কবিতায় পদ্মা-যমুনা তে সিন্টু কুমার চৌধুরী

বৈশাখে, কালবৈশাখী
আকাশ জুড়ে ভবঘুরেদের উদ্ভ্রান্ত আনাগোনা
কখনও উত্তরে উৎপাত কখনও বা দক্ষিণে
শ্বেত বরণ কুমারী কৃষ্ণ-বরণ হতে
এখনও ঢের দেরী; কৈশোরের মায়াময়
দেহবলভে এখনও দুধ দুধ গন্ধ,
ঘুমন্ত রিপু গুলো এখনও জাগেনি
জাগো জাগো অবস্থায়!
জাগ্রত হতে এখনও অনেক সময় বাকি,
রূপ-লাবন্য ক্রমশ প্রকাশ্য ধাপে ধাপে
ধীরে ধীরে, এতেই রকের অভিজ্ঞ দৃষ্টি
বিশ্লেষণ করে কবে হবে যুবতী?
আর কখনই বা ধারণ করবে
কৃষ্ণ রূপ! যতই কৃষ্ণকায়া ততই
হৃষ্টপুষ্ট সুস্থসবল বংশধর!
আধো কৃষ্ণ আধো শ্বেত রূপ হঠাৎ
বদলে যায়, কৃষ্ণ হতে কৃষ্ণতর;
কৃষ্ণতর হতে কৃষ্ণতম,
গর্ভবতী কৃষ্ণকায়া স্থির হতে থাকে,
ভারী হতে থাকে দেহের ওজন,
বিন্দু হতে বৃহৎ।
প্রসব যন্ত্রণা বাড়তে থাকে একটু একটু করে
বসন্তের সাজানো গুছানো ঘরদোর
শয্যা বাগান নিমিষেই উদ্বেলিত হয়,
প্রসব যন্ত্রণাকাতর কৃষ্ণকায়া কাতরাতে থাকে
অবিরাম; সগর্জনে সবেগে
চারদিক লন্ডভন্ড করে, জন্মদিতেই……
স্থির শান্ত, ভীষণ শান্ত ক্লান্ত
কৃষ্ণকায়া হারায়।।