সাতে পাঁচে কবিতায় সুদীপ ঘোষাল (গুচ্ছ কবিতা)

১| ঘাসের শেকল
ঘাসের সবুজ, পাখি হয়ে উঁচুতে
ডানা মেলে দশতলার টবে
নববধূটি মাটি হয়ে নামে গ্রাম্যঘ্রাণ লোভে
উন্মুক্ত তোতাপাখি বন্দি হয় ইঁটের খাঁচায়
রোম রোম ঘাস জাগে ধনী বিছানায়
কিশোরী নুয়ে যায় কর্তব্যের বোঝায়
ঘাসের গন্ধ মাখে মানিপ্ল্যান্ট
মনখারপের পাতা ছুঁয়ে ছুঁয়ে
জ্যোৎস্নায় জোনাকি রূপে উড়ে যায় গ্রাম
শহুরে শেকল পায়ে শিশিরের কান্না শোনা যায়…
২| সংসার
অফিস ফেরৎ বাবার
সাইকেলের হর্ণ
যেন হ্যামলিনের বাঁশী
এক থলে জোছনা কাঁধে
বাবার চোখেমুখে মুক্তোর ঘাম
মা, আশার আলোয় দেখেন
থলের ভিতর থরে থরে সবুজের আদর
রান্নাঘরে সোহাগী সন্ধ্যায়
মায়ের মমতামাখা মুড়ির সুবাস
আমরা রোজ খুশি মেখে শুই
সুখের নরম আঁচলে
৩| হৃৎকমল
স্নেহের সুরে গড়া যে রুটি
প্রেমের কৌটো ভরে রাখা খিদে
মেঘে মেঘে সম্পর্কের সেতু গড়ে অন্তঃসলিলা
তুমি আমার অনাত্মীয়া, অপরিচিতা
‘ কেউ কারো নয় গো মা ”
মনে রেখেই বলছি
নদীর ধার ঘেঁষে হাঁটি যখন
ঢেউ দেখে চিনে নিই আপন দেরাজ
পরশে পরশে বিন্দু ঘামে
চিনে নিই উষ্ণতার পরিমাণ
আমার অপরিচিত মানুষ
চিনে নিই চন্দনের গন্ধে
আমার মা বলতেন, ভাল লোক, সৎ লোক যাঁরা
তাদের আলাদা করে কোন সুগন্ধি র ব্যবহার করতে হয় না
কস্তুরীর গন্ধের মত ছড়িয়ে পড়ে হৃৎকমলে
কৌটো ভরে ঠাকুমা সুপারি রাখতেন
কাটতেন যাঁতি দিয়ে
ঠাকুমার পাশে বসতে খুব ভাল লাগত
কি সুন্দর আঁচলের গন্ধ
মৃগনাভির গন্ধ ফিকে হয়ে আসে
আমি চেতনার সপ্তম পর্যায়ে পৌঁছে
তুরীয় আনন্দে জাগি
আজ আর কেউ নেই, হৃৎকমল হারিয়ে গেছে
সময়ের স্রোতে, তবু আমি জেগে থাকি আঁচলের গন্ধে
আমি হাসি
এখনও আমি কবিতা লিখি
কলমের ডগায় মেশানো কস্তুরি কালির গন্ধে…