সাপ্তাহিক ধারাবাহিকে শ্রীরাজ মিত্র (পর্ব – ৫)

ছায়াপথ, গুঁড়ো ছাই
বাড়ি ফিরেছি প্রায় সন্ধ্যা নাগাদ। আজ একরকম প্রায় জোর করেই আমি শিবদেব এর কবিতার ডায়েরি টা নিয়ে এসেছি আমার সাথে। নাহ্ মশাই, আমাদের শিবদেব ঠিক কবি না। অন্তত তেমনটাই তার নিজের ধারণা। তবে ওর পরিস্থিতির ছবি আঁকতে তীর্যক শব্দের ব্যবহার আমাদের বেশ অন্য রকম টানে।
মাস্টার মজা করে বলে, এ ধন্দ প্রতিভা মাত্রেই বোধহয় সহজাত। এই যেমন স্যার আইজ্যাক নিউটন জীবনের দীর্ঘ অধ্যায় জুড়ে মনে প্রাণে বিশ্বাস করতেন, বিজ্ঞানী না, আসলে তিনি অনেক সার্থক একজন অ্যাকাউন্টেন্ট! এমন কি সুইস ব্যাংকের গভর্নর হিসেবে তাঁর কর্মকৃতিত্ব অনেক বেশি আলোচিত হতে পারত বলেই ছিল তাঁর ভাবনা।
পাতা উল্টোতে উল্টোতে একটা এমন জায়গায় থামলাম যার বাম দিকের পাতায় ডট পেন এর ঈষৎ কাটাকুটি করে আঁকা একটা সম্ভাব্য নারী প্রতিমা। যার সেই অর্থে চোখ নেই, চুল নেই, নেই ঠোঁট কিংবা স্তন! তবু সে এক নারী নির্মাণ , অন্তত তাই মনে হয় দেখে! ডান দিকের পাতায় একটা লেখা :
দেখা হোক
ঘুণাক্ষরেও প্রেম লিখিনা লজ্জা করে খুব
এসেছে ছায়ায় যারা জানে আমি কতটা লাজুক
বাইরে কঠিন, ভদ্রলোক! ভেতরে অপার শূন্যতা
মুখে লাজ ঝুলিয়ে রাখার, পেট ভর্তি ক্ষুধা
এখনও মেলেনি সে -যার সাথে বাকি পথচলা
নির্ঘাতই নিশ্চিত! নেই তার কোনো অবহেলা
তার কোনো নাম নেই! শ্যামা রং, সুন্দর চোখ
ভাষা তার কবেকার চেনা!
হয়তো বাতিক, খুব স্বাভাবিক –
তার সাথে দেখা হোক!
পরের পাতা উল্টোই। আবার একটা লেখা :
বিরাট ঝঞ্ঝাট!
হাঁটতে হাঁটতে চলে এসেছি জাহান্নমে
ঢালু পথেই আর কিছুটা! রসাতল…
ইচ্ছে আছে ঢুঁ মেরে যাই একটি বার
বিরাট ঝঞ্ঝাট!এখানেও, হ্যাবক প্রটোকল!
স্বর্গ পুরো উজাড়, নাকি বাছতে গিয়ে ঠগী…
জাহান্নমে ব্যাপক উৎপাত!
সবার ভিড় – সাধক থেকে শুরু করে, কবি!
পরের পাতায় আবার একটা :
ঝাল-ঝোল-অম্বলে
হতাশ না!তবে হন্যে হই, কি গরু খোঁজাই না খুঁজি
একটা মানব রতন! সত্যি কি যে কঠিন,
আজ ভীষণ রকম বুঝি
চতুর্দিকে মিছিল, মুখে তার চুন আলো সব মাখা
সবাই এতখানি- যে যার! লাগায় চোখে ধাঁধা…
যা দিনকাল! কলঙ্কেরাই আসলে নাকি শোভা!
হাত থেকে হাত ঘোরা তো মজার, কম দামে
এই নিখিলে পিছলে গেলেই, তোফা…
ডাক বেড়ে যায়, ধার বেড়ে যায় নামের
ভিড়ের কোনো চরিত্র নেই, তবু চরিত্রদের ভিড়ে
এইখানেতেই টুইস্ট !
