T3 ।। কবিতা পার্বণ ।। বিশেষ সংখ্যায় সুজান মিঠি

নামতা

ছেলেটা একটানা নামতা আউড়ে চলেছে।
সেই যেদিন তাদের ইস্কুল বাড়িটা ভেঙে পড়ছিল,
সব ছেলেরা হই হই করে এদিক সেদিক ছুটছিল!
ছেলেটা তখনও একটানা নামতা পড়ছিল।
ওর বন্ধুরা ওকে ঠেলছিল, ডাকছিল, ভয় পাওয়াচ্ছিল…
ছেলেটা নামতা আউড়েই চলেছিল।
ওর বন্ধুরা কেউ পালিয়েছিল জানলা দরজা দিয়ে,
কেউ পারেনি। সাপ, ব্যাঙ, প্রজাপতি, শ্যাওলা
তুলসি হয়েছে।
ছেলেটা নামতা আউড়ে চলেছে।
ইস্কুলবাড়ি পোড়ো হয়েছে।
সাপ, ব্যাঙ, শ্যাওলা, বৃদ্ধ হয়েছে।
বড় বড় বাড়ি উঠেছে।
আকাশ চুম্বন করেছে কংক্রিট।
ছেলেটা নামতা আউড়ে চলেছে।
এক এক্কে বিশ্বাস!
দুই এক্কে বিশ্বাস!
তিন এক্কে বিশ্বাস!
ঈশ্বর একদিন জোর করে
ছেলেটাকে বগলদাবা করে তার
শিকড় শুদ্ধ নিয়ে গেল এক
ছাপাখানায়।
ছেলেটাকে ঠেলে গুঁজে ভরে দিল মেশিনের মধ্যে।
শিকড় সমেত ছেলেটা ঝাঁ চকচকে মলাটের আভরণে বেরিয়ে এল।
ঘরে বাইরে পথে বাসে ট্রেনে
হাতে হাতে উঠে আসে ছেলেটা…
এক এক্কে বিশ্বাস…
দুই এক্কে…
পথ ঘাট বাস ট্রেন
ঝাঁকিয়ে উঠে থেমে যায়!
তবে কি সত্যিই তাই?
বিশ্বাস!
তবে কী…
সন্দিগ্ধ দুহাতের চাপে মলাট বন্ধ হয়।
পথ প্রান্তর ঘর দাওয়া উঠোন
শপিং মল মাল্টিপ্লেক্স শরীর
আবার ছুটতে থাকে।
মলাটের নীচে চাপা পড়া ছেলেটা
দুলে দুলে নামতা আওড়ায়…
এক এক্কে বিশ্বাস
দুই এক্কে ভালোবাসা!
তিন এক্কে হৃদয়
চার এক্কে আলো আশা…
ফেসবুক দিয়ে আপনার মন্তব্য করুন
Spread the love

You may also like...

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

কপি করার অনুমতি নেই।