কবিতায় সন্দীপ কুমার মিত্র

আগে তো যাবেই চলে

সেদিন ভরা অমাবস্যা
রোজকার মত মাটির ঘরে
দেয়ালের কোঠোরে জ্বলছে কুপিটা
আলো আঁধারে মেতেছে ঘরখানা॥

কিছু খাবার সাজিয়ে অনন্ত অপেক্ষায়
বসে আছে নুজীমা
কখন মনের মানুষ আসবে ঘরে ফিরে॥

সারাদিন কাঠ কেটে, হাটে বেচে
দুমুঠো চাল আর কিছু
আনাজের জোগার করে মানুষটা॥

নুজীমা তাই ফুটিয়ে বসে আছে
দুজনের পেটের আগুন নিভিয়ে
হৃদয় মনের কাছে এসে
সোহাগ মাখিয়ে একটু আদর-বাসায়
বাকি রাতটা কাটাবে বলে॥

এমন সময় শুকনো পাতায়
পায়ের আওয়াজ
কড়া হীন দরজা খোলার শব্দ
ঘরে এলো সে
যার সাথে জীবন সমুদ্রে ভেসেছে
কত হাতছানি এড়িয়ে—
শুধু কাছে থাক নিজের হয়ে
এই ভাবনাটুকুই সম্বল করে॥

রাতের খাওয়া সেরে একটা ক্লান্ত শরীর
এলিয়ে পড়লো কটা তক্তার ওপর
পাশে শুয়ে পরম সোহাগে
হাত বুলিয়ে দিতে দিতে কখন
ঘুম এসে ওদের নিখোঁজ করে দিয়েছে
আস্তো পৃথিবীর থেকে॥

ভোরের নরম আলোয়
যখন ভাঙলো ঘুমের রেশ
উঠে দেখে মনের মানুষটা
প্রস্তুত হয়েছে কুড়ুল নিয়ে
কাঠ কাটতে বনের পথে যাবে বলে
ওকে দেখে বলে উঠলো, যাই রে নুজীমা
পেটের ভাতের জোগাড় করতে হবে তো—

দুচোখ ভরে উঠলো জলে,
মনের ভেতর থেকে
কে যেন হাহাকার করে উঠলো
আগেই তো যাবেই চলে—
তবে এতো তাড়া কেন???

ফেসবুক দিয়ে আপনার মন্তব্য করুন
Spread the love

You may also like...

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

কপি করার অনুমতি নেই।