সাপ্তাহিক কোয়ার্ক ধারাবাহিক উপন্যাসে সুশোভন কাঞ্জিলাল (পর্ব – ৯৭)

সাতানোব্বই
বাবার গবেষণা অনুসারে ফ্লোরিন থেকে অক্সিজেন জেনন থেকে আয়োডিন জিঙ্ক থেকে কপার এবং মার্কারি থেকে গোল্ড পাওয়া যাবে Quarko ব্যবহার করে।এক্ষেত্রে Quarko অনুঘটকের কাজ করে। অনুঘটক হলো এমন এক পদার্থ যা কোনো কেমিক্যাল বি -অ্যাকশন কে প্রভাবিত করে কিন্তু নিজের পরিবর্তন হয়না। বাবা পঞ্চায়েত ফোল্ডারের মধ্যে তার পরীক্ষা পদ্ধতি বর্ণনা করে গেছেন খুব ছোট করে। আমি আমার স্বল্প কেমিস্ট্রির জ্ঞানের সাহায্যে বুঝলাম Quarko এমন একটা বিস্বয় কর ক্যাটালিস্ট বা অনুঘটক যা অন্যান্য অনুঘটকের থেকে আলাদা। এর ক্ষমতা খুব অদ্ভুত। কেন একে অদ্ভুত বলছি তা ব্যাখ্যা করলেই বোঝা যাবে। পৃথিবীতে যত এলিমেন্ট বা মৌলিক পদার্থ আছে তাদের প্রত্যেকের আলাদা করে সংখ্যা আছে।যাকে বলে অ্যাটোমিক নাম্বার। আসলে এই নম্বরটা ওই এলিমেন্টের আইডেন্টিটি বলা যায়। কোনো এলিমেন্টের ক্ষুদ্রতম কণা যা কোনো কেমিক্যাল
রিঅ্যাকশনে অংশগ্রহণ করে তাকেই বলে অ্যাটম বাংলায় পরমাণু। প্রত্যেক এলিমেন্টের পরমাণুর কেন্দ্রে থাকে প্রোটন খুব দৃঢ়ভাবে জোট বেঁধে। কোনো এলিমেন্টের পরমাণুর কেন্দ্রে যতগুলি প্রোটন থাকে সেটাই হল ওই এলিমেন্টের অ্যাটোমিক নাম্বার। যদি পরমাণুর কেন্দ্র থেকে একটি বা দুটি প্রোটন সরিয়ে দেওয়া হয় তালে এলামেন্টের চরিত্র পাল্টে যাবে। অর্থাৎ নতুন একটা এলিমেন্ট হয়ে যাবে। কোনো পরমাণুর কেন্দ্র থেকে একটা প্রোটন সরানো মানেই সেই অ্যাটোমিক স্ট্রাকচার ভেঙে নতুন অ্যাটোমিক স্ট্রাকচার সৃষ্টি হওয়া। Quarko
এই কাজটা করতে পারে। উদাহরণ দিলে বিষয়টা আরও পরিষ্কার হবে। ফ্লোরিন এলিমেন্টটার অ্যাটোমিক নাম্বার ৯ অর্থাৎ ফ্লোরিনের অ্যাটোমের কেন্দ্রে ৯ টা প্রোটন আছে। আবার অক্সিজেনের অ্যাটোমিক নাম্বার ৮মানে অক্সিজেনের অ্যাটোমের ক্ষেত্রে ৮ টি প্রোটন আছে। এখন ফ্লোরিন কেন্দ্র থেকে যদি একটি প্রোটন সরিয়ে দেওয়া হয় তালে ফ্লোরিন হয়ে যাবে অক্সিজেন। এই কারণে জেনোনের অ্যাটোমের কেন্দ্রের ৫৪ টি প্রোটনের থেকে একটি সরালেই জেনন হয়ে যাবে আয়োডিন। জিংক এর ৩০ টা প্রোটনের থেকে একটি কমলে হয়ে যাবে কপার। আবার মার্কারির অ্যাটোমের ক্ষেত্রে ৮০ টি প্রোটন থেকে একটি সরালেই সোনা হবে মার্কারি। কিন্তু পরমাণু বা অ্যাটোমের কেন্দ্র থেকে প্রোটন কমিয়ে দেওয়া খুব কঠিন কাজ এবং খুবই ব্যায় সাপেক্ষ। বাবার গবেষণা অনুযায়ী Quarko কে অনুঘটক রূপে ব্যবহার করে সহজ সহজে প্রোটন সরানোর কাজটা করা যায় এবং তার ব্যয় ধরা ছোয়ার মধ্যেই। তাই Quarko এর ক্ষমতাকে অবশ্যই অদ্ভুত বলতে হবে। যাই হোক বাবা বোধহয় কেবল ফ্লোরিন থেকে অক্সিজেন, জেনন থেকে আয়োডিন, জিংক থেকে কপার, এবং মারকারি থেকে সোনা এই চারটে এক্সপেরিমেন্ট সফলভাবে করে যেতে পেরেছিলেন।
