সাপ্তাহিক কোয়ার্কো ধারাবাহিক উপন্যাসে সুশোভন কাঞ্জিলাল (পর্ব – ৩২)

বত্রিশ

আরে সত্যি তো !আমার তো পেলভিক গার্ডেল ফ্র্যাকচার হয়েছে। আমার পক্ষে উঠে দাঁড়ানো সম্ভবই না এখন। কিন্তু এটা কি করে সম্ভব হল?
প্লাস্টারের মধ্যেই হাতটা নেড়ে দেখলাম যে কনুইতে তো কোনো ব্যথা অনুভব করছি না। বাল্মীকিকে ড্রয়িং রুমে রাখা টুল বক্স থেকে হেক্সো ব্লেডটা আনতে বললাম। প্লাস্টারটা ছিঁড়ে দেখলাম যা সন্দেহ করেছি তাই। আমার কনুই একেবারে ঠিক আছে। দুবার হাত ভাঁজ করে আর একবার হাত ঝটকা দিয়ে বুঝলাম যে আমার হাত একেবারে ঠিক আছে। এবার মাথায় যেখানে দুটো স্টিচ পড়েছে সেখানে হাত দিয়ে টিপে দেখলাম। আঃ এখানে ব্যাথা লাগছে। মাথা হয়ত ফেটেছে। তবে স্টিচ দুটো ফলস হতে পারে। মাথার ব্যাণ্ডেজটা খোলার সাহস পেলাম না। তার মানে আমাকে একদিন বোকা বানানো হয়েছে। আমি নিজেকে সামলাতে পারলাম না। রেগে চিৎকার করে উঠলাম “ইউ হ্যাভ মেড মেড মি ফুল! শালা শয়তানের বাচ্চা!” হঠাৎ বাইরের দরজা কলিং বেল বেজে উঠল! বাল্মীকি বোধহয় দরজা খুলল। কয়েক সেকেন্ডের মধ্যে হাঁফাতে হাঁফাতে ঘরে ঢুকলো লুলিয়া। আমি অবাক ও উদ্বিগ্ন হয়ে ওর মুখের দিকে তাকালাম। লুলিয়া বলে উঠল বলে উঠল, “অর্ক, শ্রেয়ান হ্যাড বিন কিডন্যাপড “। আমার বুকটা ধড়াস করে উঠল। কিন্তু ভাবলাম খুব স্বাভাবিক। আমাকে ভুল বুঝিয়ে আটকে রেখে সেই ফাঁকে শ্রেয়ানকে কিডন্যাপ করা হয়েছে। লুলিয়া এত এক্সাইটেড হয়ে পড়েছে এবং সেই সঙ্গে ভয়ও পেয়েছে যে ওর শরীর কাঁপছে। আমি ওকে স্বাভাবিক করার জন্য ধরে খাটে বসালাম। বাল্মীকিকে ডেকে এক গ্লাস জল আনতে বললাম। জল খেয়ে একটু সুস্থ হয়ে, লুলিয়া এক নিঃশ্বাসে যা বলে গেল তা হল কেউ ওকে ফোন করে বলে যে তারা শ্রেয়ানকে কিডন্যাপ করেছে। অ্যাকসিডেন্টের পর যে নার্সিংহোমে আমাদের নিয়ে যাওয়া হয়েছিল সেটা নাকি ভুয়ো। আমার মাথা ফাটা আর কিছু জায়গায় ছড়ে যাওয়া ছাড়া আর কিছুই হয়নি। আমাকে তিনদিন কোমড়ে বেঁধে রাখা হয়েছিল। শ্রেয়ানের কাকাও একজন ভুয়োলোক। সেটা লুলিয়াকে মিসগাইড করার জন্য। শ্রেয়ানকে অজ্ঞান অবস্থাতেই তুলে নিয়ে গেছে। আর জগাকে মৃত অবস্থাতেই সরিয়ে ফেলা হয়েছে। মানে লাশ গুম করা হয়েছে। আমার সাথে যেহেতু যোগা যোগ করতে পারছে না ফোনে তাই লুলিয়াকে বলেছে এইসব কথা জেন আমাকে জানিয়ে দেয়।
