সাপ্তাহিক ধারাবাহিকে সুদীপ ঘোষাল (পর্ব – ৪০)

সীমানা ছাড়িয়ে
চালাক টোটোন। তাই দল বাড়াচ্ছে। ঠিক হলো কুড়িজন বন্ধু একসাথে যাই চ।অনেক ছেলের মাঝে নিশ্চয় ভূত আসবে না।
রাতের বেলা ন্যাশানাল সিনেমা হলের কাছে সবাই একত্র হলো। সবাই চললো এবার সেই অভিশপ্ত বাড়িতে। টোটন চুপ। কোনো কথা নেই। অমল বললো, কি রে টোটোন, চুপ মেরে গেলি কেন? কথা বল। অর্পিতা ও বৌদি বললো,চ পালিয়ে চ। ভূত দেকবো না।টোটোন বললো, এই দেখ আমার অস্ত্র। একটা মস্ত নেপালা বের করে দেখালো। তারপর বললো, ভূতের দফা রফা করবো আজই।
কথায় কথায় বাড়িটা চলে এসেছে কাছে। অমল বললো, চল ভিতরে ঢুকি।
দুজন লোক পাশ দিয়ে যাচ্ছিলো। বললো, মরতে যেচো কেনে ওই বাড়িতে? খবরদার ওই দিকে মাড়িয়ো না। গেলেই মজা টের পাবে।
এখন আর ফেরার কোনো ব্যাপার নেই। হুড়মুড় করে সবাই ঢুকে পড়লো বাড়ির ভিতরে। তারপর মাকড়সার জাল, ধুলো পরিষ্কার করে রান্না শুরু করলো। এখনও অবধি কোনো ভৌতিক কান্ড ঘটে নি। ভয়টা সকলের কমে গেছে।
টেটোন বললো, অমল তোর মেশোর গাঁজার অভ্যাস আছে নাকি?
সকলের সামনে অমল একটু লজ্জা পেলো। তারপর ভাবলো, বন্ধুরা একটু ইয়ারকি মারে। ওতে ইজ্জত যায় না।
টোটোন এক পিস কষা মাংস নিয়ে লাল জলে মন দিয়েছে। সে এই দলের নেতা। সবাই অলিখিত ভাবে তাকে মেনে নিয়েছে নেতা হিসাবে। নেতা কষা মাংসতে কামড় মারার সঙ্গে সঙ্গে কষ বেয়ে লাল রক্ত। বোতলে রক্ত ভরতি। সবাই দেখতে পাচ্ছে কিন্তু নেতা দেখতে পাচ্ছে না। নেতাকে রক্ত মাংস খাওয়া ভূতের মতো লাগছে। অর্পিতা ভয় পেলো।অমল কায়দা করে তাকে আয়নার সামনে নিয়ে দাঁড় করালো। নেতা নিজের রূপ দেখে ভয়ে বু বু করতে লাগলো। সবার প্রশ্ন এত রক্ত কোথা থেকে এলো?নেতা অজ্ঞান হয়ে গেলো।তাকে জল দিয়ে জোরে হাতপাখা দিয়ে হাওয়া করতে লাগলো বৌদি ও অর্পিতা। তারপর জ্ঞান ফেরার পরে আবার ভয়ের পালা। রাত তখন দশটা। দরজাগুলো বন্ধ হয়ে গেলো। আর চার দেওয়ালের গা বেয়ে নেমে আসছে রক্তের ধারা। এত রক্ত যে মেঝে দিয়ে গড়িয়ে সকলের পা ভিজে যাচ্ছে। নেতা এবার জোড় হাত করে বলছে, আমাদের ছেড়ে দাও, এই কান মুলছি, নাক মুলছি আর কোনোদিন এই বাড়িতে ঢুকবো না। দয়া করো আমাদের দয়া করো। টোটোন ভয়ে অর্পিতাকে জড়িয়ে ধরেছে। অর্পিতা বললো,মিনসেকে মানা করলাম। লে এবার ঠেলা বোঝ। টোটোন বললো,ক্ষমা করো আমাকে।