কোন দিকেতে তুমি? সেটা তোমায় ডিপেন্ড করে
কূল ভাঙবে শ্যামের ডাকে না যাবে শ্যাম ভুলে কূলে
নাকি, আসল মজা মজে থাকা, ঝাল-ঝোল-অম্বলে
জানিনা, অন্য কার কেমন লাগবে? তবে আমার মন্দ লাগছেনা। তাই পাতা উল্টে চলি আবার। এ কবিতার নাম বেশ অদ্ভুত : ‘তার সন্দেহটাই বাতিক’!
তার সন্দেহটাই বাতিক
চমক ছিলনা। তবে ঝলক ছিল ঝলমলে সব টুনির
খুব ছোট নয় তখন! অঙ্ক করি, আঙুলে গাঁট গুনি…
লোডশেডিং দুবেলা কমন!বার ছয় নয় অস্বাভাবিক
বড় বড় কারবারে,তাই হ্যাজাক জ্বালাই বাতিক
দেখতে বেশ ভালো! সুন্দর সে লোক
ভালো তবে কিন্তু রোগটা সংক্রামক
চলে বড় হিসেব কষে আমরা চলি পাতায়
আসলে এরা ঝোঁকের বাতাস
অযথাই সব নাচায়
বোকা সুধা! তাই তো সোজা!মনটা রাখা উড়োমেঘে
কলার চোপায় পা!
আর ছিটকে যাওয়া উল্টোপিঠে, রকে
স্বস্তি বিহীন মস্তি কতক! কাব্যে লেখা ‘তাহার’ খবর
আর ছিল যা, চিটিয়ে রাখা আয়নাতে কার টিপ…
এমনি তে সে ভালো! তবে তার সন্দেহটাই বাতিক
পড়তে মন্দ লাগছেনা। স্বাভাবিক শব্দবন্ধগুলো বেশ প্রয়োগ করেছে শিবদেব। আমাকে আগ্রহে পেয়ে বসেছে যেন। চা দিয়ে গেল মা। চায়ে চুমুক দিতে দিতে আবার চলি পরেরটায়।
পূর্বে মুখ করে
আড়কপাটি দরজা খোলা! বৃষ্টি পড়ছে, মন খারাপ
জীবন যেন আর্কিছুনা! সাপের মাথা, সিঁড়ির ধাপ…
কিংবা এ কেবলই ঘোরা- হাত থেকে হাত, কম দামে
জীবন যেন, শূন্য খোঁজা! মিটিং,মিছিল, সম্মেলনে…
ভিড়ের কি আর চরিত্র হয়?
তবু, বেলা অবেলায় চরিত্রেরই ভিড়ে
সকাল বিকাল মন্ত্র জপি…, পূর্বে মুখ করে
হারিয়ে যাবে দেখতে পাবে, মুণ্ডু মাথা খুঁজতে গেলে
বেদম মজা মাছভাজা ভাজতে থাকা মাছের তেলে
জানিনা, একে সমাপতন বা কোইন্সিডেন্স বলা চলে কিনা…! দেখতে দেখতে বৃষ্টি নামল হঠাৎই। মেঘ ছিলনা এমন নয়। কিন্তু তা বলে এক্ষুনি বৃষ্টি নামবে- এমন বোধহয় ছিলনা।
কি জানি কি ভেবে হাসি এল ঠোঁটের কোণে! শিবদেব কি তানসেন নাকি, যে রাগের আলাপ জমাবে আর অঝোরে নামবে বৃষ্টি!
