সাপ্তাহিক ধারাবাহিকে সুদীপ ঘোষাল (পর্ব – ৩৯)

সীমানা ছাড়িয়ে
আম্ফানের পরে শ্রাবণ মাসে অজয় নদ ফুলে ফেঁপে উঠল। মাঠ,ঘাট,নদী,নালা ডুবিয়ে মাটির বাড়িগুলি জলের স্রোতে ভেঙে গেল।খাঁ খাঁ করতে লাগল পচা কাবারির গন্ধে সর্দারপাড়া।পচা খড় আর পচা জন্তুর গন্ধে লোকজন বিপদগ্রস্ত। বিশু ও আমাদের জোয়ার দলের নতুন সদস্যরা লড়ে গেল প্রকৃতির রুদ্ররোষের সঙ্গে। তারা রক্ষা করল মানুষের প্রাণ।বিরাজুলের আর এক বন্ধু ইজাজুর বলে,”বাড়ি আমার অজয় নদের ভাঙন ধরা বাঁকে ” হলেও এটা আমার জন্মভূমি। এই ভূমি আমাদের সকলের মা। বন্যায় ভেঙে যাওয়া সর্দারপাড়া আমরা আবার নতুন করে তৈরি করব। বিশু বলে, করতেই হবে। গ্রামবাংলা হল ভারতবর্ষের প্রাণ। এস সকলে একত্রে সুনাগরিক হয়ে দেশ গড়ার কাজে লাগি। বিশু বলে উঠল,” জয় জোয়ান,জয় কিষাণ “। সমস্বরে জোয়ার স্রোতের মত নবীন বিশুরা বলে উঠল, ” জয় জোয়ান জয় কিষাণ “। জীবনপ্রবাহ আবার জীবনজোয়ারের স্রোতে জেগে উঠল।
এক বেশ্যার কথা
-হ্যালো,হ্যাঁ বাসে আছি। বল। না একা নই। বৌদি সঙ্গে আছে। কথা বলবি। পরে বলবি বে। বুজলি আমরা দুজনেই একই গুয়ের গু। বৌদি সব জানে। দুর শালা, তোর আগের পাঁচশো টাকা বাকি আছে। দিয়ে দিবি। কবে দিবি। বেশ আজকে কাজের পরে এক্কেবারে হাজার দিবি। বৌদি থাকবে। দুজনে মিলে মজা দোবো। লিতে পারবি না। নিগন চটিতে নামবো। চলে আয় আমার সাদের নাঙ।বুঝলি, সোয়ামী আবার মেরেচে লাঠি দিয়ে। পাঁচ দিন আগে। তোর কাছে চলে যেচিলাম।বুজরুকি নয়।সত্যি রে। সব গোছানো হয়ে গেসিলো। তারপর হাত ধরে ঘরে ঢুকিয়ে কি আদর। শালা ক্যালাচোদা। কিছুই পারে না। আমার আদ্দেক পথে, ওর বিসর্জনের ফুর্তি। তাহলে তোর মতো মরদ না হলে চলবে। বল তুই বল।বেশ রসিয়ে লিতে পারিস। বাসে সবাই শুনচে না।ঘুমিয়ে আচে। আমার অতো ঘোমটা লাই রে। লাচতে নেমে ঘোমটা দিয়ে কি হবে? এই দেক না, পেছনে কে আঙুল দিয়ে খোঁচাইচে। মরুকগো। পয়সা দিলেই দোবো। তোর যত আজেবাজে কতা। এবার আসল কতায় আয়। পালিয়ে তোর বাড়ি গেলে লিবি তো? না মেরেই ছেড়ে দিবি। তোদের মতো চোদনাদের আমার চেনা আচে। তাই বললাম।
