T3 || আমার উমা || বিশেষ সংখ্যায় সায়ন্তী কর

গোপন প্রতিশ্রুতি

যখন বাংলোতে ফিরেলাম তখন ঘড়ির কাটা সাতটা ছুই ছুই। পাহাড় মোড়া শহরটাতে তখন বেশ গভীর রাত। দিনের শেষে সারাদিনের ক্লান্তিতে তবু ছিল অনেকটা তৃপ্তির স্বাদ। শেষ পর্যন্ত খোঁজ পাওয়া গেল।
আমি নীল। দিদি জামাইবাবুর কাছে এসেছি আজ দিন তিনেক হলো। শহরে আমার অফিসে ক্রমশ উঁচু হতে থাকা ফাইলের সারিকে উপেক্ষা করে, চূড়ান্ত ব্যস্ততার মাঝে পালিয়ে আসা যার জন্য, তার দেখা পেলাম আজ।
অফিসে অনিমেষদা সেইদিন যেই ব্যাগটা কুড়িয়ে পেল, অনায়াসে তা জমা দিয়ে দেওয়া যেত থানাতে। কৌতূহল বশে সকলের মতো ব্যাগ হাতড়াতে গিয়ে লুকিয়ে পাওয়া চিঠিটার কথা সেদিন কাউকে বলতে বড় লজ্জা করেছিল। নিজের প্রতি। কিছু মানুষের প্রতি, আমার প্রিয় শহরের প্রতি তীব্র ক্ষোভ, দুঃখ থেকে জেদ চেপে বসল, ঠিকানাটা নিজেই খুঁজে বের করব।
অফিসে একটা মনগড়া অজুহাত দিয়ে, সবাইকে অবাক করেই বেরিয়ে পড়লাম। ঠিকানাটা খুঁজতে বেগ পেতে হয়নি। জামাইবাবুর কাজের সূত্রে পাহাড়ি গ্রামই সেই অভিমানী দেশ। যখন সব কিছু সমেত ব্যাগটা যখন ফিরিয়ে দিলাম। ওর দুচোখ বেয়ে জল পড়ছিল।
পাহাড়ি সহজ সরল ছেলেটা অনেক স্বপ্ন নিয়ে শহরে এসেছিল। ওর লুকানো চিঠিতে লেখা ছিল শহুরে মানুষের ওর ওপর অত্যাচারের গল্প। শহরের জটিলতা, অহংকার, অন্ধকার মানসিকতা, অবহেলার গল্প ফুটে উঠেছিল ওর লেখা সেই চিঠিতে। যাকে ভুল প্রমাণ করতে আমি নীল আজ দৌড়ে এসেছি এখানে। ওকে বোঝাতে চাইছি শহরের ওপর যেন ও ভরসা হারিয়ে না ফেলে। শহুরে মানুষও ঠিক নিজেকে ছাড়াও অন্যকে ভালোবাসতে জানে।
ভাবতে ভাবতে কখন যে ভোর হয়ে গেল। আলার্মটা বেজে উঠলো হঠাৎ। আজ তো মহালয়া। শহর ডাকছে, ফিরতে হবে খুব তাড়াতাড়ি, অনেকটা ভাললাগা নিয়ে।

ফেসবুক দিয়ে আপনার মন্তব্য করুন
Spread the love

You may also like...

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

কপি করার অনুমতি নেই।