আমি যে বিরাট কবিতা বুঝি, এমন না। আর কবিতার প্রতি বিশাল কোনো আগ্রহ কোনোকালে ছিল, এমনও মনে পড়েনা। আর সত্যি কথা বলতে কি, পাঠ্যসূচিতে যেসব কবিতা থাকত, সেগুলো যে পড়তে মন্দ লাগত ছাত্রাবস্থায়, এমন না। কিন্তু সে অভ্যেসও তো আজ প্রায় দেড় দু দশক ছাড়া। বন্ধু বান্ধবদের মধ্যে দু একজন যে কলেজ জীবনে কবিতা লিখতনা তা নয়। কিন্তু তার বেশির ভাগই পানসে লাগত আমার। তবে আজ আমায় কবিতায় পেয়েছে যেন। পাতা উল্টোই আবার। এ পাতায় আবার একটা লেখা :
বাধ্যবাধকতা
সারাটা মন বৃন্দাবন! তবে আছে বাধ্যবাধকতা
চাইনা তো কোনোভাবে …
আঠারো মণ তেল পুড়িয়ে, নাচিয়ে ছাড়ি রাধা…
ওসব কিছু বাদে, আর যা কিছু থাকে…
বাঁশিওয়ালা এক আসে রোজ,বাঁশিখানি তার হাতে
যেন ক্যামন করে সারাটা মন ! মন পড়ে রয় তাতে…
নিসর্গতার ছোঁয়া! দিনদুপুরে একলা ঘরে
জড়িয়ে আমায় যখন ধরে, সুরেরই মৌতাতে
বৃন্দাবন সে ধাম, যেন মনেরই ডাকনাম
বাঁশিওয়ালার বাঁশির সুরে, মায়ায় জীবন কাটে
বনবনিয়ে ঘোরার পরে,বুঝতে পারি সত্যিকারের
কোথায় আসল রাখা, সে সব বাধ্যবাধকতা
চাই না কেন কোনোভাবে
আঠারো মণ তেল পুড়িয়ে, নাচিয়ে ছাড়ি রাধা…
কবিতাগুলো যে বেশ গভীর এমন না। সহজে যায় ছোঁয়া। তবে কেন যেন মনে হয়, পড়ার সাথে খুলে রাখতে হবে চোখ। তাহলেই বেশ চোখে পড়বে- অনেক কিছু। পরিশীলিত বাঙালি বিরহ ও এক কবির স্বতঃস্ফূর্ত গতি।
পাতা উল্টোতেই, আবার। কিন্তু এতক্ষণ পর্যন্ত যতগুলো কবিতা পড়লাম, এবার সে ধারায় ছেদ পড়ল যেন। এবারের কবিতা ‘ঝর্ণা দি’ নাম্নী কাউকে নিয়ে। নিচে ফুট নোটে লেখা- ঝর্ণা দি আমার এক দিদি। লোধা-শবর ও প্রান্তিক জনগোষ্ঠী এবং সুন্দরবন ব্যঘ্র বিধবা দের নিয়ে আন্দোলনের অন্যতম পরিচিত মুখ সমাজকর্মী। আবার চোখ দিলাম লাইনগুলো য়…
ঝর্ণা দি কে নিয়ে
অনেক তো দিন বেশ রঙিন হজম হওয়া বাকি
তবে ঢেকুর তুলে সেসব কিছুর দেবনা বর্ণনা
অবাক হয়ে দেখি, জ্বলছে আগুন এ কি…!
আগুনে পোড়া ধন্যি সে এক মেয়ে! সত্যির নিরূপমা
অল্প কিছু গল্প তার, বড্ড বেশি আস্কারাদার
একটা যদি বাক্যে বলি- জীবন ভোরের সংগ্রামী…
মাছে বা বাঘের হাতে যাদের জীবন জুড়ে গেছে…
কিংবা পান্থজনের অন্দরে যে মণির মতন নামি
কৃতিত্ব বিলাস যাদের, বিজ্ঞাপনই ব্যসন…!
তাদের চেয়ে অনেক দূরে, ধন্যি সে এক মেয়ে !
সামনে বিদ্যাসাগর! তুমি ছাতা ধরে আছো মাথায়…
পুরো কবিতা, আজ সে আমার, ঝর্ণা দি কে নিয়ে!
পাতা উল্টোই আবার।
নারায়ে তকবির…
সেই জানে যার ঘর ভেঙেছে বৈশাখী কাল ঝড়ে
কিভাবে নেবে এটা,সে তো তোমায় ডিপেন্ড করে!
