সাপ্তাহিক ধারাবাহিক উপন্যাসে সুদীপ ঘোষাল (পর্ব – ৯)

তান্ত্রিক পিসেমশাই ও আমরা দুজন

১২
চিনু মরে গেল তারপর সে দেহের কাছেই তার আত্মা ঘুরঘুর করতে লাগলো মনে প্রথমে দেও ছাড়তে চায়না তা তারপর ধীরে ধীরে যখন বুঝতে পারে নিজের শরীর হালকা হয়ে গেছে তখন ধীরে ধীরে উপরে উঠে আসে তখন বুঝতে পারে সে শরীর ছাড়া। চিনুর অবস্থাও মনের মত হয়েছে মানুষ যখন ট্রেনে কাটা পড়ল সে বুঝতে পারেনি সে মনে করছে বেঁচে আছে কিন্তু তার আত্মা তখন বেরিয়ে এসেছে দেহকে দেখে ভাবছি দেহটা ওখানে পড়ে কেন তাহলে নিশ্চয়ই আমার মরন হয়েছে তাই আয়েশা আক্তার দেখছেন চিনুর শরীর।তিনি ডেথ সার্টিফিকেট দিলেন। কেউ কেউ কাঁদল।
এইগুলো আমার চিন্তা করছে মায়া ছাড়তে পারছেনা সে অনেকক্ষণ ঘুরঘুর করছিল দেহের আশেপাশে ট্রেন তার প্রতি বারবার চলে গেছিল কিন্তু আর কিছু হয়নি একবারই হয়েছে আত্মার মরন হয় না আর তাই সে বেঁচে আছে এবং অপেক্ষা করছে আজব ডাক্তার এখন কিছুক্ষণ অন্তত কয়েক ঘন্টা থাকবে তারপর হয়তো আসবে।এই পর্যন্ত অভিজ্ঞতা প্রাপ্ত হয়ে অনেকেই ফিরে আসেন। নিয়ার ডেথ এক্সপেরিয়েন্স-লব্ধ মানুষের একটা বড় অংশ এমন সাক্ষ্য বহন করে। তাঁরা অনেকেই জানিয়েছেন, তৃতীয় স্তরে কোথাও একটা চয়েস রাখা হয়। চৈতন্য মহাচৈতন্যে লীন হতে পারে আবার ইচ্ছে করলে ফিরে আসতেও পারে। জীবন অথবা মৃত্যু এই ‘চয়েস’-এর উপরেই নির্ভর করে। যিনি ফিরে আসতে চান, তিনি তৎক্ষণাৎ ফিরে আসেন। যিনি আসতে চান না, তিনি ‘মৃত্যু’ প্রাপ্ত হন। এই অবস্থাকে অনেকে স্বপ্নে বা আবিষ্ট অবস্থাতেও প্রত্যক্ষ করেছেন। ধ্যানযোগেও এই যাত্রা করেছেন অনেকেই। তাঁদের প্রত্যেকের দেওয়া বিবরণেই কিন্তু এই আখ্যানটি কমন।
আমাদের সবার চৈতন্যই মহাচৈতন্যের অংশ। কিন্তু দেহ আমাদের সেই বোধ থেকে দূরে সরিয়ে রাখে। তথাকথিত মৃত্যুর পরে সেই দূরত্ব লুপ্ত হয়। শুরু হয় আমাদের ‘নিজস্ব’ যাত্রা।

অনেকে বলছে নানা বয়স হয়েছে ঠিকই গেছে কষ্ট পেত না হলে এই বয়সে মরে যায় ভালো গো। তা না হলে খুব কষ্ট হতো আর কান্নাকাটি করোনা।

