খামটা গ্রিটিংস কার্ডের মতো দেখতে। ওপরে আমার নাম লেখা। বাল্মীকিকে ডেকে জিজ্ঞাসা করতে ও বললো লেটার বক্সের থেকে ও এটা পেয়েছে। বুঝলাম পোস্টেজ ছাড়া চিঠি, মানে কেউ হাতে করে লেটার বক্সে দিয়ে গেছে। খামটা খুলে দেখি খুব সুন্দর একটা বার্থডে কার্ড। ভাবছি হঠাৎ কে পাঠালো। ভেতর টা খুলে দেখি লেখা আছে ” হ্যাপি বার্থডে রুডি “। ফ্রমের জায়গায় লেখা এ. বার্গস্টাইন। তার নীচে লেখা চিফ-সোয়াম। তারপর একটা লোগোর মতো সিলমোহর। একটা হেমিস্ফযারের মধ্যে চারটে অদ্ভুত সিম্বল। দেখতে এইরম :
এতক্ষনে আমার মনে পড়লো যে আমার জন্মদিন। কিন্তু এই লোকটা কি করে জানলো? বার্গস্টাইন নামটা তো আগে কখনো শুনিনি? যাইহোক আমার এই অচেনা ফলোয়ারেরা যেন সর্বদাই সচেতন ভাবে আমায় মনে করিয়ে দিতে চায় যে ওরা আমার আশেপাশেই আছে। ব্যাপারটা খুবই অস্বস্তিকর। জানিনা কতজন লোক আমায় ফলো করে চলেছে তারা সকলেই এক দলের না একাধিক দলের তাও জানিনা। সব দলেরই তো বিরুদ্ধ দল থাকে। চিফ সোওয়াম কথাটা পরে মনে হচ্ছে এটা একটা দল বা সংস্থা। তার আবার বিরুদ্ধ দল থাকে। তাহলে আমি কতজনের টার্গেট কে জানে। আচ্ছা সোওয়াম সংস্থা কি তালে শ্রেয়ানের অপহরণকারী? এরাই কি ব্যাংক ডাকাতি করেছে? বার্গস্টাইন সারনেমটা দেখে জার্মানি মনে হচ্ছে। আমার জ্ঞান বলছে ভদ্রলোক একজন জিউ জার্মান। সিম্বল গুলো আমি আগে দেখেছি। কিন্তু এখন ঠিক মনেকরতে পারছিনা। যতদূর মনে পড়ছে প্রাচীন কালে এলিমেন্ট বা কোম্পাউন্ড এর নাম এইরকম সিম্বল দিয়ে লেখা হোতো। কার্ডটা টেবিলএ ছুড়ে রেখে দিলাম। আর একটা চিন্তা এসে মাথায় ঢুকলো। যাইহোক আজ আমার জন্মদিন। আপনজন তো কেউ নেই আমার। জন্মদিন সেলিব্রেট করারও কেউ নেই। তাই আজকের দিনের সাথে আর পাঁচটা দিনের মৌলিক কোনো পার্থক্য নেই। জন্মদিনে বাবা ও মার সাথে কাটানো একটা দিনের স্মৃতি এখনও মনে পরে। ওই একটা দিনেই আমি এই দিনটির মাহাত্ম টের পেয়েছিলাম। যাইহোক বাড়ি যেতে হবে। যাওয়ার সময় একটা ফুলের তোরাও নিয়ে যাবো। আসলে মুখে না বলি, আজ আমার জন্মদিন সত্যটা জানা থাকলেও মনটায় কোমল ভাব বিরাজ করে। নিজে উপহার না পেলেও কাউকে দিয়েও তো তৃপ্তি পাওয়া যায়।
ট্যাক্সি ধরে লেকগার্ডেন্স এর উদ্দেশ্যে রওনা হলাম । বাড়ির সামনে গিয়ে ট্যাক্সি থেকে নামলাম। আগেরদিনের ইস্ত্রিওলাকে দেখলাম না। যদিও গাড়িটা আছে। লুলিয়াদের দোতলার এন্ট্রান্সএর কাছে গিয়ে দেখি কলাপসিবল গেটটা খোলা। কলিং বেলটা সদর দরজার কাছে ওরা পার হয়ে এসেছি। সটান উঠে যাওয়া ঠিক হবেনা ভেবে নীচে দাঁড়িয়েই লুলিয়াকে ফোন করলাম। একবার দুবার তিনবার করেও ফন ধরলোনা। গোটা বাড়িতে মেয়েটা একা থাকে। শ্রেয়ান উধাও হওয়ার পর থেকে সব কিছুতেই আমি উত্তেজিত হয়ে পড়ি। ভাবছি শ্রেয়ানের মতো লুলিয়াও কি কোনো বিপদে পড়লো? আমি আর দ্বিধা না করে সোজা ওপরে উঠে গেলাম। উঠে দেখি ওপরের ঘরের কাঠের দরজাটা ব্ন্ধ হাল্কা ঠেলা দিতেই খুলে গেলো। দরজায় লুলিয়ার নাম ধরে তিনবার ডাকলাম। কিন্তু কোনো সারা পেলাম না। তাই বাঁধ হয়ে দরজা দিয়ে ভেতরে ঢুকে পড়লাম। ফুলের তোরাটা বসার ঘরের টেবিল ই রেখে একটু জোরেই ডাকলাম। তাও কোনো সারা নেই। আমার বেশ ভয় করতে লাগলো। একেই মেয়েটার স্বামী নিখোঁজ বা মৃত, তার ওপর ওর কোনো বিপদ হল নাতো? আমি এবার সংকোচ ঝেড়ে ভেতরের ঘরে ঢুকলাম। এই ঘরটা ডাইনিং রুম বোঝা গেলো। এখানেও কেউ নেই। আমার চিন্তা আরোই বেড়ে গেলো। বা পাশের কিচেনে ঢুকে দেখলাম ফাঁকা ডাইনিং পাশে একটা দরজা দেখে ঢুকে পড়লাম। এটা একটা বেডরুম। লুলিয়াকে একা পেয়ে কেউ তুলে নিয়ে গেছে যখন এই দৃঢ় বিশ্বাস নিয়ে বেরিয়ে আসছি তখনি চোখ পড়লো অ্যাটাচড বাথরুমের দিকে, যে দৃশ্য দেখলাম যার জন্য একদম প্রস্তুত ছিলাম না। আমি হতবুদ্ধি হয়ে পড়লাম। দেখি বাথরুমএর চৌকাঠে লুলিয়া উপুড় হয়ে পরে আছে সম্পূর্ণ নগ্ন।