দিব্যি কাব্যিতে সীমিতা মুখোপাধ্যায়

সাদা পাতা
একটা ব্যর্থ-সকাল তাকিয়ে আছে
জলভরা আকাশের দিকে,
ছাতিমের বেতার-তরঙ্গ বয়ে আনছে
মেঘলাবেলার ঘ্রাণ, শিউলিঘর সেজে উঠছে
এক ছাপোষা-উচ্ছলতায়—
সেই সাদামাটা গেরস্থালী থেকে
ম্লান আলোর মতো চুঁইয়ে পড়ছি আমি,
নিচে জেগে আছে প্লাস্টিক-বাঁধানো পৃথিবী।
আশ্বিনের অযাচিত কুহু-র মতো
তুমি ফিরে আসবে এ-পাড়ায়—
এসব অবান্তরেও কলম আর নড়ছে না
দুটোমাত্র আঁচড় কাটার পর …
তে’তলার বারান্দাটা শুধু ঝুঁকে পড়ে দেখছে—
রাস্তা দিয়ে হেঁটে যাচ্ছে
ভিজে-সপসপে তরুণ-তরুণী।
রাহী
আমার অস্থিরবেলা থেকে শুরু হয়ে
কোথায় যেন চলে গেল একটি পথ, অনন্তলতায় ঘেরা।
নীল-সামিয়ানা আকাশ, ধানখেত শ্বাস নিচ্ছে হাওয়ায়,
আহ্লাদী সূর্যমুখীর দল তাকিয়ে আছে নির্নিমেষ,
কাদের যেন উঠোন ভরেছে ঝরা-শিউলির আলপনায়।
শান্ত হাঁসদিঘিতে ডুব দিয়ে সেই পথটি
সারা গায়ে মোরাম মেখে আবার ফিরে এল
অরণ্যঘেরা আমার হিমশীতল হৃদয়ে।
এই যাওয়া-আসার মাঝখানে যেটুকু পড়ে রইল
তাকে হয়তো প্রেম বল তোমরা।