পাক খাওয়া কত অন্ধকারে, থৈ থৈ সব জলে
পার্থক্য ছিল! আছে এবং থাকবে কাঁঠালে,মাকালে
এগুলো ঠিক কবিতা নয়- অভ্যাস বা রেওয়াজ …
কিংবা এ নিজেকে নিজেই জাগিয়ে রাখার প্রয়াস
নতুন কিছু জুড়ে নেওয়ায় এখন আমি খুঁতখুঁতে খুব
বিশ্বাস যা করি না ওসব ভেল্কিবাজি তাদের জুটুক
যা বুঝেছি চমকে গেছি! একটা কথা তবুও সঠিক
হয়তো তা তুমিও জানো-
‘আল্লাহ্ আকবর! নারায়ে তকবির…’
ফালতু লোক
ঢেকুর তুলে বেশ বুঝেছি- গন্ধ আজও অম্বলের
মেরেছ কলসির কানা! তবুও না হয় প্রেম নিলে…
কেয়া হুয়া সিলসিলা… তুম্ হি আশিক তুম্ ভি হো
তা বলে কি প্রেমিক হব…
ভুলে গিয়ে সেসব কথা যেসব নিয়ে বিদ্রোহ?
ছাঁটতে ছাঁটতে বাদ পড়েছে অনেক কিছু
যেমন আমার ছায়ার পাশে সেসব ছায়ার গুরুত্ব …
বেশ বুঝেছি,গোলকধাঁধা!সহজ তবে,নয়তো সোজা
খুঁজতে গিয়ে আমিও হতাশ! দুনিয়া সারা বিরক্ত
কিন্তু বলো কি আর করার!এসব না কাউকে বলার..
তুমি বরং ভাবতে পারো, খুব সহজেই ফালতু লোক
দশটা দশে টার্মিনাসে, ট্রাফিক জ্যাম! সর্বনেশে …
তোমার সাথে ভিড়ের মাঝে, আর না দেখা হোক!
তুমি বরং ভেবে নিও,লোকটা বড় ফালতু লোক!
আসলে ক্ষতের বিদ্রোহ
সেয়ানা বড় সময় ! দাঁড়ায় না সে এলে
সত্য যা কিছু চরম! বৃক্ষ চেনায় ফলে…
অদ্বিতীয় যারা তারাই আসল ভৃগু
চতুর্দিকে ফাঁদ ! পাহারা দেওয়া ঘুঘু…
চাঁদ ভেবেছি যাকে তারও তিনটে উপগ্রহ
কলঙ্ক নাকি সব আসলে ক্ষতের বিদ্রোহ
বোঝো এবার ঠ্যালা জমে উঠেছে খেলা
মায়া কেবল অস্ত্র তার মোক্ষ হ’ল মোহ!l
কলঙ্ক নাকি সব আসলে ক্ষতের বিদ্রোহ!
জোটেও সব সঙ্গী হোক কলরব হো হো
কলঙ্ক নাকি আসলে সব ক্ষতের বিদ্রোহ
তোমায় নিয়ে চলো …
কেউ আসেনি তবু আকাশ করে কালো
ঝমঝমিয়ে উঠোনে যেদিন বৃষ্টি নেমে এল…
কথা রাখেনি কেউই! জানি, কথা না রাখাই ভালো
এতে হালকা হয় ; অযথা সব বাদুড়-ঝোলা মায়া
বুঝতে শেখায় দুর্দিনেতে, আত্মদীপই আলো!
আর দয়াময় চির সদাশয়- বাসেন তোমায় ভালো
সত্য যিনি অসত্যেতে, অমৃত বড় মৃত্যু মাঝে
অন্ধকারে সদাই যিনি পথ দেখানোর আলো
এই করেছো বোধহয় পরম হে,এই করেছো ভালো
আসবে না জয় জানতে পেরে তাই কি বৃষ্টি এল?
ভিজেই যখন সপাট! এবার তোমায় নিয়ে চলো
সংসারেতে সঙ্গে থেকো, যুদ্ধ মাঝে বুদ্ধে রেখো
রুদ্ধ সময় সুদ্ধ জুড়ে , শুদ্ধ করে আমায় এঁকো
সমবেত সে সাবেকি ধারার! ‘জন গণ মঙ্গল …’
জানই তো সব প্রভু! আমায় তোমায় নিয়ে চলো
মুক্তো যেহেতু তুমি
যেসব ছিল ছায়া, দুষ্ট পক্ষপাত!