হ্যালো,কি বলচিস। তোর শুধু খিস্তি। না, আমি খিস্তি দিলে বাসের লোকগোলা মারবে। রাতের বাস। সব ব্যবসাদার। কত দূরে যায়। আবার রাতে ফেরে। বেশির ভাগ লোক ঘুমুইচে। তার জন্য এত কথা খোলাখুলি বলতে পারচি।তোর বউ? জানতে পেরেছে? হ্যালো,শুনতে পেচি না। বাসের যা ঝাঁকুনি। আবার পেচোনে খুঁচুনি। বল,বল। এবার শুনতে পেচি। তা জানলেই বা। এসব লুকোনো থাকে না। জানতে একদিন পারবেই। আমার মরদটাও জানে আমার বেশ্যাগিরির কতা। ওর তো মদের পয়সা লিয়ে কাজ। না দিলেই মারে। আর দিলে পরেই আদর। শালা ছিবড়ে করে দিলো। মেয়েদের গতরটাই তোরা দেকলি। তাদের যে একটা মন আচে, সেটা বুজলি না। বুড়ি হলে আর ফিরে দেকবি না। রাস্তায়,ফুটপাতে কুকুরের মত মরণ। আর তোরা অনেকে আশি বছর বয়সে ছুকরি খুঁজিস। লজ্জা শালা লজ্জা। তবে ভালো মরদও আচে। এই আমাদের পাড়ার বিপুল বউ মরে যাওয়ার পরে সাদু হয়ে গেলো। আর তার খোঁজ নাই। কি বলচিস। সাদু না চদু। তা বললে হবে। সবাই কি তোর মত নাকি?বেশ, এবার শোন। বাস থেকে নেমে আঁদারে দাঁড়িয়ে আচি।
বেশ শোন নিগন চটিতে নামলাম। বিছানা। এখান থেকে রিক্সায় যাবো অনেক দূর। না,সেখানে দড়ির খাটিয়া আচে। তু তো আমার ওপরে চাপবি। আমার মরণ। কি বলচিস। আমি ওপরে থাকবো। বেশ তাই হবে। বৌদি অন্য মরদ খুঁজে লেবে। ওরও সোয়ামী মারে লাঠি দিয়ে। একদিন তেল ঢেলে আগুন ধরিয়ে দিয়েচিলো। আমি ঘাট থেকে এসে জল দিয়ে আগুন নেবাই। পুড়ে গেয়েচিলো অনেকটা। আজও তার দাগ আচে দাবনায়। বৌদি বলে,মরদগোলা কাপড় তুলে পোতমে শুধোয়,এটা কিসের দাগ। বলতে বলতে ঘেঁটা পরে যায় মুখে। ভালো লাগে বল,কি বলচিস। না, না খেয়ে আসবি কেনে। একসঙ্গে খাবো। এতে ভালোবাসা বাড়ে। মাংস,ভাত,রুটি সব পাবি চটিতে। মাঝ মাঠ। তবু সব রকমের ব্যবস্থা আচে। কত লরি,হাতি গাড়ি এখানে থেমে রাত কাটায় দেকবি। ভালো লাগবে রে। আমার সোয়ামী। ও তো মদ খেয়ে বাগ্দি বাড়িতেই থাকে। বাড়ি কম আসে। দুকুর বেলা পেটে টান পরলে আসে। তারপর খেয়ে,দেয়ে,আবার চলে যায় বাগ্দি বাড়ি। অইখানেই খানকির ডেরায় মরবে শালা। কি করবো। কিচু করার নাই।
তোর বউটা কেমন? কি বললি,একই গুয়ের গু। শালা আমাদের জেবনটাই এরকম রে।জানিস আমার ছোটোবেলায় একটা ছেলে বন্ধু ছিলো। আমাকে ছাড়তো না। পেচনে পেচনে ঘুরতো। আমতলা,বেলতলা,নেবুতলা সব জাগাতেই আমার সঙ্গি হয়ে থাকতো। চু,কিত কিত খেলতাম। সাত গুটি। কাগজ জড়ো করে দড়ি দিয়ে বেঁধে বল হতো। ছুটোছুটি করে বল খেলতাম। একদিন বল খেলার সময় পা গড়িয়ে রক্ত দেকে ও বললো,কোতায় কাটলো। রক্ত কেনে। তখন আমার চোদ্দ বছর বয়স। পা ধরে খুঁজতে লাগলো