সাপ্তাহিক কোয়ার্কো ধারাবাহিক উপন্যাসে সুশোভন কাঞ্জিলাল (পর্ব – ৪২)

বিয়াল্লিশ

সময় কিভাবে ঝড়ের বেগে বয়ে গেল টেরই পেলাম না। যারা বিজ্ঞান জানে না, তাঁদের রিলেটিভিটি বোঝানোর জন্য আইনস্টাইন যে সুন্দর উপমা ব্যবহার করতেন, আমার ক্ষেত্রে সেটাই মিলে গেল। তিনি বলতেন সুন্দরী বান্ধবীর সঙ্গে গল্প করার ক্ষেত্রে সময় দ্রুত বয়ে যায়, একঘন্টা কে মনে হয় এক মিনিট। কিন্তু গরম স্টোভে আঙ্গুল রাখার ক্ষেত্রে সময় ধীরে বয়। অসাধারণ সুন্দর একটা সাউথইন্ডিয়ান ডিশ খেলাম। হোটেলের মতো নয় কিন্তু খুব সুন্দর। আমি বাড়িতে বানানো সাউথ ইন্ডিয়ান ফুড কখনো খাইনি। পরিমানে কম খেলেও সবকটা আইটেমই টেস্ট করেছি। দারুণ লাগলো। তবে তার থেকেও ভালো লাগল লুলিয়ার সঙ্গে আড্ডা। মেয়েটা খুব স্পোর্টিং। ও যে এতো রসিক তা আমি আগে বুঝিনি। আর সাধারণ বা কারেন্ট অ্যাফেয়ার্স এর ব্যাপারেও বেশ ওয়াকিবহাল। অনেকটা শ্রেয়ানের মতোই। তাই চুটিয়ে গল্প হল আমাদের। ঘড়ির দিকে তাকিয়ে দেখি পাঁচটা বাজে। ডাইনিং এ খাওয়া দাওয়া করে বসার ঘরে এসে আড্ডা মারছিলাম আমরা। খাওয়ার সময় মিষ্টি খেতে পারিনি বলে এখন খেতে হচ্ছে। নারকেল, দুধ, আর চালের গুঁড়ো দিয়ে কি দারুন একটা মিষ্টি বানিয়েছে। চেটে পুটে খেয়ে নিলাম। লুলিয়া হঠাৎ বলে উঠল যে ওকে মামার বাড়ি যেতে হবে। ছেলেটা ওখানেই আছে। আমি ইতস্তত করে ওঠার জন্য প্রস্তুত হলাম। ও তখন বললো, “আরেকটু বসো না আমি তো সাতটায় বেরোবো “। আমি ট্যাক্সি করেই তো যাবো, তোমাকে গড়িয়াহাট বা ঢাকুরিয়া অব্দি লিফ্ট দিয়ে দেব। প্রস্তাবটা ভালো লাগলেও বিচার বুদ্ধি সায় দিলো না। আমি একটা কাজের অজুহাত দিয়ে। কৃতজ্ঞতা জানিয়ে ওর বাড়ি থেকে বেরিয়ে এলাম। মুখ আর মেজাজ দুটোই বেশ মিষ্টি হয়ে আছে। বড় রাস্তায় উঠে একটা মিষ্টি পান খেয়ে ট্যাক্সি ডেকে উঠে পড়লাম। ঘড়িটা বেশ সুন্দর হয়েছে। কিডন্যাপিং এর সময় যে ঘড়িটা খাওয়া গেছিলো তার পর আর কেনা হয়নি। সময় সুযোগ কোনোটাই হয়নি। হাতটা খালি ছিল। লুলিয়া সেটা ঠিক লক্ষ্য করেছিল চোখ আছে মেয়েটার।
ট্যাক্সির পেছনের সিটে হেলান দিয়ে লুলিয়ার সঙ্গে সময় কাটানোর সুখস্মৃতিতে ডুবে ছিলাম। হঠাৎ প্যান্টের ভিতর সুড়সুড়ি লাগলো। ফোনটা আমি সব সময় পকেটেই রাখি ভাইব্রেসনমোড দিয়ে। বের করে দেখি প্রাইভেট নাম্বার। চট করে মাথায় এলো যে শ্রেয়ান এর অপহরণকারীরা এরকমই একটা প্রাইভেট নাম্বার থেকে লুলিয়াকে ফন করেছিল। ফোনটা সঙ্গে সঙ্গেই ধরলাম। ভেবেছিলাম কেউ ইংলিশ বা জার্মান ভাষায় কথা বলবে। কিন্তু স্পষ্ট বাংলায় বললো, “মি অর্ক, শুভ জন্মদিন। দিনটা তো আজ ভালোই কাটালেন”। আমি চমকে উঠে হতবাক হয়েগেলাম। মানে শয়তান গুলো আমায় ছায়ার মতো ফলো করছে। যতটা সম্ভব শান্ত হয়ে বললাম, “কে বলছেন কি চাই আপনার?”। ও প্রান্ত থেকে বললো, “ভেরিগুড। ডাইরেক্ট প্রশ্ন করেছেন? বাজে কথা হেজিয়ে লাভ নেই। আমিও ডাইরেক্ট বলি ধাঁধা গুলোর সমাধান চাই। নিশ্চই বুঝতে পারছেন কিসের কথা বলছি? আমরা এটাও জানি ধাঁধার সমাধান করলে কি পাওয়া যাবে তা আপনি জানেন না। আপাতত আপনার জানার জানার দরকার নেই। আমরা অবশ্যই জানি। আপনার পক্ষে এটাই মঙ্গল যে আপনি আমাদের সাহায্য করুন। আপনি যদি বুদ্ধিমান হন তবে গোয়ার্তুমি না করে আমাদের কথা মতো চলবেন। ধাঁধার সমাধান করে আমাদের পথ দেখান। আমরাও আমাদের কার্যসিদ্ধি করে নিই। তবে হ্যাঁ আপনাকেও বঞ্চিত করবো না। যথা যথ পারিশ্রমিক আপনি পাবেন। রাগে আমার গা রি রি করছিলো। লোকটার স্পর্ধা দেখে আমি স্তম্ভিত। আমি বেশ উত্তেজিত হয়েই বললাম, “হু দা হেল আরে ইউ? হাউ ডেয়ার টু টক্ মি লাইক দিস?”। লোকটা অট্ট হাসি হেসে বললো, “আই ডেযার বিকজ ইওর ডিয়ার ওয়ান ইস ইনশাআল্লাহ আওযার ক্যাপাসিটি। এম আই ক্লিয়ার? “আমি একটু সংযত হয়ে বললাম, “দেখুন টু টেল দা ট্রুথ, আমি এখনও চেষ্টা করে চলেছি, কিন্তু এখনও কিছু করে উঠতে পারিনি। তবে পুরো বেপারটা যদি আমাকে পরিষ্কার করে বলেন তবে হওতো ধাঁধা গুলো জলদি সল্ভ করতে পারবো”। লোকটা বললো, “সময় হলে সব জানতে পারবেন। এখন আর ভাবুন আর ভাবুন মন দিয়ে ভাবুন “। অট্টহাসি হেসে লোকটা ফোনটা রেখে দিলো।

ক্রমশ…

ফেসবুক দিয়ে আপনার মন্তব্য করুন
Spread the love

You may also like...

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

কপি করার অনুমতি নেই।