যাইহোক আর কিছু বিশদে না বলে Q আর W লেখা ফোল্ডার দুটো নিয়ে বিশদে বলছি। কারণ এই দুটি ফোল্ডারই এই কাহিনিতে তাৎপর্যপূর্ণ টাংস্টেন এলিমেন্টের সংকেত হলো W। ও দিয়ে হয় Wales। এই Wales নামের ফোল্ডারটি পাঠোদ্ধার করে যা পেলাম তা হল- Discharged about fifteen volts per cm for twenty minutes between Tungsten and Iron teminals. Dipped in dielectric layer of paraffin oil Mercury as electrolyte. Quarko submerged in it. Aurum is detected in a viscous residue of C and Hg. এরপর আরও কয়েকটি লাইনে সংক্ষিপ্তভাবে লেখা আছে যে Aurum অর্থাৎ গোল্ড কিভাবে কলো আঠালো পদার্থ থেকে নিষ্কাশন করতে হবে। W ফোল্ডারের লেখাগুলোর অর্থ হলো প্যারাফিন অয়েল ও মারকারি একটি মিশ্রনে টাংস্টেন এবং লোহার দুটি ইলেকট্রড ডুবিয়ে 15 ভোল্ট /সেমি ইলেক্ট্রিসিটি পাঠালে সেই সঙ্গে Quarko কে ওই তরলে ডুবিয়ে রাখলে মিনিট 20 পরে একটি কালো রঙের চট চটে পদার্থ উৎপন্ন হবে যার মধ্যে সোনা,কার্বন, এবং মারকারি মিশে থাকবে। এরপর কিছু নির্দিষ্ট পদ্ধতি ব্যবহার করে সোনাকে নিষ্কাশন করা হবে। একথা বোঝা যাচ্ছে সোনা তাহলে তৈরি করা সম্ভব এবং তা বেশি ব্যয় সাপেক্ষও নয়। তাহলে Quarko সত্যি পরশপাথর বা ফিলজফারস স্টোন।
এবার Q দিয়ে Quito lekha ফোল্ডার থেকে যা উদ্ধার হলো তা এইরকম – Quarko the white frogs jump at first then hop ahed capture diagonally and promote to prince on the successful cimpletion of their journey. কথা গুলির অর্থ প্রথমে বুঝিনি। কেমন যেন হেয়ালি লাগছিলো। বার বার পড়তে পড়তে মাথার মইধ্যে বিদ্যুত খেলে গেল এবং বুকের ভেতরটা মোচড় দিয়ে উঠলো। কথা গুলি আমার চেনা এবং তা বাবার মুখ থেকে সোনা। আমি নিঃসন্দেহ হলাম যে বাবা নিজের আবিষ্কার বিভিন্ন ধাঁধার মাধ্যমে আমার জন্যই সংরক্ষণ করে গেছেন। বাকি সব ধাঁধা পৃথিবীর অন্য সব বুদ্ধিমান ও জ্ঞানী মানুষেরা সমাধান করতে পারলেও শেষ ধাঁধাটা একমাত্র আমার পক্ষে সমাধান সম্ভব। বাবা তাই সুচিন্তিত ভাবে ও সুপরিকল্পিত ভাবে সমস্ত ছকটা সাজিয়েছিলেন। বাবার কথা মনে করতেই চোখ দুটো জলে ভোরে উঠলো। দৃষ্টি ঝাঁপসা হয়ে গেলো। চোখ মুছে ঘড়ির দিকে তাকালাম। রাত আড়াইটে। আমার আর কিছু ভাবার নেই। প্রথম থেকে শেষটা সবটাই আমার কাছে এখন পরিষ্কার হয়ে গেছে। অনেক ভাবনা চিন্তার ফলে মাথাটা ঝাঁ ঝাঁ করছে। হয়তো ব্লাড প্রেসারও বেড়েছে। এখন একটু ঘুমানো দরকার। কিন্তু ঘুম কি আর হবে। নতুন আবিষ্কারের যেমন আনন্দ মিশ্রিত উত্তেজনা হয় আমারো ধাঁধার সব ছক বুঝতে পেরে ওরোমি একটা উত্তেজনা হচ্ছে। মুখে চোখে জল দিয়ে শান্ত হয়ে বসে শান্ত হয়ে বসে একটা সিগারেট ধরালাম। এতক্ষন যেসব জঞ্জাল ঘাঁটছিলাম সব সরিয়ে রাখলাম। কাল অনেক কাজ। পার্ক হোটেলে বাড়জেন্সটিন এর সাথে এপয়েন্টমেন্ট আছে। তার আগে একবার পুনিতকে দেখতে যেতে হবে। কালই হয়তো সমস্ত ঘটনাচক্রের ফাইনাল ডে। সিগারেট খেতে খেতে দেবার বোর্ড বের করে স্টাডি টেবিল এ সাজালাম। আমি এখায় দুপক্ষ হয়ে খেলতে লাগলাম। কিছুক্ষন খেলার পর অল্প ঝিমুনি ভাব এলো. বিছানায় লম্বা হলাম।শরীরটাকে রিলাক্স করার জন্য।