লুলিয়াকে ওরা আরো যেসব কথা জানিয়েছে তার মধ্যে সব থেকে সবচেয়ে অবাক করার মতো বিষয় হল ওরা আমাকে একটি নির্দিষ্ট প্রস্তাব। আমার কাছে যে সিডিটা আছে তাঁর ধাঁধাটা উদ্ধার করে আমাকে তাঁদের কাছে জানাতে হবে। ওরা নাকি আমার নিজের লোক। মানে আমার বাবার দলের লোক। ওরা চায় আমি ওদের দলে জয়েন করি। ওরা নাকি একটা জিনিস পাওয়ার জন্য মরিয়া চেষ্টা চালাচ্ছে যেটার কথা ওরা লুলিয়াকে বলবে না। সরাসরি আমাকে জানাতে চায়। লুলিয়া যখন আমাকে ছেড়ে বাড়ি ফিরছিল তখনি ওই ফোনটা পায়। সব শুনে ও ভয় পেয়ে ট্যাক্সি ঘুরিয়ে আমার বাড়ি চলে এসেছে। আমি লুলিয়ার ফোনটা নিয়ে কল লগটা দেখলাম। লাস্ট কলটায় কোনো নাম্বার দেখাচ্ছে না। শুধু লেখা প্রাইভেট নাম্বার। বড় খেলোয়াড় এরা। প্রাইভেটনাম্বার মানে সেই নাম্বার সহজে ট্রেস করতে পারবে না, কলব্যাক ও করতে পারবে না। আমি বাল্মীকিকে পাঁচশো টাকা দিয়ে বললাম ও যেন লুলিয়াকে ওর বাড়ি পৌঁছে দিয়ে সেই ট্যাক্সি করেই যেন ফিরে আসে। ওরা চলে গেলো আমি ভাবনায় ডুবে গেলাম।
অনেক প্রশ্ন মনে জেগে উঠল। ওরা করা? ওদের
দলটাই বা কিসের? লুলিয়া বলেছে যে লোকটা ফোন করেছিল সেই লোকটা ইংলিশে কথা বলছিলো কিন্তু অ্যাকসেন্ট দেশীয়। খুব সম্ভবত বাঙালি। ওরা কি পাওয়ার জন্য এতো মরিয়া হয়ে উঠেছে? শ্রেয়ানকে কিডন্যাপ করলো কেন? সব প্রশ্নের উত্তর এখনই পাওয়া সম্ভব নয় তবে এটুকু বোঝা যাচ্ছে ওদের মোটিভ হল আমাকে ওদের দলে টানা। শ্রেয়ানকে কিডন্যাপ করেছে ধাঁধার সমাধান টা মুক্তিপন হিসেবে পাওয়ার জন্য। তাই যদি হয় তালে ওরা শ্রেয়ানের কোনো ক্ষতি করবে না। ওরা যার অনুসন্ধানে আছে তা এই সিডির ধাঁধার সমাধানই খোঁজ দিতে পারে। তাই যেভাবেই হোক ওরা আমায় ওদের দলে চায়। কারণ একমাত্র আমিই সিডির ধাঁধার সমাধানের ক্ষমতা রাখি। কবিতার মর্মার্থ উদ্ধার হয়েছে। এখন বাকি আছে F, Q, W, এবং Z এই পাঁচটি ফোল্ডার খুলে তাঁদের ভেতরের রহস্যের জল ছিন্ন করা। রেক্ট্রনগুলার ডিসাইন গুলোর অর্থ উদ্ধার করতে হবে। এখন আর এটা শুধুমাত্র আমার কৌতূহল নিরসন নয়, শ্রেয়ানকে উদ্ধারের যুদ্ধও।

ক্রমশ…

ফেসবুক দিয়ে আপনার মন্তব্য করুন
Spread the love

You may also like...

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

কপি করার অনুমতি নেই।