রাত একটায় আমি আর পুনিত বাড়ি থেকে বেরোলাম । গোপন অভিযানে । ঘুমন্ত লুলিয়াকে রেখে, বাইরে থেকে বাড়িতে তালা দিয়ে চললাম । আমার অবশ্য বিশেষ ইচ্ছা ছিল না । কিন্তু পুনিতই জোর করলো । বলল, “স্যার এই অভিযানের বিশেষ প্রয়োজন আছে । বাইরে একটা বাইক রাখা ছিল । ওটা পুনিতই নিয়ে এসেছে। আমরা বাইকে চেপে রওনা দিলাম । বাইকে চাপতেই শ্রেয়ানের কথা মনে পড়লো । ওর বাইকে চেপে কত ঘুরেছি । কিন্তু ওর বর্তমান কথা । ভেবে মনটা বিরূপও হয়ে উঠল । ছেলেটা যে আমার সঙ্গে প্রতারণা করতে পারে আমি দুঃস্বপ্নেও ভাবিনি । মন যেন মানতে চাইছে না যে শ্রেয়ান আগাগোড়া আমার সঙ্গে অভিনয় করে গেছে ।তাহলে এতদিন ধরে যত কথা হয়েছে, কত টুকরো টুকরো ঘটনা ঘটেছে, কত এনজয় করা মুহূর্ত কেটেছে ওর সঙ্গে, সবই মিথ্যা, ওর বাহ্যিক রূপ । মুখোশের আড়ালে আছে আর একটা মন । এখন মনে হচ্ছে ছেলেটা সত্যি সুবিধের নয়। আর্জমা তো এও বলেছিলো, শ্রেয়ানের নামে কোনো এক থানায় টাকা পয়সা লোপাট করার অভিযোগ লেখা হয়েছিল। বাইকে করে আমরা রুবি হসপিটাল ছড়িয়ে সায়েন্স সিটির সামনে চলে এসেছি । আমি কৌতূহলী হয়ে পুনিতকে জিজ্ঞাসা করলাম,”আমরা ধাপার মাঠের দিকে যাচ্ছি?”পুনিত কথার উত্তর না দিয়ে কেবল সম্মতিসূচক মাথা নাড়ল। বেশ জোরেই বাইক চালাচ্ছে পুনিত । রাস্তা একেবারে শুনশান । মাঝে মাঝে দু একটি গাড়ি হুস করে বেরিয়ে যাচ্ছে ।বেশ কিছুটা চলার পর বাইপাশ থেকে ডান দিকে ঘুরলো আমাদের বাইকটা । ওখানে দেখলাম পুলিশ এর একটা পেট্রল ভ্যান । রাস্তা আটকে আমাদের বাইকটাকে দাড়করানোর চেষ্টা করলো ।পুনিত পাস কাটিয়ে বাইক নিয়ে এগিয়ে গেল । পেছন ঘুরে দেখি পুলিশ গুলো বেশ তৎপর হয়ে উঠল । আমাদের পেছনে ধাওয়া করার জন্য প্রস্তুতি নিচ্ছে।
পুনিত কিছুটা এগিয়ে গিয়ে থামলো । পুনিত অপেক্ষা করতে লাগলো । পুলিশ ভ্যানটা মুখ ঘুরিয়ে আমাদের দিকে আসতে লাগলো । পুনিত আবার বাইকের গিয়ার্ চেঞ্জ করলো । অ্যাক্সিলেটরে চাপ দিয়ে বাইক ছোটানো শুরু করলো ।
পুলিশ এর ভ্যান এবার সত্যি সত্যি আমাদের পিছু ধাওয়া করলো । আমি কিছুতেই বুঝতে পারছিলাম না পুনিত বাইক থামিয়ে ওদের সাথে কথা বলে নিচ্ছে না কেন । জিজ্ঞাসাও করলাম সে কথা । কিন্তু কথার কোনো উত্তর দিলো না । বাইকের স্পিড আরও বারিয়ে দিলো । পুলিশ এর ভ্যান ও আরও স্পিড বাড়িয়ে দিলো । রাস্তা বেশ ফাঁকা তাই বাইক আর ভ্যান এর চোর পুলিশ খেলায় কোনো বাধা নেই বাইকের পেছনের হ্যান্ডেলটা শক্ত করে চেপে ধরলাম । একবার পরে চোট পাওয়ার অভিজ্ঞতা আছে । এবার রাস্তাটা আমার চেনা লাগলো । চেনা রাস্তা ধরে বাইকটা ছুটে এসে যেখানে থামলো সেই ভাঙা প্রাচীরের নোংরা ঢিপিও আমার চেনা । আগে এসেছি শ্রেয়ানের সাথে । কাবারি মাফিয়া রামদার আস্তানা এটা । আমাদের পেছন থেকে পুলিশ এর গাড়ির হেড লাইটটাও অন্ধকারকে ফালা ফালা করতে করতে আমাদের কাছে এসে দাঁড়ালো । টপাটপ দুটো সাদা পোশাকের পুলিশ নেমে এলো ভ্যান থেকে ।একজন গলা হাকিয়ে বলল, “এই শালা, এদিকে শোন ।”আমি গাড়ি থেকে নামলাম ।পুনিত বাইকটা স্ট্যান্ড করে বাইকটা থেকে নেমে দাঁড়ালো । পুনিত এগিয়ে গিয়ে নিজের পকেট থেকে আইডেন্টিডি কার্ড দেখালো । দুই পুলিশ একটু ভেবাচ্যাকা খেয়ে গেল । দাঁড়ানোর ভঙ্গি সংযত হয়ে গেল । একজন পুনিতকে স্যালুট করলো আরেকজন হ্যান্ডশেক করলো । তারপর দুজনের সঙ্গে গুজে গুজে করে কিসব কথা বলল । আমি হাত দশেক দূর থেকে কিছু বুঝলাম না । পুনিত হাত নেড়ে বেশ কিছুক্ষণ ওদের কি বোঝালো । ওই দুজন পুলিশও ঘাড় নেরে গাড়িতে উঠে ভ্যান ঘুরিয়ে চলে গেল । পুনিত আমার কাছে এলে আমি অবাক হয়ে জিজ্ঞাসা করলাম “কি হল বলতো?”পুনিত বলল,”ক্রমশ প্রকাশ্য “আর আপনার মনের ভিতরের পরের প্রশ্নটাও আগে দিয়ে দিচ্ছি । রামদা একটা দাগী মাল, ওর আস্তানা আমার জানা ।