সাপ্তাহিক কোয়ার্ক ধারাবাহিক উপন্যাসে সুশোভন কাঞ্জিলাল (পর্ব – ১০৩)

একশাে তিন
উত্তেজিত আৰ্যম ফোন রেখে আমার দিকে তাকিয়ে বলল “ললিয়া জেল হাসপাতাল থেকে পালিয়েছে”। আমি বলে উঠলাম “সে কি? কেন? ওকে অপহরণ করা হয়নি তাে? গােকুল কুণ্ডু তাে এই কাজে সিদ্ধহস্ত”। আৰ্যৰ্মা কেমন যেন অন্যমনস্ক হয়েই বলল “না, না সেই সম্ভাবনা নেই”। আমি বললাম “জানিস তাে? আমার দৃঢ় বিশ্বাস এটা গােকুল কুণ্ডুরই কাজ। ও আমার পক্ষের লােকগুলােকে নিজের বন্দি বানিয়ে রাখতে চাইছে। কিন্তু কি লাভ? আমি তাে কোয়ার্কো নিজে ভােগ করতে চাইছি না। সরকারের হাতেই তুলে দিতে চাইছি। ওর যা প্রভাব প্রতিপত্তি ও তা খাটিয়ে সেখান থেকে নিতেও পারে”। আর্যৰ্মা অস্বস্তি সহকারে বলল “অর্ক, ফালতু কথা রাখ। ললিয়া কিন্তু সুবিধার মেয়েছেলে নয়। ও মরার জন্য নিজেই পালিয়েছে। হাসপাতালে অনেক নিরাপদে ছিল আমাদের দায়িত্বে। কিন্তু পিপীলিকার পাখা ওঠে মরিবার তরে। এখন কি হবে? নিজের দায়িত্ব নিজেকেই নিতে হবে”। আমি বললাম “আর্যৰ্মা, দেখত পুণিতের খবর কি? পুণিত নিরাপদে আছে তাে?” আৰ্যৰ্মা একটু থতমত খেয়ে বলল “কেন? ওর আবার কি হবে? হঠাৎ এমন কথা বলছিস কেন?” আমি উত্তর না দিয়ে আবার বললাম “দেখই না একবার হাসপাতালে খবর নিয়ে। ক্ষতিটাই বা কি? আমার সন্দেহ হচ্ছে গােকুলের দলের লােকেরা পুণিতকেও অপহরণ করেছে। আর্যৰ্মা মুখটা গম্ভীর করে অনিচ্ছা সত্ত্বেও ফোন করল হাসপাতালে। খুব সম্ভবত ওই হাসপাতালে আমার পরিচিত লােককে। আমার মুখের ভাব দেখে মনে হল আমার সন্দেহটাই সত্যি। আর্যর্মা ফোন রেখে আমাকে বলল “হা অর্ক, তুই ঠিকই বলেছিস। পুণিত হাসপাতালের কাউকে কিছু না বলে বেপাত্তা হয়েছে”। আমি ওকে থামিয়ে বললাম “না, ওকে গােকুল কুণ্ডুর লােক অপহরণ করেছে”। কথাটা আর্মার আই.পি.এস সুলভ ইগােতে আঘাত লাগল। ও উত্তেজিত হয়ে বলল “আরে স্টুপিড, ওরা তাে গােকুল কুণ্ডুর বন্দিই ছিল। তাহলে গােকুল কুণ্ডু ওদের অপহরণ করবে ১৫১
কেন?” বেতালদা আর আৰ্যমার সঙ্গে আসা পুলিশের লােক নৌকার গলুই-এর দিকে দাঁড়িয়ে ছিল। আমি আর আর্যৰ্মা নৌকার ঘরের মধ্যে ছিলাম। আর্যৰ্মা কেঁকের মাথায় কথাগুলাে বলে ফেলে তাড়াতাড়ি চাপা দেওয়ার চেষ্টা করল। |
