পাক্ষিক প্রতিযোগিতা পর্ব – ১৭
বিষয় – প্রতিমা নয়, প্রতি মা’তেই দুর্গা
তারিখ – ২২/১০/২০২০
নই আমি কল্পিত নারী
নই আমি রঞ্জিতা, নই আমি ছন্দে মেলানো কোন কাহিনী,
নই আমি সুরের ঝর্ণা ধারায় সৃষ্টি হওয়া সুখস্বপ্নের মানবী, আমি নই কল্পিত নারী।
জন্ম থেকে জ্বলছি নাড়ির টানে, অন্নহারা, সর্বহারা, বুভুক্ষার দলে,
আকুলি বিকুলি প্রাণে বেঁচে থাকা প্রাণান্তকর প্রয়াসে
কঙ্কালসার শরীরে কখনো পড়ে নুয়ে, তবুও রুদ্ধ হয় না চলার পথ,
রক্তচোষা মানুষগুলো চেয়ে থাকে লোলুপ দৃষ্টিতে,
প্রতিমার ছবি শুধু যাই দেখে, মৃন্ময়ী মাতা চিন্ময়ী রূপে।
ভালোবাসা জাগে যদি মনে, সংসার চেপে ধরে মলিনতার পথে, অনিশ্চিত ভবিষ্যতের -চোরাপথে,
জাগ্রত বিবেক হারিয়ে যাওয়া অন্ধকারের দেশে।
নারী বলেই কি এত জ্বালা, রক্তমাংসের দেহটা হয়ে যায় ভালবাসাহীন পুরুষের যৌন ক্ষুধার খেলাঘর,
চিন্ময়ী রূপের এই দেহটা হয়ে যায় অসহায় বিকিকিনির হাট।
সন্তান দল চেয়ে থাকে মুখের পানে, মাতৃত্বের বন্ধনের মায়া মমতায়, শুধুই আত্মসমর্পণ।
এগিয়ে চলি জীবনে যন্ত্রণায়, সুখ ভোগের আশাকে বিলীন করে।
শুধুই নিঃস্বার্থ, আত্মসমর্পণ, হয়না শেষ বেলা,
পূর্ণিমার চাঁদের আলোয় ধরে যায় শ্যাওলা,
চোখেতে পর্দা আসে নেমে, শুধু অন্ধকার, ঘোর অন্ধকার।
হঠাৎ দেখি চেয়ে কোন ফুটপাতে আছে পরে দেহ, শেষ রাত্রির শেষে, ভোরের আলো ফোটার অবকাশে,
উঠতে হবে এবার, দিন যে এসে গেছে, গর্জে ওঠার সময়, সব ভেঙে খান্ খান্ করে দিয়ে,
দশপ্রহরণধারিণীর রূপে, এতো কৈলাস নয়, লড়াই হবে মৃত্তিকার পথে, কৃত্তিম জীবন সংগ্রামের মেকি খোলস ভেঙে,
আপোষহীন সংগ্রাম কে সাথে করে, নতুন দেশে, নতুন প্রাণের সন্ধানে, শেষ রক্তবিন্দু দিয়ে,শুধু বেঁচে রবো আগামী দিনে।