কাব্যক্রমে সুব্রত মিত্র

১| প্রাক্তন অনুচ্ছেদ

মরণের পরে নাহয় খোঁজ নিও প্রিয়
আমি তোমারই ছিলাম কেহ;
দক্ষিণ বাতায়ন রাখি খুলে সারাক্ষন
মরোমিয়ার সুরে তোমাকে কাছে পেয়েও আছি দূরে
এসেছিলে কাছে তুমি মোর হয়ে স্বপ্নের ভ্রমণ,
আমি জাগরুক অভিলাষ পথের দাবি
হিম ধরা বেদনার উষ্ণ সচল আঁখি,
রিক্ত মনে শিকল ভাঙ্গা সিক্ততা হয়ে ওঠে মায়াবী
আমি গ্রহদের সাথে পাশা খেলি দিনরাত
সুন্দর সুন্দর পৃথিবী নিরন্তর;নিরন্তর আমার বরাত
কাজল কালির মতো কালি ঢেলে রেখো কিছু
ভাষা কিছু পাইনি আজও নীরবতার;
মোহনার বাঁশি লয়ে ঠিকানায় সন্ধান কেউ করেনি তাহার,
চাপা পড়ে ধূলিকণা।
আমি হই আনমনা,
ফুলের পরাগে ভ্রমরের বিচ্ছেদ–
অলির কথা শুনে কথা ফোটে গলিতে—- —– —–
আপোষের দিবসে লিখি ভালোবেসে প্রেমের অনুচ্ছেদ।

২| বিলুপ্ত অঙ্কন

পেতশ্রী উঠবে জেগে;উঠবে জেগে কোন জন কঙ্কাল
সবাই সবার মতো করে হেঁটে চলে গন্তব্যের সন্ধ্যানে
পথ চলা শেষ হলে সন্ধ্যেরা জেগে ওঠে,
জেগে ওঠে মৌনতা ভাঙ্গা কিছু জিগ্যাসা
জিগ্যাসাগুলো উত্তর হয়না
জেনে ফেলা সংবাদে হয়না জন্ম কোনো নতুন বিষাদ।
অশৌচ গ্রহের দেশে জানি;কেহ না হয় দরবেশ
ভুল পথে প্রেম হলে প্রেমকে ছলনা বলে
কথার বিগ্রহ বিদ্রোহ থামিয়ে দেয়
মনোমালিন্যের ব্যথা সুধাবার তরে
কুশপুত্তলিকা সেজে রয় আমারই এই ঘরে।
কোনো প্রগতির কাছে আত্মসমর্পণ করতে এসেও পাইনি সুযোগ তার
গুরুগম্ভীর ভ্রমরের সাথে
ভাবের আদানপ্রদান হয়েছিল দিনেরাতে,
এইতো সোজা পথ চলে গেছে ঐদিকে
এখনও তো মোছেনা পৃথিবী সবার গল্প
আছে সেই কবি;আছে সেই কবিতা,
কালের নিয়মে কালগুলো সরে গেলেও
যায়নি সরে প্রথম প্রেমের আকুলতা।
এই দহনের গোপনে বেঁচে আছে আজও তাই বনলতা।
না পাওয়ার মাঝেও প্রেম এত বেঁচে থাকে জানা ছিল না,
জানা ছিল না কোন পশ্চাদের গান কানে দেবে শান আজও
মৃত্তিকার সুক্ষ ফাটলে বসে মূর্তির স্মৃতি দেখি আজও,
স্মৃতির সাথে বনলতা হাসে;আমি তারই ছবি আঁকি ।
সুধাবার ছিল তারে কিছু কথা
জল্পনা বাঁধে বাসা ঢেরাসই নীরবতা,
গ্রহের তামাশায় হয় মোর পরাজয়
অকুন্ঠ লিপ্ততায় হই আমি ক্ষিপ্ত করেনি সমর্থন সহজ সমন্বয়।
অনাদায়ের পাণ্ডুলিপি রয়ে গেছে তার ঘরে
জন্মের আগে ইতিহাস লেখা হয় জনমের
সাজানো বাগানের ফুলের সাথে বেমিশাল হয় মরমের।

৩| তোষণ তন্ত্র

সাঁকো গুলো ভেঙে সব সেতু হলো;
বলা হলো না,
নিষেধের দরিয়ায় ঘেরাটোপ নিভে যায়;
বলা হলো না,
দ্রুত গতি অবনতি আসলে তা জীবনের ক্ষতি
কালের নিয়মে আবেগকে ভুলে যায় প্রজন্মের দল হয়ে চঞ্চল,
স্বাদ নেই;গন্ধ নেই;লোভ নেই;ক্ষোভ নেই
এমন সকল তরলের সন্ধান দুস্কর,ইহার সূচনা বিরল।
নেতারা স্বরলিপি আঁকে নিজেদের মতো করে
মসৃণ রাস্তায় মরীচিকা হেসে রয়
ইমারত সাজায় তারা নিজেদের মতো করে
একা পড়ে থাকে বৃক্ষের সাক্ষী।
স্থির জল;
স্থির ঘাট
স্থির ছায়া শীতল,
কখনো তারা যায়নি হারিয়ে
পথ সরে যায়নি পথের পথ হতে দূরে।
সাঁকোর ঠিকানায় সেতু দিয়ে মনগড়া
মনমরা প্রজন্ম এখন সতেজ হবে
অহেতুক সাঁকো ভেঙে সেতু গড়া,
অহেতুক স্বপ্নের মরীচিকায় ছুটে চলা
ছুটে চলা আশ্রয়হীন মিথ্যের ঠিকানায়,
নীতির নির্ধারণ হবেনা আমরণ
প্রাপ্তির আঁচলে বাঁধা আছে ধ্বংসের সন্ধিক্ষণ।
ছাইয়ে ঢাকা আছে তুষের আগুন
ক্ষণিকের লালসায় সেতু দিয়ে মনগড়া নির্মাণ
আসলে তা খোলসের আগুন।
ফেসবুক দিয়ে আপনার মন্তব্য করুন
Spread the love

You may also like...

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

কপি করার অনুমতি নেই।