মন থেকে থেকে যদি বিচিত্র আওয়াজ শোনেন ফাঁকা বাড়িতে, তবে নিশ্চিত হন, সেটা ছুঁচোর কীর্তি বা বিড়ালের ডাক কি না। তাতে যদি সন্দেহ না-মেটে, তবে সাবধান। আর একটা ব্যাপারেও তিনি খেয়াল রাখতে বলেছেন, যদি হঠাৎ হঠাৎ বাড়ির ভিতরে শীত বোধ হয় গরমকালে, তা হলে সমস্যা রয়েছে। তবে এটাও ঠিক, সামান্য ঠান্ডা অনুভব করা মানেই তেনারা এসে গিয়েছেন, তা একেবারেই ঠি নয়।হঠাৎ কোনও বিশেষ গন্ধ পাওয়া। গন্ধপিশাচ হতে পারে। মতে, । বিশেষত, আপনার কোনও অনুপস্থিত প্রিয়জনের সুবাস যদি ঘ্রাণেন্দ্রিয়ে ধাক্কা মারে, তা হলে সাবধান। গন্ধটা খুবই সন্দেহজনক বলে জানবেন। তান্ত্রিক এবার বললেন একটি নতুন গল্প। এক নরখাদকের কাহিনী। সারা পৃথিবী জুড়েই নরখাদকদের সন্ধান পাওয়া গেছে। তাদের পাওয়া গেছে ফিজি, আমাজন অববাহিকা, আফ্রিকার কঙ্গোতে। এমন কি নিউজিল্যান্ডের মাওরি জনগোষ্ঠীর মধ্যে মিলেছে নরখাদকের সন্ধান। ইউরোপের হল্যান্ডেও সন্ধান পাওয়া গেছে।শোনা যায় উগান্ডার স্বৈরাচারী রাষ্ট্রনায়ক ইদি আমিনও নাকি নরখাদক ছিলেন।প্রত্যেকটি মানুষকে খাওয়ার পর সর্দার রাতু উদ্রে উদ্রে তার শিকারের স্মৃতিতে একটি করে পাথর সাজিয়ে রাখতো। তারপর খেয়ালখুশি মত গুনতে বসত, এ পর্যন্ত কটা মানুষ খেল সে। সে চাইত তার মৃত্যুর পর তাকে যেন এই পাথরগুলির পাশে কবর দেওয়া হয়। হয়েছিলও তাই। মৃত্যুর পর উদ্রে উদ্রেকে উত্তর ভিটিলেভুর এলাকার সেই পাথরের স্তূপের মধ্যে সমাধিস্থ করা হয়েছিল।উদ্রে উদ্রের উদরে যাওয়া সমস্ত হতভাগ্যই ছিল, ফিজির আদিবাসী গোষ্ঠী সংঘর্ষে হেরে যাওয়া যুদ্ধবন্দী। এছাড়া, উদ্রে উদ্রের দলে থাকা রাকিরাকির অনান্য আদিবাসী সর্দাররা তাদের জীবিত বন্দী ও মৃত শত্রুর দেহ উদ্রে উদ্রের হাতে তুলে দিত। মৃতদেহগুলির সৎকারের জন্য নয়, স্রেফ খাওয়ার জন্য।লিথ সাহেবকে উদ্রে উদ্রের ছেলে রাভাতু বলেছিল, তার বাবা মানুষের মাংস ছাড়া আর কিছু খেত না। এবং তার নরখাদক বাবা হতভাগ্য মানুষদের পুরো শরীরের প্রত্যেকটি অঙ্গপ্রত্যঙ্গই আগুনে ঝলসে খেত। একেবারে একটা দেহের সব মাংস খেতে না পারলে অর্ধভুক্ত দেহ্টি একটা বাক্সে তুলে রাখত। কিন্তু পরে পুরোটা খেয়ে নিত।সেই মৃত মানুুষের আত্মাগুলো এখন ভূত হয়ে ঘুরে বেড়ায় তারপর ঘুরতে ঘুরতে একদিন সেই নরখাদকের গলা টিপে ধরে এবং সেই আপনাদের হাতেই তার মৃত্যু হয় তাকে পাওয়া যায় ছিন্নভিন্ন একদম টুকরো-টুকরো অবস্থায় তার হাত-পা সব ছিন্নবিচ্ছিন্ন আঙুলগুলো এদিক ওদিক ছড়িয়ে ছিটিয়ে ছিল এমনই পরিণতি তার একদম সত্যি ঘটনা বাবুরা…পাহাড়ের উপরে বসে আমরা এই সব কথাগুলো শুনছিলাম তারপর সন্ধ্যে হয়ে গেলে আমরা ফিরে এলাম পিসেমশায় বন্ধুর বাড়িতে তারপর খাওয়া-দাওয়া করে ঠিক এগারোটার সময় শুয়ে পড়লাম বন্ধু আমাদের একটা আলাদা ঘর দিয়েছিল তিনজনকে পেশায় ছিলেন আমরা মেঝেতে বসে ছিলাম তারপর ঠিক বারোটার সময় আমরা দেখলাম আমাদের মশারির ভেতরে কত মশা। অনেক মশা জমা হয়েছে। পিসেমশায় বলছেন এত মশা কেনরে? তখন বললাম যে মশাগুলো মারা উচিত কমে যাবে।