবেশন নিয়ে আপনাদের একটু অনুরোধ আছে মা জননী। যদি কৃপা করে ইন্দ্রলোকে পায়ের ধুলোটা একটু দেন, এই বুড়ো নারদের মানটি থাকে আর কি। মেইলে আপডেশন তো পেয়ে গেছেন হবে।

মনসা- তা পেয়েছি। তবে দেবরাজকে বলবেন আমি কিন্তু আমার পরিবত্তনের অ্যাজেন্ডা থেকে একচুলও নড়ছি না। দেবরাজকে আমি গদিচ্যূত করবই। ৩৪ কোটি কল্প কেটে গেছে স্বর্গে এখনও পপার এন্টি পেলাম না। এন্টি নোব তো নোব…পুরো গদিতে…পরিবত্তন চাই…পরিবত্তন…আয্য দেবতাকে সরিয়ে এবার লোকায়ত দেবী মনসা বসবে স্বর্গের সেন্ট্রাল গদীতে…জয় জংলা…আর আমার ডানহাত এই বনবিবিকে আপনি পাত্তা দিচ্ছেন না দেখছি!

বনবিবি- জয় জংলা! পাত্তা টাত্তার দরকার নেই। সুপ্রিমো মনসা দেবীর ছায়াতে থেকেই আমি খুশী। আমার জল- জংগল তাঁর কৃপাস্পর্শে উন্নতির সোপান দেখছে। ইয়ে নারদজেঠু, এসেছেন যখন দুপুরে জল- জংগলের চাট্টি ডালভাত খেয়ে যান ..মিড ডে মিলের রান্না এই হয়ে এসেছে…

মনসা-আঃ বনবিবি থামো। তোমাদের হচ্ছে এই সমোস্সা । বলতে দিলেই আটভাট বকতে শুরু করো। তা দেবর্ষি নারদ, দেবরাজের পেসেন্ট অ্যাজেন্ডা নিয়ে আপনি কুলুপ এঁটেছেন কেন বলুন তো?

নারদ- তা কেন ছোটমা! আজকাল আর বেশি কিছু জানতি পারি না। তবে যা মনে হলো এবার তো দেখি দেবরাজ ইন্দ্রই পরিবর্তন নিয়ে পড়েছেন।

মনসা- সেকি? ব্যাপার তো সুবিধের ঠেকছে না দেবর্ষি। পরিবত্তন নিয়ে সারাক্ষন তো আমি ভাবি। ওই মাল যতক্ষণ শুয়েবসে নাচগান দেখছে ততক্ষন ঠিক আছে, এক্সটা কিছু উদ্যোগ নিলে তখন তো ভারী সন্দেহ হয় । গন্ধটা খুব সন্দেহজনক! দেবরাজ আবার কি পরিবত্তন চায়? পরিবত্তন না হলেই তো ওর মঙ্গল । ভাবতে হচ্ছে …

শেষ দৃশ্য

স্বর্গের সভায় অধিবেশন বসেছে। মন্চে অনেক গুলো চেয়ার রাখা। ( গণেশ+ সরস্বতী+ কার্তিক+ লক্ষী + চন্দ্রদেব+ মনসা+ অগ্নিদেব+ বরুনদেব+ পবনদেব+ ইন্দ্রদেব + আরও কিছু দেব…)

ইন্দ্র – সবাইকে স্বর্গের এই গুরুত্বপূর্ণ অধিবেশনে স্বাগত জানাই। আরে! অতি ঝন্ডু শনিদেবও আছেন দেখছি! ভালো ! ভালো! খুব ভালো! তা আপনি তো সিস্টেমের এগেইন্স্টে! ইয়ে… আপনার ডালপালার লালপালা কেমন চলছে? ভালো তো? যাক।পবনদেব এইবার সবাইকে একটু মিটিংটার বিষয়ে ব্রিফ করে দাও দিকি।

পবনদেব- স্বর্গ অধিবেশনের এই ইম্পোর্ট্যান্ট মিট সবাইকে ওয়েলকাম । লর্ড শিবা, নারায়না আর ব্রক্ষ্মাজি ইস নট হিয়ার কারণ তারা ত্রি নেত্র খুলে অনলাইনে মিটিং এর আপডেট নেবেন বলে কথা দিয়েছেন। যমরাজ বিচার ব্যবস্থা নিয়ে বিশাল ব্যস্ত , তিনি এইসব সাংবিধানিক ব্যাপারে মাথা গলাতে চান না। প্রশাসনিক হেড দেবসেনাপতি মুরুগন কার্তিকেয় আমাদের সঙ্গে আছেন । আছেন প্রথমপূজ্য গনেশা। দুর্গা মা বাপের বাড়ি যাবেন বলে প্যাকিং এ ব্যস্ত আছেন, প্রয়োজন পড়লে দশহাত নিয়ে রঙ্গশালায় অবতীর্ণ হবেন । তারও ত্রিনেত্র ওপেন আছে। বাকি ত্রিনেত্র লেস সমস্ত দেবগণকে হার্টিয়েস্ট কনগ্র্যাটস জানাই।

ইন্দ্র – সাধু! সাধু!

