।। ত্রিতাপহারিণী ২০২০।। T3 শারদ সংখ্যায় শামসুল হক আজাদ

একটি মঞ্চচ্যুত পুতুলের ছেঁড়া সংলাপ
স্ট্রিটরোলার নিয়ে
সীসার মতো বুকে চেপে দাঁড়িয়ে আছে
এক টুকরো কাগজের মান্যতা।
আকাশের আশ্রয় থেকে খুলে পড়ছে
নবজাতক,
নক্ষত্রের শরীর,
জবা ফুলের হৃদপিণ্ড,রাইফেলে থ্যাতলানো ঠোঁট,
পায়ের নিচে রক্তের গুল্ম
বাসাভাঙা ডিমের কারি থেকে মাতৃসদন গন্ধ
আমার কবরের জন্য বাতাসের পকেটে একটি
শুষ্ক চৌক জলাধার।
দেয়ালে ঝোলানো সেলাইনের নলে কবেকার
তরল ইতিহাস।
আলো নিভে যাচ্ছে
সংসদ ভবনের ছাদে মরা কাক
আদমশুমারী ঘেঁটে দেখা হচ্ছে তার পরিচয়।
ঘিলুতে আদিমতম ধারালো ছুরি লুকিয়ে
কয়েক লক্ষ পুতুল,
রাজার সংকেত
অপেক্ষার ঘড়ি
মুখ বাড়িয়ে দেখে নিচ্ছে মঞ্চ
পাপেট শো এখনই শুরু হবে।
আরও একটু চেতন থাকা খুব জরুরি।।
নীল ওড়না,নতুবা
আমার বাসাবাড়ি থেকে তোমার নীল ওড়নার দুরত্ব
কয়েকটি ছাদ।
কাক এসে ঠোঁকরায় ভোরের জানালা।
আলো আসে পা টিপে
ঘুমের ভিতর জেগে গিয়ে জাতিস্মর
গত জন্মের কথা লিখে রাখে এ জনমের ঘড়ির কাঁটায়
অথচ
এখনো আমার জন্ম হয়নি
‘প্রসতিভবন’এর লেখা গুলো গায়ে দিয়ে শুয়ে আছি।
সমস্ত গলিমুখ মিলেছে জন্মদ্বারে।
যে জন্মাবে স্মৃতির জঠরে তার কপাল ছুঁয়ে দেখি
তারও কপালপোড়া জ্বর।
আমার বাসাবাড়ি থেকে—–
দেখি
পাকদন্ডী বেয়ে নিচে নামছে শহর
গভীর কোনো লক্ষ্যের দিকে ছুটে যাচ্ছে
এস এন ব্যানার্জী রোড।অথচ
আমার শিকড় থেকে জলসেচ পাবে যে গাছ
তার প্রতিক্ষায় বসে আছি।
বাসের জানালায় ঝুলছে অনাগত শিশুর মুখ অবিকল
কোথায় যাচ্ছে ওরা
এখনই কী প্রসতিভবন!