পিসেমশাই বললেন দাঁড়া তাড়াহুড়ো করিস না। একটু পরেই ঠিক হয়ে যাবে তারপর দেখলাম তিনি সাধনায় বসলেন। অল্প কিছুক্ষণের মধ্যেই মশা কমে গেল।পিসেমশাই কিন্তু সাধনা ভেঙে উঠলেন না তিনি মারণ, উচাটন শুরু করলেন।এক ঘন্টার পরে পিছনের ঘর থেকে বন্ধু চিৎকার করে বললেন, কেন রে এত রক্ত কেন? ঘরের মধ্যে দেয়ালে ট উপর দিয়ে রক্ত নেমে আসছে নিচে।পিসেমশাই চুপ করে থাকলেন কোন উত্তর দিলেন না পরদিন সকালে উঠে আমাদের নিয়ে ব্যাগ নিয়ে একদম বাইরে বেরিয়ে এলেন তখন পিছনে বন্ধু বলছেন এই নে জল খেয়ে যাবি । পিসেমশাই বন্ধুকে বললেন খুব সাবধান আবার যদি আমি পাঁচ মিনিট দাঁড়ায়, তোর কিন্তু জীবনের সংশয় হবে।তারপর পিসেমাশায়ের বন্ধুটি আর কোন কথা বলল না।আমরা সকলে বাইরে বেরিয়ে এসে হাঁফ ছেড়ে বাঁচলাম।রতন বললো, বাবা রে, এমন জায়গায় ঢুকেছিলাম কি করে বেরিয়ে আসবো চিন্তা করছিলাম।পিসেমশায় বললেন ওকে আর কোন দিন ঘুরে এইসব লোকের ক্ষতি করতে হবে না। তার কারণ তিনদিনের মধ্যেই পঙ্গু হয়ে যাবে।আমরা ওদের গ্রামের একটা লোকের মুখে অনেকদিন পর শুনেছিলাম লোকটি নাকি পঙ্গু হয়ে বসে আছে। পিসেমশায় বললেন, ইয়ার্কিকা কথা নেহি,সিরিয়াস ব্যাপার হ্যায় তন্ত্র জগতমে।তিনি বাংলা হিন্দী মিশিয়ে এক জগাখিচুড়ী ভাষা তৈরি করেন আমাদের হাসাবার জন্য। রতন কাছেই ছিলো। পিসেমশাই বললেন, কি রতন কিছু বলবে? রতন বললো, আমি বোকা। অত কিছু বুঝি না। কিন্তু আপনার সঙ্গে থাকতে ভালো লাগে। কত কিছু শেখা যায়।পিসেমশায় বললেন, বিদুরের নাম শুনেছো? আমি বললাম, হ্যাঁ উনি তো পন্ডিত ছিলেন। ন্যায়পরায়ণ ছিলেন।
১৩
রতন বললো, বিদুর মহাভারত মহাকাব্যে ধৃতরাষ্ট্রের ভাই। আসলে তিনি ছিলেন দাসিপুত্র। পিসেমশাই বললেন, হ্যাঁ আরও অনেক ঘটনা আছে। তবে সে প্রসঙ্গে না গিয়ে তাঁর বাণীগুলো বলি। কিছু শিখতে পারবে। তিনি বলতেন, যার মধ্যে অনেক জ্ঞান আছে সে জ্ঞানী। আর জ্ঞানের সঠিক ব্যবহার করতে পারলে বুদ্ধিমান। আর যারা তার সঠিক ব্যবহার করতে পারেন না তাঁরা বোকা। যে মানুষ সফল সে সমস্ত নেতিবাচক ভাবনা থেকে বহুদূরে থাকে। আর জীবনের প্রথম দিন থেকে বেড়ে ওঠাই তাঁদের মূল লক্ষ্য হয়ে ওঠে তাঁরাই বুদ্ধিমান। কিন্তু বোকা মানুষ চিনতে গেলে তার কিছু লক্ষণ রয়েছে। যাঁদের মধ্যে এই লক্ষণগুলো রয়েছে তাঁরাই বোকা। ধৃতরাষ্ট্রের সৎভাই বিদুর মহাভারতের একটি গুরুত্বপূর্ণ চরিত্র। তিনি বলে গেছেন বোকা মানুষের সাতটি লক্ষণ রয়েছে। এখন দেখা যাক সেগুলি কী কী১ যে ব্যক্তি সর্বদা অজান্তে আত্মঅহংকার নিয়ে বাস করেন এবং পরিশ্রম না করেই ধনী হতে চান। এ জাতীয় ব্যক্তিকে বোকা বলা হয়। যে ব্যক্তি তাঁর নিজের কাজ ছেড়ে অন্যের কর্তব্য পালন করেন এবং বন্ধুদের সঙ্গে সময় কাটান। তাঁরা বোকা। এ ছাড়া যারা সর্বদা ভুল কাজ করে চলেন তাঁদের বোকা বলা হয়।