আর্যমা ও আমার কথােপকথন নৌকার মধ্যে যে ঘেরা ঘর থাকে তার মধ্যেই হচ্ছিল। বেতালদা বা অন্য কারও শুনতে পাওয়ার কথাই নয়। তবু আৰ্যৰ্মা আমাকে ওর কথাগুলাের ব্যাখ্যা দেওয়ার চেষ্টা করতে যাচ্ছিল। কিন্তু গােটা ব্যাপারটাই আমার কাছে দিনের আলাের মতাে পরিষ্কার। তাই আমি আমাকে আর কিছু বলার সুযােগ না দিয়ে বললাম “আর্যৰ্মা তুই যেটা বললি সেটা আমি নিজেই বুঝেছি। গােকুল কুণ্ডু হাসপাতালের অছিলায় ললিয়া এবং পুণিতকে বন্দি করে রেখেছে। আর সেই কাজে মদত দিয়েছিস তুই”। আর্যমা কিছু বলার চেষ্টা করতেই আমি আবার থামিয়ে বললাম “আর্যমা, আই ডােন্ট ওয়ান্ট এনি এক্সপ্লানেশন ফ্রম ইউ। তুই কি করেছিস, কেন করেছিস সবই এখন আমার জানা হয়ে গেছে। আর সঙ্গে এটাও বুঝেছি যে তুই পরিস্থিতির শিকার। যা করেছিস তাের ভাগ্য তােকে বাধ্য করেছে সেই সব করতে। আর একটা চমকে দেওয়ার খবর আমি জেনেছি, মানে কার্যকারণ সম্পর্ক এনালিসিস করে, তুই ছােট থেকেই গােকুল কুণ্ডুর আস্তাবলে মানুষ। এটা অনুমান হলেও আমি জানি এটা নির্ভুল। গােকুল কুণ্ডু সুযােগ বুঝে তােকে এই কেসে কাজে লাগিয়েছে। তাের ওপর সন্দেহ করা খুব কঠিন ছিল। যেহেতু তাের সঙ্গে আমার দারুণ বন্ধুত্ব তাই তাের সম্বন্ধে এমন একটা ধারণা করা খুব কঠিন ছিল। প্রথমে একটা প্রাথমিক ধারণা করে তারপর ঘটনা পরম্পরা ব্যাখ্যা করে বর্তমান সিদ্ধান্তে এসেছি। তাের ওপর প্রথম সন্দেহ হয় যখন ব্যাংক ডাকাতির ব্যাপারে তুই পুলিশ রিপাের্টটা আমাকে পাঠাস। একটা সাদা পেজের ফোটোকপি ছিল। পুলিশ রিপাের্ট লাইন টানা খাতায় লেখা হয়। তখনই বুঝলাম রিপাের্টটা অফিসিয়াল নয়। তারপর সন্দেহ দৃঢ় হয় যখন আমার ফোনে আসা প্রাইভেট নাম্বার কার সেটা বের করতে ঘুরিয়ে অস্বীকার করলি। তুই বললি প্রাইভেট নাম্বার ট্রেস করতে অনেক সরকারি এবং টেলিকম কোম্পানির ফর্মালিটি মেনটেন করতে হবে। আমি জানি পুলিশ ডিপার্টমেন্টের যে পজিশনে তুই আছিস তাের কাছে এই কাজ অতি সহজ। ক্রাইমের ব্যাপারে পুলিশ যে সাহায্য চায়, প্রত্যেক সংস্থার দায়িত্ব সে ব্যাপারে সাহায্য করা। বুঝলাম যে ফোন করেছে সে তাের পরিচিত। সুতরাং তুই চাস না যে তার নামটা আমি জেনে ফেলি। কিন্তু কেন? এটাই বুঝতে পারছিলাম না। তােকে আমি যতটুকু চিনি এবং হিউম্যান সাইকোলজি যেটুকু বুঝি, তার সুবাদে এটা জানি যে টাকা কিংবা ক্ষমতার লােভে এইসব করবি না। এইখানে এসে আমি থমকেছিলাম”।