সাপ্তাহিক কোয়ার্কো ধারাবাহিক উপন্যাসে সুশোভন কাঞ্জিলাল (পর্ব – ৫৪)

চুয়ান্নো

কাল থেকে আমার অফিস জয়েন করার কথা। তিনদিন সময় সীমার মধ্যে সমাধান করতে হলে অফিসের দায়টা এখন কাঁধে নিলে হবে না। তাই প্রথমেই আমি মুম্বাইয়ের আমার বস মিঃ পারলেকারের কাছে আরও তিনদিন ছুটি চাইলাম। উনি আমাকে খুব স্নেহ করেন। তাই আমার কিছু খোঁজ খবর নিয়ে ছুটি মঞ্জুর করলেন । অফিসের দায়টা সরিয়ে দিতে পারায় আমি এবার ধাঁধাতেই মনো সংযোগ করতে পারবো। ধাঁধাঁ সমাধানের ক্ষেত্রে মূল সমস্যা যেটা সেটা হল ধাঁধার সংখ্যা দুটো । একটা ধাঁধাঁ হলে মনোসংযোগ করা সুবিধে।
দুটো ধাঁধাঁ হোলে দুটো ধাঁধাই মনে চলে আসতে চায়। যাইহোক উপায় যখন নেই তখন এই সমস্যাকে সাথে নিয়েই এগোতে হবে। প্রথমে নির্দিষ্ট ফোল্ডারগুলো থেকে সমস্ত রেক্টাঙ্গুলের সিম্বল গুলো পর পর সাজিয়ে লিখলাম। কোনো প্যাটার্ন পাওয়া যায় কিনা দেখলাম। সিম্বলগুলো দেখতে যেমন তা হল –

বোঝা যাচ্ছে এটা আসল ধাঁধাঁ ।এই সিডিটাই আমার কাছে পৌঁছে দেওয়া হয়েছিল এক মহিলাকে ডঃ চোঙদারের স্ত্রী সাজিয়ে, তার হাত দিয়ে। আমার ধারণা সিওরলি এই সিডিটাই ব্যাংকের লকার থেকে ডাকাতি হয়েছিল। তাই এই ধাঁধাঁটা আগে সমাধান করতে হবে। এর বিনিময়ে ওরা শ্রেয়ানকে ছেড়ে দেবে। কিন্তু আরও একটা ধাঁধাও তো আছে। লেকে যে ধাঁধাঁ টা একটা বাচ্চা ছেলে আমার হাতে দিয়েছিল। ডঃ চোঙদার অপহৃত বা মৃত । তবুও ওটা আমাকে দেওয়া হয়েছিল। ওনার নাম কেন!তবে কি ওটা কোনো ক্লু? যাতে প্রথম ধাঁধাঁটা সমাধান করা যায়।সেই কাগজটা বের করে ভালো করে আর একটা কাগজে লিখে ফেললাম।
SUPRE mE SWANS SAfe GUArD THE TiME mACHINE! TRAVEL BACK In TIME In IT IN THE PATH SHoWN By THE LoRd.
সুপ্রিম সোয়ান যে রামকৃষ্ণ পরমহংস দেব তা ডঃ চোঙদারের বেডরুমে গিয়েই বুঝেছি। ছোট অক্ষরের লেখা লেটার গুলো আরেকবার পর পর লিখে নিলাম । m, e, r, i, m, b, n, o, y, o, d -এর মানে কি? টাইম মেশিনে চড়ে যেতে হবে। পথ দেখাবেন শ্রী রামকৃষ্ণ। এটা যদি ক্লু হয় তাহলে ক্লুটারও দুটো ভাগ ।স্মল লেটার গুলো মিলে কিছু একটা হবে আর কবিতার অর্থ আরেকটা ভাগ্। স্মল লেটার গুলো নিয়ে পারমুটেশন করে অনেকবার সাজালাম। তারপর?
অবশেষে পেলাম। এগারোটা স্মল লেটারকে একভাবে সাজিয়ে পেলাম i, n, m, y, b, e, d, r, o, o, m অর্থাৎ in my bedroom, যার মানে হল আমার শোবার ঘরে । কবিতার নীচে যেহেতু ডঃ চোঙদারের নাম ছিল তার মানে ডঃ চোঙদারের শোবার ঘরে। আর সুপ্রিম সোয়াম মানে রামকৃষ্ণ পরমহংসের ছবি তো দেখেই এসেছি । ব্যাস একটা হদিস পাওয়া গেল। ডঃ চোঙদারের ঘরেই টাইম মেশিন থাকার কথা আর তাতেই পথ দেখাবে রামকৃষ্ণ । আমাকে আর একবার ডঃ চোঙদারের বাড়ি যেতে হবে । ইশ আগেই যদি ধাঁধাটা সমাধান করতে পারতাম তাহলে তাহলে আজ সকালেই ডঃ চোঙদারের বেডরুমটা তন্ন তন্ন করে খুঁজে দেখতাম । মোবাইল তুলে লুলিয়াকে ফোন করতে গেলাম ফোনটা নিজেই বেজে উঠল ।আর্জমার ফোন। আর্জমা বলল শ্রেয়ানের ফোন লোকেট করা গেছে । শ্রেয়ানের লাস্ট ফোনটা যে টাওয়ারের নেটওয়ার্ক ব্যবহার করেছিল সেটা ছিল সায়েন্স সিটির আসে পাশে । ফোন এখন অফ । সিম খুলে ফেলেছে বোধহয় । আমি আর কিছু বললাম না । সাইন্স সিটির আসে পাশে শুনে মনে হচ্ছে জায়গাটা ধাপার ডাম্পিং গ্রাউন্ডএই হবে । আর্জমা বলল, ওর পুলিশ ফোর্স চিরুনি তল্লাশিতে বেরিয়ে পড়েছে। ওই টাওয়ারের গোটা রেঞ্জ জুড়ে তল্লাশি চালাবে । আমি ধাপার মাঠের ওপর জোর দিতে বললাম । আর্জমার ফোন শেষ হলে আমি লুলিয়াকে সব কথা বলে জানালাম যে ডঃ চোঙদারের বেডরুম আর একবার সার্চ করতে হবে আর সেটা করতে হবে এখুনি।

ফেসবুক দিয়ে আপনার মন্তব্য করুন
Spread the love

You may also like...

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

কপি করার অনুমতি নেই।