এমন ব্যক্তি যে নিজের প্রয়োজনের চেয়ে বেশি দাবি করে এবং নিজের চেয়ে ক্ষমতাবান লোকের সঙ্গে শত্রুতা করে। সেই ব্যক্তিকে বোকা বলে মনে করা হয়।যে ব্যক্তি তার শত্রুকে বন্ধু তৈরি করে এবং তার জন্য বন্ধুদেরও ত্যাগ করেন। যাঁরা ভুল সংস্থাকে অবলম্বন করেন তাঁদেরই বোকা বলা যায়।যে ব্যক্তি নিজেকে সবোর্চ্চ দেখানোর চেষ্টা করেন তাঁদের বোকা বলা হয়। যে ব্যক্তি ভুল করে অন্যকে দোষারোপ করে এবং সর্বদা তার ভুলগুলি আড়াল করার চেষ্টা করে এমন ব্যক্তিকে মূর্খ বলা হয়। যে ব্যাক্তি নিজের বাপকে অসম্মান করে এবং অজ্ঞ লোককে প্রাধান্য দেয় তাকে বোকা বলে। রতন বললো, পিসেমশাই তন্ত্র সম্পর্কে সমগ্র জ্ঞান আপনার আছে আমরা জানি। যদি এই সমুদ্রজলের একচামচ জলের ধারণা করতে পারি তো ভালো লাগবে। আর আমাদের প্রয়োজনেও লাগতে পারে। পিসেমশাই কম্ববলের আসনে বসে আমাদের চারদিকে গঙ্গার জল ও মন্ত্র পড়ে গন্ডি কেটে নিয়ে বললেন, যেখানে সেখানে এইসব মন্ত্র পড়তে নেই। তাই স্থানশুদ্ধি করে নিলাম। তারপর তিনি শুরু করলেন তার কাহিনী। তন্ত্র- ছোট্ট একটি শব্দ। কিন্তু গভীর তার অন্তর্নিহিত অর্থ। তন্ত্র হল এক বৃহৎ ও অতিপ্রাচীন গুপ্ত বা লুপ্তপ্রায় বিষয়। মুক্ত বিশ্বকোষে বলা আছে, তন্ত্র হিন্দুসমাজে প্রচলিত ঈশ্বর উপাসনার একটি পথবিশেষ। শিব ও মহাশক্তির উপাসনা সংক্রান্ত শাস্ত্রগুলিকেও তন্ত্র সাধনা নামে অভিহিত করা হয়। তন্ত্রশাস্ত্র অনুযায়ী, এই মহাবিশ্ব হল শিব ও মহাশক্তির দিব্যলীলা। তন্ত্রে যেসব ধর্মীয় আচার-অনুষ্ঠান ও রীতি-নীতির বর্ণনা রয়েছে তার উদ্দেশ্যই হল মানুষকে অজ্ঞানতা ও পুনর্জন্মের হাত থেকে মুক্তি দেওয়া।খ্রিস্ট্রীয় প্রথম সহস্রাব্দের প্রথম দিকে তন্ত্র সাধনার বিকাশ লাভ করে। গুপ্তযুগের শেষভাগে এই প্রথার পূর্ণ বিকাশ ঘটে। মূলত বৌদ্ধধর্মের হাত ধরেই পূর্ব এশিয়া ও দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ায় বিস্তার লাভ করে এই তন্ত্রশাস্ত্রটি। তন্ত্র ভারতের অতিপ্রাচীন এবং গুরু পরম্পরার একটি গুপ্ত বিদ্যা। প্রাচীন ভারত থেকে বহু মূল্যবান পুঁথি চীনা পরিব্রাজকরা তাঁদের দেশে নিয়ে চলে গেছেন। এটি গুরু পরম্পরা বিদ্যা বলে প্রকৃত গুরুর খোঁজ করতে হয়। দীক্ষা ছাড়া এ শাস্ত্র সম্পর্কে সহজে কেউ কাউকে কিছু ব্যক্ত ভারতের আদি ও অকৃত্রিম তন্ত্র সাধনার জায়গা হল নীলাচল পর্বত। যা ‘কামাখ্যাধাম’ নামে পরিচিত। তন্ত্র এমনই একটি শাস্ত্র যার মাধ্যমে নিজেকে অনুসন্ধান করা যায়। নিজের অন্তরের ঈশ্বরকে খুঁজে পাওয়া যায়।তন্ত্র শব্দটির অর্থ ব্যাপক ।

ক্রমশ…

ফেসবুক দিয়ে আপনার মন্তব্য করুন
Spread the love

You may also like...

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

কপি করার অনুমতি নেই।