তখন আড়াল থেকে কথা শোনা গেলো, তুই তো নেপালা এনেছিস। সবাই দেখলো নেপালা নিজে থেকেই শূণ্যে ভাসছে। তারপর ভূত হাজির। নেপালা একবার ভূতের মাথা কাটছে আর জোড়া লেগে যাচ্ছে। বলছে, আমাকে কাটবি। মাথা কাটবি। তোর মাথা কাটি। নেতা ভয়ে কাঁপতে শুরু করেছে।তখন অমল বললো, আমরা তোমার সাহায্য করবো। কে তোমাকে মেরেছে বলো। আমরা পুলিশকে জানাবো। সে শাস্তি পেলে নিশ্চয় তোমার আত্মার শান্তি পাবে। কথায় কাজ হলো সঙ্গে সঙ্গে দরজা খুলে গেলো। রক্ত মুছে গেলো। আর একটা ছবি হাওয়ায় উড়ে এলো।টোটোন ছবি দেখে বললো, একে আমি চিনি। নিশ্চয় একে পুলিশে দেবো। আমরা কুড়িজন সাক্ষী দেবো। তারপরে পুলিশ সব দায়িত্ব পালন করেছিলো। সেই বাড়ি এখন পুলিশ থানা। চাকরি পেয়েছে কুড়িজন সাহসী ছেলে। যাদের চেষ্টায় খুনী ধরা গেছে। আর অতৃপ্ত তিনটি আত্মা মুক্তি পেয়েছিলো। আর টোটোন চাকরী না নিয়ে চলে এসেছে কলকাতায় অর্পিতাকে সঙ্গে নিয়ে। টোটোন সব ছেড়ে কলকাতায় বাসা নিয়েছে।অর্পিতা নিজেকে বেশ্যা বলে না। যারা লুকিয়ে চুরিয়ে খানকিগিরি করে। বাবা,মা, স্বামী,ছেলেকে ঠকায় তারাই তো বেশ্যা। কিন্তু সমাজ এসব বোজে না। টোটোনের সঙ্গে ছোটো থেকে সে বড় হয়েচে। গ্রামের ওখানেই ওদের প্রথম পরিচয়। আর পরিচয় থেকে ভালোবাসা। আর তারপরেই ছাড়াছাড়ি। আবার বিয়ের পরে তারা স্বামী স্ত্রী র মত থাকে। মনে তাদের ভালোবাসা আচে পরস্পরের প্রতি। দুজনেরই আলাদা সংসার আছে। তবু দুজনে একরাতও থাকলে ওরা শান্তিতে থাকে। ওরা একসাথে খায়,শোয়। বাড়িতে সবাই জানে। সবাই মেনেও নিয়েছে। এখন ওরা কলকাতায় থাকে। আর গ্রামে যায় না। বিয়ে করে নিয়েছে আজ পাঁচ বছর। টোটোন লেখাপড়া জানে। অর্পিতাকে শিখিয়েছে। এখন অর্পিতা বেশ্যা নয়। সংসারী গৃহবধূ। সব পুরোনো ময়লা ঝেড়ে ফেলে দুজনে একসাথে সুখে আছে। টোটোন একটা কারখানার ম্যানেজার ভালো মাইনে পায়। অভাব নেই। কথাবার্তা,চালচলন সব পাল্টে গেছে ভালো পরিবেশের গুণে।
আজ অর্পিতার মন ভালো নেই। তাই ও আজ খায় নি। অর্পিতা এখন শুয়ে আছে। পাশে টোটন। সে চিন্তা করছে,অর্পিতা কি ঘুমিয়েছে। তারও ভালো লাগছে না। ঝগড়া না করাই ভালো। এখন মনের ব্যথার ভাগটা কি কেউ নেবে। বোকার মতো ঝগড়া করলাম। আমি যদি চুপ করে যেতাম তাহলে এতটা বাড়াবাড়ি হতো না। অর্পিতা খেলো না পর্যন্ত। কোনোদিন না খাওয়া হয়নি। বিছানায় সব ঠিক হয়ে যায়। আমি। তাই বিছানার নাম রেখেছি প্রান্তিক সীমানা। সব বিচার বিছানায় হয়। একটু আদর করলেই সব বরফ গলে জল