পবনদেব- থ্যান্কু। আর সমস্ত জরুরি সফট কপি আর মিটিং এর abstruct আমি সমস্ত অংশগ্রহণকারীদের মেইলে সেন্ড করে দিচ্ছি৷ অন্তর্যামী ত্রিদেবতো সবই জানেন। ওদের আর কি মেইল করবো? দেবরাজ ইন্দ্র আপনাদের মেইন প্রেসেন্টেশনটা দেবেন। আপনারা একটু পেশেন্স নিয়ে শুনবেন। প্রেসেন্টেশনের জন্য আমরা একটু সাইডবারে যাচ্ছি এবং আপনাদের থেকে একটু সময় চেয়ে নিচ্ছি ।

ইন্দ্র পবনদেবের সাথে খুব মনোযোগ দিয়ে কি একটা আলোচনা করতে থাকেন। এর মধ্যেই …

মনসা- ( থুকদানীতে পানের পিক ফেলে) …হু হু বাবা…তিনেত্তর কি দরকার! এক নেত্ত নিয়েই কাঁপিয়ে দিচ্ছি৷ (চন্দ্রদেবের দিকে তাকিয়ে) আরে চাঁদু বাবু…আপনার খবর কি? আপনি অমন নিষ্পভো হয়ে গেছেন কেন হঠাৎ ?

চন্দ্রদেব- আর বলবেন না মনসাদি…কথা নেই বার্তা নেই আমার বডির ওপর যান পাঠিয়ে দিচ্ছে; আবার কেত করে নাম রেখেছে চন্দ্রযান! এপিডারমিসটা আমার খুবলে দিল। আর পারিনা এই ভালোবাসার অত্যাচার সহ্য করতে।

মনসা- এমনিতে আপনার স্কিন তো ওরমই…খোবড়া…খোবড়া…মেকাপ দিয়ে আর সুয্যদার স্পটলাইট ধার করে বিশাল ইলিউশন তৈরি করেন। যাকগে আপনার বেথায় সমবেথী হলুম।

নারদ- নারায়ন! নারায়ন! তোর কুন কুন জায়গায় বেথা লো..বান্ধবী ললিতা…

সরস্বতী – নারদকাকু আপনি থামুন তো। আচ্ছা মনসাদি, আপনার রাজ্যের শিক্ষার মান নাকি নেমে যাচ্ছে ? আপনি কি ধৃতরাষ্ট্রের মতো চোখে ঠুলি পরে আছেন? জবাব দিন।

লক্ষী- নতুন বিনিয়োগ হলো কিছু ? এদিকে তো শ্রী বিলিয়ে বিলিয়ে আমার ভান্ডার শূণ্য করে দিচ্ছেন।

কাতু- বিশ্বকর্মাদা বলছিলেন শিল্প আর প্রযুক্তি আপনার রাজ্যের বাইরে চলে যাচ্ছে । সে যাক, আপনার রাজ্যের প্রশাসন বিভাগ নাকি অতি অপদার্থ! সর্পেরা নাকি কথায় কথায় কামড়া কামড়ি করে! এবিষয়ে বরং কিছু আলোকপাত করুন।

গণেশ- অর্থনীতির তো একেবারে লগবগে অবস্থা! কেবল সৌন্দর্যায়ন করে করে শাক দিয়ে মাছ ঢাকলে হবে! ওই তো আপনার জলাজংগলের ছিরি!

মনসা- বাপরে বাপ! এতো সাঁড়াশী আক্রমণ ! আয্য দেবতাদের চক্কান্ত। মনসা এইসব গুজবে কর্নপাত করেনা, জবাবদিহিও করেনা,… জয় জংলা।

এরমধ্যে ইন্দ্র উঠে দাঁড়িয়েছেন। একটু গলা ঝেড়ে বলতে শুরু করলেন…

ইন্দ্র – আঃ! থামুন আপনারা। ধান ভানতে শিবের গিত গাইতে এসেছে। ফোকাস…ফোকাস…

প্রিয় স্বর্গমিত্রো…

আজ এই শুভক্ষণে আমি ত্রিলোকের নাম পরিবর্তনের সুপারিশ করছি। ঋকবেদে ত্রিলোকের আসল নাম , অর্থাৎ স্বর্গ , মর্ত্য আর পাতালের প্রকৃত নাম ছিল ভূ , ভূবঃ আর স্বহা। আমরা সেই বৈদিক রীতিকে আবার ফিরিয়ে আনতে চলেছি। এতে করে স্বর্গে আবার বেদের প্রাধান্য সূচিত হবে। আশা করি আপনারা সবাই সহমত হবেন। আগামী হৈমন্তি পুর্নিমায় এ বিষয়ে ভোটাধিকার প্রয়োগ হবে। অতএব স্বর্গ , মর্ত্য আর পাতালের নতুন নাম হবে ভূ , ভুবঃ আর স্বহা।

মনসা- কি ভূ ভূ বলছে সরস্বতীদিদি। কিছুই তো বুঝিনা! ইন্দ্র তো অটোমোবাইল নিয়ে কিছু বলছেনা। ত্রিলোকের নাম চেন্জ করে ওর আবার কি লাভ? বেদের প্রাধান্য সূচিত করে আমার মতো লোকায়ত দেবদেবীদের স্বর্গে রেস্টিক্টেড করতে চায়? বটে! পেটে পেটে এত?