ও। আমিও জানি না রক্ত পরচে কেনে? শেষে ও আমার প্যান্ট খুলে দেকলো। আমার খুব ভালো লাগচিলো। আবার ভয় হচিলো রক্ত দেকে। ও বললো আঙুল দিয়ে আমার যোনিতে হাত রেকে, এখান থেকে পরচে। কেনে রে? আমি বললাম,জানি না। মাকে শুধোবো। তারপর মা বললো,এই বয়সে শুরু হয়। মাসে মাসে হবে এইরকম। একে মাসিক বলে। মেয়েদের হয়। ছেলেদের হয় না। ওদের চিরিক করে মাল পরে। আমি তখন কিচুই বুজি নাই। একদিন বাবুদের গোল বাড়িতে আড়ালে বন্ধুটা আমাকে ন্যাংটো করে কি করচিলো। নুনু নুনু খেলা বলতো। শেষে দেকতাম, চিরিক চিরিক করে সাদা কি পরে। আমার বেশ ভালো লাগতো। তারপর বালিকা বদু হলাম আমি। মাতালটার সঙ্গে বিয়ে হলো। বাবা মোটা টাকা পেয়েচিলো মাতালটার কাচে। তারপর আনন্দ শেষ। মাতালের মাতলামি চলতো আমার খোলা বুকে। লাল হয়ে যেতো। কাঁনতাম। তারপর পাশের বাড়ির বাঁটুল আমার প্রথম নাঙ। আমার গু মুত চেটে খেলো। বুজলাম বেটা ছেলে কি বটে? জড়িয়ে ধরতাম আবেগে। স্রোতের মধ্যে ভাসত ভালোলাগার ঝড়। তারপর কতজন চান করলো জলে। নদী বাঁদ মানে না রে? আরও চাই। তু এলি। এখন তোকে ঘিরেই স্বপন আমার।তোর টাকা আচে।গতর আচে। লাইতে জানিস আমার নদীতে। ছেলেপুলে আমার হবে না। বাঁধন আমার শক্তপোক্ত। কোনো পুরুষ বাঁধন ভাঙতে পারে নাই। হেরে গেয়েচে আমার নদীর বানে।
আর এখন বেশ আচি। রোজগার করি। সোয়ামীকে মদ খাওয়ার টাকা দিই। তু আচিস। ছেলেপিলার ঝামিলি নাই। হা রে, একটা সন্তান দিতে পারবি নি? কেউ পারলো না। মিচে করে আশা দেয়। সব বুজি। একটাই দুক। মা হতে পারলাম নি। তা যা বলেচিস বটে। ছেলে লিয়ে কি হবে। বড় হয়ে লাত মারবে। আর মেয়ে হলে লাইনে নামবে। আমাদের ঘরে আর কি হবে। তবু মা ডাক…
মরুক গো। কিচু তো করার লাই। তাইলে তু আসচিস তো। কোতায় মনে আচে তো? একবার বল তো আমাকে। হ্যাঁ,নিগন চটি…হ্যালো,কি বলচিস। ভালো লাগচে শুনতে। তা তো লাগবেই রে। বেশ্যাকথা কার না ভালো লাগে। আরও বলবো। তবে শোন। আমাকে সবাই পাকা খানকির মেয়ে বলে। কেনে জানিস? বাবা মদ খেতো। কাজ করতো না। মা আমাকে বাঁচাবার জন্য লাইনে নামে।