হয়ে যায়। কিন্তু না খেয়ে ঘুমোচ্ছে। কি সুন্দর লাগছে মুখটা। ঘুমোলে ওকে ভারী সুন্দর লাগে। একটা চুমু খাবো কপালে। না,যদি রেগে যায়। পেট খালি থাকলে রাগ বেশি হয়। দরকার নেই। আমি চেয়ে চেয়ে দেখি সারারাত। শাড়ি পরেই আছে। আজ আর চেঞ্জ করে নি। অন্যদিন ম্যাক্সি পরে নেয়। শাড়িটা হাঁটুর উপর উঠে আছে। আ হা দারুণ পজিশন। না,ডিসটার্ব করবো না। মেয়েরা তার বাবা,মা,ভাই,বোন ছেড়ে স্বামীর ঘরে আসে। তার চেনা জগতটা ছেড়ে একটা নতুন পরিবেশে তাকে খাপ খাওয়াতে হয়। কত কষ্ট,গঞ্জনা সহ্য করতে হয়। রান্নাবান্না করতে হয়। শ্বশুরবাড়ির প্রত্যেক সদস্যদের চাহিদা মেটাতে হয়। তারপর স্বামীর পাগলামী তো আছেই। আহা, একটু হাত বুলিয়ে দেবো। না যদি ঘুম ভেঙ্গে যায়। আবার ঝগড়া হবে। তারপর না খেয়ে আছে। অসুস্থ হয়ে পরবে। আমার মনে পরছে কলেজে যেদিন প্রথম ভর্তি হলাম ওর চোখে চোখ পরে গিয়েছিলো। প্রথম দর্শনে ভালো লেগে গেলো। মধুকর মন।মধু খোঁজে নিশিদিন। আমি মৌচাকে এলাম। না চাইতেই মধু। সময় হলে ঠিক পাওয়া যায়। তা না হলে বৃথাই ছটফটানি। শহরে ক্যান্টিন ছিলো।কফির দিকে মন নেই। কি করে বলি,নতুন করে,ভালোবাসি। দু বছরের মধ্যে ভালোবাসা মধ্যগগনে। চাকরী পাওয়ার আগেই বিয়ে করলাম। এতদিন রক্ষিতা হয়ে ছিলো। ব্যস, ভালোবাসা। দি এন্ড। এখন শুধু চেয়ে চেয়ে আছি সারাদুপুর। ভালোবাসা শেষ হয়নি। তা না হলে চেয়ে আছি অপেক্ষায় কেন?অর্পিতা লম্বা ঘুম দিয়েছে। না খেয়ে ঘুম আসে। আমার আসে না। তাহলে ঘাপটি মেরে আছে নাকি? হাত দেবো না। ভুল হবে। মায়া হয়। এখনও কোনো সন্তান হয় নি। ওষুধ খাচ্ছে। আহা কেউ এখন কাছে নেই। আমি ছাড়া। ও আমাকে ভরসা করেই তো বেঁচে আছে। আমি তো অফিস চলে যাই। একা থাকে। একদিন অফিস থেকে আগে ফিরলাম। ওকে মনে পরলো। বসকে বলে ছুটি নিলাম। আমার দোতলায় ফ্ল্যাট। পাশেই একটা ছোটোদের স্কুলে এক দিদিমণির সাথে আমার জানাশোনা। কথা বলতে গেলাম। আমার ফ্ল্যাটের দিকে চোখ গেলো। বিছানায় অর্পিতার সঙ্গে কে? মনটা খারাপ হয়ে গেলো। আবার আগের স্বভাব কেন? আমারও তাই। শালা রক্তে মিশে যায় কুঅভ্যাসগুলো। যা বটে,তা বটে। ওই তো দুজনে শুয়ে পরলো। ওপরে অর্পিতা। বসে বসে লাফাচ্ছে। দিদিমণি মুচকি হেসে বললো,ওটা রোজকার নীল ছবি। আমরা দেখি। আপনি চেনেন নাকি? আমি বললাম,না না।