সরস্বতী – এ আবার কোন তুঘলকী আপনার। আচ্ছা খাসা ত্রিলোকের নাম পরিবর্তন করবেন কেন আপনি? এতে করে সমস্ত কিছুর নাম এফিটেফিট করে বদলাতে হবে, প্রচন্ড জটিল এক প্রসেসের মধ্যে দিয়ে যেতে হবে । আর ত্রিলোকের সবাই তা বিনা প্রশ্নে মেনে নেবেই বা কেন? আর অর্থগত ভাবে ভু, ভুবঃ আর স্বহা নামের ব্যপ্তি একটু অন্যরকম। পাতাললোকের অধিবাসীদের ওপর এটা চাপিয়ে দেওয়া নামান্তর হবে। তার ওপর তাদের কোনও প্রতিনিধিও তো দেখছি না।

এমন সময় মহিষাসুর কোথা থেকে হাজির হয়।

মহিষাসুর – হারে …রে রে রে….কে রে কেরে…আমাদের পাতালস্তানের নাম বদলাতে চায় রে? তার কপালে আজ আছে রে…লুকিয়ে লুকিয়ে অধিবেশনে… এই জন্যই লক্ষ্য রাখছিলুম রে….ব্যাটা দেবু…আজ তোকে ইন্দ্রলোক থেকে নিকেশ করবোই রে….হারে….রে…রে…রে…

(বলতে বলতে সে ইন্দ্রর মাথায় পিস্তল ধরে। সবাই একটু আতঙ্কিত হয়ে পরে, কার্তিক তরোয়াল নিয়ে পজিশন নেয়, সরস্বতী আর লক্ষী গলা জড়িয়ে দাঁড়ায়, অগ্নিদেব আর বাকি দেবটেবরা বেশ যুদ্ধ যুদ্ধ ভঙ্গিমা দেখানোর চেষ্টা করেন।)

ইন্দ্র কাঁপতে থাকে। এমন সময় দশহাত নিয়ে মা দুর্গার ঝটিতি প্রবেশ। অসুরের গালে এক থাপ্পড় মেরে পিস্তল ছিনিয়ে নিয়ে অসুরকে টানতে টানতে মাটিতে বসিয়ে দেন তিনি…

দুগ্গা- ব্যাটা অকর্মার ঢেঁকি! এদিকে চোদ্দখানা মেল পাঠিয়েছি, কোনও রিপ্লাই নেই।এখানে কেরদানি মারতে এসেছে। পৃথিবীতে যাবার আগেই তোকে এবার বধ করবো ব্যাটা। মারব এই ইন্দ্রলোকে , লাশ পড়বে কৈলাসে। “পোতিবাদী” হয়েছে বড়! এই ইন্দ্র , তোমার এইসব আকাটপনা বন্ধ করে অপ্সরী নেত্য দেখগে যাও। অত ভেবনা। ভাবাটাবা তোমায় মানায় না। আমার হয়েছে যত জ্বালা! ঘর দেখব, বাজারহাট করবো, ছেলেপুলে সামলাবো, ইন্দ্রর আকাটপনা ঘোচাবো আবার বছর বছর অসুরও বধ করবো। এদিকে আবার বাপের বাড়ি যাওয়া আছে। এই… সব অকর্মণ্যের দল আপনা আপনা কাজে যাও। মিটিং ডিসমিস।

(বলে মহিষাসুরকে কান মুলে বধের ভঙ্গিমায় দাঁড়ায় দুর্গা। তারপর হিড়হিড় করে টানতে টানতে নিয়ে দুর্গা মঞ্চ ত্যাগ করে।)

( পেছনে মহালয়ার একটি গান চলতে থাকে)

নারদ- ওরে কে আছিস! মাতৃ বন্দনার এই পুন্য লগ্নে এইবার ঝুমকা গানটা চালা দেখি…সবাই ঝুমকা নাচ নাচি….জয় মা দুগ্গার জয়…জয় তার হোল ফ্যামিলির জয়, জয়… তার বাপের বাড়ির জয়…

ঝুমকা…নাচ শুরু হয়

সবাই নাচে অংশগ্রহণ করে।

ফেসবুক দিয়ে আপনার মন্তব্য করুন
Spread the love

You may also like...

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

কপি করার অনুমতি নেই।