সাপ্তাহিক ধারাবাহিক উপন্যাসে সোনালি (পর্ব – ৬৫)

রেকারিং ডেসিমাল

তো শুরু হল তোড়জোড়।
খাতা হাতে বসে পড়ল বউ, ছেলে, শ্বশুর, শ্বাশুড়ি।
হিসেব হল।
মূর্তি, আনা নেয়া, পুরোহিত, পুরোহিত কি ফর্দ করতে পারেন তার কিছু আন্দাজ, এবং নিমন্ত্রিত কারা হবেন সেই লিস্টি।

ডাক্তার বউ অবাক হয়ে দেখে, আর ডাক্তারি পড়ার সময় যেমন নোট নিতো তেমনি মনের খাতায় অবজারভেশন লেখে, পয়েন্ট টু বি নোটেড….

অফিস কাছারিতে যাকে বলে ম্যান ম্যানেজমেন্ট, তার কি দক্ষতা এই আগের প্রজন্মের বড় বউয়ের, ভাবা যায় না।
বয়সে বড় কাউকে, প্রণাম এবং চা, এবং “আসতে ত হবেই, আপনারা না এলে এত বড় কাজের সাহস পাই কি করে? ”
একটু ছোটদের কাউকে, ” দেখ রে, আমি ত আজকাল আর কিছুই পেরে উঠিনা। তোদের মত স্মার্ট কি আর বল?  তোরা ঘরবাইর কত্ত কিছু সামলাস। আমায় কিন্তু উদ্ধার করিস সোনা। তোদের ভরসায় এত বড় কাজের সাহস করেছি। বড়রা যেন নিন্দে না করে দেখিস। “

যিনি রাবীন্দ্রিক তসর পরিহিত কুটুম তাঁকে সামলাতে আরেক টাংগাইল মুগা পছন্দকরা কুটুম্বিনী। দু জনে দিব্যি বাঙ্গাল ভাষায় গল্পে রাত কেটে যাবে।
যারা পান চায়ের রসে ভক্ত, হ্যা হ্যা করে আড্ডা দেয়া ফাজিল আধুনিকা, যেমন কাকিরা, তাদের বোন দিদি, পাড়ার বন্ধুস্থানীয়া, তাদের আলাদা শোয়াবসার ঘর।
সবাইকে কাজ ভাগ করে দেয়া হল।
আরও বয়স্করা দাদু দিদার ঘরে আসর জমিয়েছেন।
ছোটরা আরও কুচিদের নিয়ে পাশে সেজকাকুর ঘর দখল।

প্রত্যেকেই ভাবছেন, আমায় ছাড়া ত হতই না খুকু দেবীর কার্য উদ্ধার।
খুকু দেবী, অধুনা শ্বাশুড়ির একটাই মস্ত বড় পছন্দের কাজ। এই এত মানুষের তৃপ্তি করে খাওয়ার আয়োজন করা। তার জন্য যা যা লাগে সব করতে তিনি রাজি।
বাজার, এবং রান্নার তদারকি। চা আর পান দফায় দফায়। যার যার মানানসই জলখাবার। পুজো দেখতে বসার জন্য পুজোর জায়গা ঘিরে নানান বসার ব্যবস্থা। সঙ্গে জায়েদের টেনে নিয়েছেন কাজে।

চলেছে সবকিছু।

এদিকে ঠাকুরমশাই সহদেব পণ্ডা নিষ্ঠাবান মানুষ, বাচ্চাদের মাকে নিয়ে কড়া নিয়মকানুন মেনে হোমযজ্ঞের ব্যবস্থা করছেন শোবার ঘরের সামনের বারান্দায়। সেইখানেই শ্যামা মায়ের মূর্তি জবার মালায় সাজানো আছে।
বাচ্চারা পিসি মাসি আম্মু সবার কোলে হাতে ব্যস্ত। আজ, মায়ের কাছে যাবো,  যাতে না বলার সুযোগ হয়।
সমস্ত দিকের সব আত্মীয় বন্ধু কুটুম বাড়িতে উপস্থিত। আর সবাই যার যার মত আড্ডায় আনন্দে মেতে আছেন।

বউমা পুজোর কাজ করতে করতে মনে মনে, “হ্যাটস অফ ” দ্যান এই মহিলাকে।
কোথায় কখন, মাথা নীচু করে, আহা তোমায় ছাড়া যে হবেই না, বলাটা কতখানি শক্তি এবং তীক্ষ্ণবুদ্ধি থাকলে তবেই করা যায়, দেখে দেখে মুগ্ধ হয় আধুনিক ডাক্তার।
ভাবে, করপোরেট ব্র‍্যান্ড অফিসে কাজ করলে অসাধারণ ম্যানেজমেন্ট পোস্ট হোল্ডার হতেন মানুষটি।

ফেসবুক দিয়ে আপনার মন্তব্য করুন
Spread the love

You may also like...

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

কপি করার অনুমতি নেই।