সবাইকে আমি বাড়ির ঠিকানা দিই না। দিদিমণি বলছে,চলুম আজ লজে যাই। ঘর বুক করা আছে। আমার মনে পরলো। মনটা হাল্কা হলো। মদিরার দোকানে একটা ছোটো নিয়ে মাগিকে নিয়ে গেলাম লজে। স্কুলের বাইরে মাগি আমাকে খিস্তি দিয়ে কথা বলে। ও বলে,সেক্সের আগে এগুলো প্রয়োজন। মাল খেলাম দুজনেই। জানালার দৃশ্য দেখে রাগের ঝালটা মাগির ওপরে ঝারলাম। শালি বললো,ভালো খেলেছো। চারবার গোল হলো। আমার রাগটা কমে গেলো। লজ থেকে বেরিয়ে চলে গেলাম ফ্লাটে। অর্পিতাকে বিকেলে খুব সুন্দর দেখতে লাগে। ফুরফরে মেজাজ। চা করে আনলো। ডিমের রোল। খেলাম। এবার ওর ভালো থাকার কারণ বুঝতে পারলাম। আর তার পর থেকে অশান্তি। আমি জানি ওর খেলা। কিন্তু ও তো আমার খেলা দেখেনি। অর্পিতাকে আমার সঙ্গে সক্রিয় হয়ে খেলতে দেখিনি। অথচ একটা পরপুরুষের সঙ্গে একদম বিন্দাস। ভালো থাকলেই ভালো। দেখুক যদি সন্তান হয়। কই দুবছর চলছে, থোর বড়ি খাড়া। হোলো না। রেজাল্ট জিরো। আজ আমার আসতে রাত হয়েছে। মুখে মদের গন্ধ। ঝগড়া হয়ে গেলো।আমি মাল খেয়ে ছিলাম। বলে দিয়েছি। আমাকে ভালো লাগে না। পরপুরুষের বেলায় লাফানি। অর্পিতা থেমে গেলো। জোঁকের গায়ে নুন পরেছে। আর তারপর থেকেই কথা বন্ধ হলো। এখন ঘুমোচ্ছে। আমার রাত জেগে কাটলো। সকালে তাড়াতাড়ি অফিস চলে গেলাম। ফিরলাম তাড়াতাড়ি। পাশের স্কুলে দোতলায় উঠলাম। এখন দেখছি, একা বসে আছে অর্পিতা। দরজা বন্ধ। আর বাইরে সেই লোকটা দরজা ঠক ঠক করছে। ও গিয়ে ভিতর থেকে কি বললো। লোকটা চলে গেলো। আমি ফ্লাটে ফিরলাম। মাগির সঙ্গে গেলাম না। অর্পিতা আমার চা আনলো। খেলাম। তারপর ঠেলে বিছানায় ফেলে বিপরীত সঙ্গম শুরু করলো। একঘন্টা কাটলো। কোনো কথা না বলে। তারপর বললো,আমাকে ক্ষমা করে দাও। আমি বললাম,ঠিক আছে। আবার আমি এই সুযোগে বিছানায় ফেললাম। বললাম,খেয়েছো। ও বললো,না একসঙ্গে খাবো। আমি উঠে পরলাম। ও এখনও খায় নি। জানলে আমি খেলতাম না।এখন ও রান্নাঘরে। রান্না করছে।একসঙ্গে খাবো।একসঙ্গে রাত জাগবো।আবার কলেজ জীবনে ফিরে যাবো। ওই বেশ্যামাগীর কাছে আর যাবো না। আমার পাপে অর্পিতা খারাপ হলো।তা না হলে ও মেয়ে হিসাবে ভালো। মেয়েরা এমনি এমনি খারাপ হয় না। ওরা সব বোঝে। আমাকে একদিন বলেছিলো,তোমার গালে, পিঠে কার ঠোঁটের ছাপ। তারপর আমি হেসে উড়িয়ে দিয়েছিলাম। কিন্তু মদ,মাগী দুই ছিলো। তাহলে ও পরে পরে মার খাবে কেন?ভালো করেছে।যা করেছে বাধ্য হয়ে করেছে।