আসলে এ বাড়িতে আরাম দেদার।
সকালের ওই হুটোপুটিটুকু বাদ দিলে, লম্বা এল প্যাটার্নের সাদা কালো চক মেলানো বারান্দায় সকাল গড়িয়ে দুপুরের রোদ মেখে নিশ্চিন্ত খাদ্য বস্ত্রের, পান মশলার তৃপ্তি। মাথার ওপরে সাদা চুলের এক জোড়া মানুষের দীর্ঘায়ু হবার নিরাপদ ছাউনি। যে যার ঘরে হাত পা ছড়িয়ে এর ওর বাড়ির গল্প নিয়ে হ্যা হ্যা । সানন্দার পাতা উল্টে হাল ফ্যাশান খোঁজা। আড় চোখে এ ঘরে ও ঘরে সাজের, শাড়ির রেশারেশি। রান্নার বাটি চালাচালি।
থেকে থেকে সব সময়ের কাজ মেয়ে গায়ত্রীকে হাঁক।
গায়ত্রীইইই, চা খাওয়া শিগগিরই। গলা শুকিয়ে গেল। দিদি পান দাও না।
সামনের বাড়িতে থাকেন বাবার সেজপিশি। তিনি রোজই এই দ্বিপ্রাহরিক আড্ডায় যোগ দেন ঘড়ি ধরে।
মাঝে মাঝেই অসাধারণ দক্ষতায় চোরাগোপ্তা চিমটি কাটা চলে। তার শৈল্পিক নৈপুণ্যের জাত আলাদা।
কেটে বেরিয়ে যাবে, যাকে কাটা হল, হয়ত টের ও পাবে না সাথে সাথে। পরে জ্বালায় অস্থির হয়ে বুঝবে সূক্ষ্ম ব্লেডে ফালা হয়ে গেছে।
কিরে, নতুন শাড়ি নাকি ? এবার পুজোয় মা পাঠিয়েছেন?
— না না, এ তো অনেক পুরোনো গো। পালিশ করে দিয়ে গেল তাঁতি।
– তাই বল। আমি ত অবাক হচ্ছিলাম। সূর্য কোন দিকে আজ। দাও বৌদি, আমাকেও একটা পান দাও। নিয়ে বাবা মায়ের ঘরে যাই।
যাকে বলা হল, সে বেশ খানিক পরে হয়ত খেয়াল করল, আরে, আমার বাপের বাড়ি সম্বন্ধে গালি দিল আসলে????
এই বার রাগ। বক্তার নানা সমসাময়িক এবং প্রাক্তন বদমায়েশির খেরোখাতা খোলা। সঙ্গে সমবেত জনগনের অনুপ্রেরণা এবং যোগান।
জিভে টকাশ আওয়াজ করার মত চাটনি প্রস্তুত।
জমে গেল দু তিন দিনের আসর।
সে রকম গর্হিত কথাবার্তা কিছু বাজারে ছাড়া হয়ে থাকলে এক দু সপ্তাহের সরগরম চলাও আশ্চর্য নয়।
মোদ্দা কথা, সত্যিকারের বড় কোন অভাব বা সমস্যা নেই।
কাজেই রঙবেরঙে দিন যায়।