তাড়াতাড়ি সামনের লাইট পোস্টের আলোর নিচে এসে ঘটি গরমগুলো ঠোঙা থেকে ফেলে কাগজটা খুলে দেখলাম। দেখলাম সত্যি ওটা আমার উদ্দেশ্যে লেখা একটা চিঠি। চিঠি না বলে ওকে মেসেজ বলাই ভালো। ইংলিশে লেখা ছিল -Mr choudhury “SUPREmE SWANS SAFe GUArD THE TIME mACHINE ! TRVEL bACK IN TiME In IT IN THE PATH SHOWN By THE LORD”
Dr. K. P chongdar
নীচে নামটা দেখে চমকে গেলাম। ডঃ চোঙদার !কিন্তু উনি তো মৃত নাকি ওটাও সাজানো ঘটনা? হতেও তো পারে। আমি তো শুধু লোক মুখেই শুনেছি। ডঃ চোঙদার যে মারা গেছে তার তো কোনো প্রমান পাইনি। উনি কি তাহলে শ্রেয়ানের মতো ওদের হাতে বন্দী? একই গ্রুপ কি ওদের দুজনকেই কিডন্যাপ করেছে? নাকি উনি সত্যি মৃত। ওনার নাম করে অন্য কেউ মেসেজ পাঠিয়েছে? না এভাবে মাঝ রাস্তায় এসব নিয়ে ভেবে লাভ নেই। আমি কি বাড়ি ফিরে যাবো? ব্যাপারটা নিয়ে ভাবতে হবে। এতো দূর যখন এসেছি তখন লুলিয়ার সঙ্গে দেখা করেই যাই। ওকে এই ব্যাপারটা বলতে হবে। শ্রেয়ান থাকলে ওর সঙ্গেই আলোচনা করা যেত। ছেলেটার মাথা খুব শার্প। ওর অভাব টা প্রতি পদে টের পাই। কোথায় আছে কেমন আছে কে জানে। সেদিনের অ্যাক্সিডেন্ট এর জন্য সত্যি ওর কিছু হয়নি তো? আমি পেছনে বসে যদি চোট পেয়ে থাকি। তাহলে ওতো সামনে ছিল। ওর অনেক বেশি চোট লাগবে। চোঙদারের চিঠির কোথাও মাথায় ঘুরছে। ডঃ চোঙদারের চিঠিটা আমায় একটা জোর ধাক্কা দিলো। আমার চিন্তা গুলো যে পথ ধরে এগোচ্ছিল তা সব এলোমেলো হয়ে গেলো। আবার নতুন করে ভাবতে হবে
একটা সিগারেট কিনে ধরালাম। বুদ্ধির গোড়ায় ধোঁয়া দিতে হবে। লুলিয়ার বাড়ির কাছে চলে এসেছি সিগারেটটা ফেলে দিলাম। বাড়িটার কাছে গিয়ে দেখলাম পুরো বাড়িটাই অন্ধকার। আগের দিনও একতলায় তালা দেওয়া ছিল। আজও তাই। পেছনের দরজার দিকে গ্যারেজ পেরিয়ে গিয়ে দেখলাম দোতলার কোলাপ্সিবল গেটেও তালা দেওয়া। তার মানে লুলিয়াই বাড়ি নেই। কি করা যায়। ওয়েট করবো কিনা ভাবছি। বাজে প্রায় সাড়ে সাতটা। মিনিট পনেরো ওয়েট করার পর আর ধৈর্য্য কুলালো না। ঘটি গরম চিঠি মন টানছে। যতক্ষণ ঘরে গিয়ে একাগ্র চিত্তে ওটা নিয়ে না ভাবছি শান্তি হচ্ছে না। একটু চিন্তা করে নিজের ভিসিটিং কার্ড তা তলায় গুঁজে দিয়ে এলাম। লুলিয়ার তালা খোলার সময় ওটা চোখে পড়বে। মেনগেট লাগিয়ে বাড়ি থেকে বের হয়ে গেলাম। দুটো বাড়ি ছেড়ে উল্টো দিকে ঠেলা নিয়ে একটা ইস্ত্রিওয়ালা দাঁড়িয়ে ছিল। ভাবলাম লুলিয়া যদি ভিসিটিং কার্ড তা কোনো ভাবে মিস করে এই ইস্ত্রিওলাকে একটা কার্ড দিয়ে বলে যাই। কিন্তু ইস্ত্রিওয়ালা জানালো ওই বাড়িতে লুলিয়া বলে কোনো ম্যাডাম থাকে না। আমি বললাম “দোতলায় একটা ফ্যামিলি থাকতো না?”লোকটা হয়তো ভালো মুডে নেই স্বভাবত খেঁচা। বলল, “ওতো শত জানিনা বাপু । একটা বুড়ো থাকে দেখেছি। একটা কচি মেয়েও থাকে তার নাম লিনা না কি যেন। আর একটা চাকর থাকে বোধহয়। ওরা কারোর সঙ্গেই মিশতো না। কিন্তু কে কোন তলায় থাকে ওতো শত বলতে পারবো না”। বুঝলাম লুলিয়া মাস দুয়েক এসেছে তাই এই খেচা কার্তিক ওদের খবর জানেনা। যাইহোক বাড়ি ফেরার জন্য প্রস্তুত হলাম। খুঁজতে খুঁজতে একটা ট্যাক্সি পেয়ে সেটায় চেপে বাড়ি ফিরে এলাম।