সেই রাতে খাবার আগেই ওর মা মরে যাওয়ার খবর এলো। লোকটা যেতে বলছে তার সঙ্গে। বলছে,আপনি দেখার পরে শ্মশানে নিয়ে যাওয়া হবে। আমি কি করে বলি,ও খায় নি। মা মরে গেছেন। সব রান্না ফেলে আমরা সবাই রওনা হলাম গ্রামে। ট্রেনে চেপে আমার বার বার মনে পরছে,ও খায় নি। এখন খেতেও পাবে না। মৃতদেহ শ্মশানে নিয়ে যাওয়ার পরে চা হলো। সবাই চান করে তারপর চা খেলাম। পেট ভরতির খাবার সকালে হবে। সকালে উঠেই বেনাগাছে জল দেওয়ার পালা।শ্রাদ্ধ বাড়িতে খাওয়ার জন্য বলতে ভালো লাগে না। শোক বলে কথা। নতুন পুকুরে বেনাগাছে জল দেওয়া হলো। আত্মার শান্তি কামনা করে জল দেওয়ার প্রথা। তারপর ভিজে কাপড়ে বাড়ি এসে হবিষ্যি রান্না করে খাওয়া। আমি দেখলাম ও খেতে পারলো না। জল খেয়ে উঠে পরলো। পরে শরবত খেলো। আমিও খেলাম না। পাতা গুটিয়ে বাইরে ফেলে এলাম। বাইরের দোকানে চা খেলাম। ও খায় নি,আমি কি করে চোখের মাতা খেয়ে গব গব করে ভাত খাই। যতই হোক সহধর্মিনী বলে কথা। কিছু যে খাচ্ছি না। তা নয়। তবে পেটভরে ভাত না পেলে,খাওয়াটা বেশ খাওয়া হয়ে ওঠে না। অর্পিতা এটা সেটা খেয়ে চালিয়ে নিচ্ছে। কিন্তু ভরপেট খাচ্ছে না। দুর্বল হয়ে পরবে। ও না খেলে আমার মন খারাপ হয়।
একটা ভিখারী বললো,আর বোলো না গো। দুদিন খাই নাই। দশটা টাকা দাও। কিছু কিনে খাই। টোটন পঞ্চাশ টাকার নোট দিয়ে বললো,ভালো করে খেয়ে নিও। এইতো এরা না খেয়ে দিনের পর দিন উপবাসি থাকে। টোটন দেখলো এটা অর্পিতার আগের স্বামী। অন্ধ হয়ে ভিক্ষা করছে। মদ খেয়ে খেয়ে শরীরটা মাটি হয়েছে। আর বাঁচবে না। না খেয়ে কি করে বাঁচে।তাহলে,আমরাও থাকি দুদিন উপোসি। ওতে কিছু যায় আসে না। না খেয়ে লোকে মরে না। বেশি খেয়েই মরে। স্বয়ং বুদ্ধদেব না খেয়ে সাধনা করেছেন। ওনারা সাধক লোক। ওঁদের কথা আলাদা। টোটন তার আগের বৌটার খবর পেলো হেবোর কাছে। সখি সর্দার তাকে বিয়ে করে নিয়ে পালিয়েছে। সে মনে মনে ভাবলো,আপদ গেলো।কান্নাকাটি করে অর্পিতার চোখ,মুখ বসে গেছে। অর্পিতা বলছে,এবার যাওয়ার মিতাকে নিয়ে যাবো। ও আমার সাথে থাকলে আমার সুবিধা হবে। কাজ করবো দুজনে। আমার ওই প্রস্তাব শুনে ভালো লাগলো। দুহাজার টাকা মাইনে দেবো। বললো,অর্পিতা। মিতার মা বাবা রাজী হলো। গ্রামের বাড়ি এসে একঢিলে দুইপাখি মারলো অর্পিতা। তিনদিনের পরে মেয়ের কাজ হলো। মায়ের আত্মার শান্তির জন্য মেয়ের প্রার্থনা ভগবানের কাছে। হবিষ্যি খেয়ে এই কদিন চলেছে। মায়ের ছবিকে প্রণাম করে আমরা তিনজনে বেরিয়ে পরলাম শহরের দিকে।ফ্লাটে ঢুকে আমি বললাম,আমি রান্না করছি।