টানা আটানায় টেনে আনার মিথ্যে অজুহাত
বুঝিনি ঠিক এমন না, আসলে তুমি ছল
যার, আলগা কতক ভেল্কি মাখা গল্পই সম্বল
ঝুটো! তবে সাচ্চা বটে! মুক্তো যেহেতু তুমি!
এতই সোজা?কেউ টের পাবেনা,ওসব সম্মোহিনীর
যা করেছো ভালোই বটে, এখনও মনে পড়ে…
দোষ তো আমার- আগলে রাখার, রোদ-বৃষ্টি-ঝড়ে
উসকে দিতেই আঁচের আগুন, ফুলকি ছুঁয়ে আলো…
পুরো কাহিনীই সাবেকি গড়ন! রহস্যে, জমকালো
যখন আমিও ছদ্মবেশী
ছড়িয়ে পড়েনি সংক্রমণ! ছুঁয়ে দেখবার অসুখ
ভাগ্যে পুট! কি আর করা? পাশেরঘর, সাপের মুখ
বোধহয় তা হওয়ার ছিল! যা হয় তা ভালো
কলঙ্কেরাই আসলে না কি, আঁধার পথে আলো
বোঝেনি সে হয়তো আজও, কেন চেয়েছি ক্ষমা
তার কাছেই! আসলে আমায় যে, করল প্রতারণা
যাই বলো না তুমি! তবে ঈশ্বর ঠিক আছে…
হাত থেকে হাতের মজাই তাকে তাড়িয়ে বেড়াচ্ছে
শুনলে এসব ভালোই লাগে। খুশিতে বলি, ঠিক…
আসলে সে এক সর্পিনী- যার যৌনতার বাতিক!
তবুও সে ভালো! তাকে তাই বড্ড ভালোবাসি…
চিনিয়ে দিল নকুল বলে, যখন আমিও ছদ্মবেশী |
এক ছক্কা পুটে
গল্প ওসব রূপকথার! আসলে এ হল মুখের লড়াই
যুক্ত এবং ওতোপ্রোত। সাত জার্মান, একলা জগাই
আরকিছু সব ঘাপটি মারা, সুযোগে থাকা ওৎ পেতে
অনেক বেশি রংবাহারি নিন্দা মুখর চর্চাতে
ধুশ্শালা সব ফালতু ধান্দাবাজির বান্দাগিরি যত
যত ধোপদুরস্ত কেতা যার অন্তরেতে ক্ষত…
তবু নটবরলাল হিরো! আস্ত তাজমহল টা বেচে
জানিনা এত ভাগের পরে, কি ঠেকবে ভাগশেষে…
স্টিগমা নেই কোনো। আর মনেও রাখিনা ক্ষোভ
যা হয়েছে ভালো! সে সব কিছু অযথা দুর্ভোগ
বোকা মানুষ বুঝি কম হন্যে হয়ে খুঁজে ফিরি তাকে
যা দেখেছি চমকে গেছি!
সাপের সাথে পিরিত করা এক ছক্কা পুটে…
যা ঘটেছে তারফলে
বুকের পাটা পেরেক পেটা, এত সহজে ভাঙছিনা
তোমার উপমা তুমি তোমার! আমিই যা আমার না
তাই আগে যা ছিলনা, রাখিনি তা কিছু তারপরেও
উড়োমেঘে মন রেখেছি, যা ঘটেছে তারফলে…
বোধহয়, যা হয়েছে তা ভালোই ! জানা হয়েছে তাতে
ঘোমটা মাথায় খেমটা আসলে কেমন করে নাচে
বেশ করেছ? করো! তোমায় বারণ করেছে কে
আমার নীতি আমার। তোমারটা, তোমার ইচ্ছে …
আজকাল ভালো আছি! আকাশে ফুটে থাকে তারা
গভীর আরও গভীরতার ধ্যানে যেন শূন্যে দিশেহারা