বেশ্যাগিরি করতে শুরু করে। তারপর আমি বড় হলাম। বেশ ডাগর ডোগর হলাম। মা একদিন বললো,ধার দেনা হয়েচে অনেক। দিতে না পারলে আমাকে মেরে দেবে বলেচে বোকাচোদা রমণীবাবু। কি করবো বল। বলচে, তোর মেয়েকে সন্দেবেলায় পাটিয়ে দিলে সব শোধ হয়ে যাবে। মা বললো,আমি তো তোকে এই কাজ করতে দোবো না। তাই আজকে আমি মরবো। তু ভালো থাকিস। আমি বললাম,তোমার জন্যে আমি সব করবো। তুমি মরবে না। আমি যাবো। সন্দেবেলায় রমণীবাবু আমাকে মদ খাওয়ালো। আদর করলো। বুড়ো আমার মুখে মুতে দিলো। কিচুই বলি নাই। মায়ের মুখ তাকিয়ে। তারপর থেকে বুড়ো ভাম আমাকে চেটে খেতো পতি রাতে।
তারপর আমার বাবা সুযোগ বুজে অনেক টাকা নিয়ে এক মাতালের সঙ্গে বিয়ে দিলো। মাতাল সোয়ামী কিছুদিন যাওয়ার পরেই বললো,খানকির মেয়ে। খানকিগিরি কর। আমাকে পয়সা দিবি। আমার আর মদ খাওয়ার পয়সা নাই।তারপর থেকে এই লাইনে। তু আমার একজন বাঁধা নাগর। তোকে লিয়ে আমার বাঁচা মরা সবকিচু। তু শালা শুদু কাচে পেলেই কাপড় তুলিস। ভালোবাসা বুজিস না। তবে পাকা খেলোয়ার বটে তু। তাই তোকে ছাড়তে পারি নাই। নিগন চটি চলে আয়। তারপর রিক্সা করে যাবো সেই ঠিকানায়। তু তো জানিস। চলে আয়। চিন্তা নাই।
বৌদি সঙ্গে আচে। চলে আয়। আজ তোর পোয়াবারো। ডগারও খাবি তলারও কুড়োবি। চলে আয় শালা পোঙা মারানির পো। শালা আজ তোর একরাত কি, আমার রাত। দেখাই যাক। মোবাইল রাক।চলে আয় তাড়াতাড়ি।
সাদের নাঙ টোটোন চলে এলো। একা নয়। অনেক বন্ধু এনেছে। আমি আমার নাঙ টোটনকে বললাম,কি রে মোবাইলে কিচু বললি না। কোতায় যাবি?
টোটন বললো,তোরা চ।আজকে ওসব বাদ দে। নিগন চটি থেকে রিক্সা য় সবাই ন্যাশনাল পাড়ার ভূতের বাড়িতে রাত কাটাবো। চ, তু পয়সা পেয়ে যাবি, আবার একটা নতুন অভিজ্ঞতা হবে। আমি বললাম,ভূতের ব্যাপারে অবহেলা করে কারও সাথে কোনোদিন তর্ক করতে নেই। আমার বৌদি বললো,আমি ওকে চিনি। ট্যাক্সি চালায় টোটন। সেই হিসাবে ট্যাক্সি ইউনিয়নের সদস্য। প্রচুর বন্ধুবান্ধব। ফেসবুকের বন্ধুও অনেক। ভয় বলে শব্দটা ওর বুকে নাই। শালার ফুটানি আচে। বৌদি বললো,ওরা একদিন বন্ধুরা সবাই আড্ডা মারছে। এমন সময় অমল বলে উঠলো, জানিস ন্যাশানাল পাড়ার বনের ধারে যে তিনতলা লাল বাড়িটা আছে সেখানে নাকি ভূত দেখা গেছে।
মিহির বললো, তাহলে তোএকদিন সবাই মিলে গিয়ে দেখে আসতে হবে।
টোটোন বলে উঠলো, তোরা খুব আজগুবি কথা বলিস। আরে টোটোন থাকতে ভূতের বাপও বাড়ি ছেড়ে পালাবে। চল তাহলে একদিন দেখাই যাক। আমরা সামনের অমাবস্যায় ওই বাড়িতে যাবো। ফিষ্ট করবো। মাংস আর লাল জল। বুঝলি কিনা। জমবে ভালো। শালা মদ,মাগি আর মাংস। অমল বললো, শোন আসল কথাটা বলি। আমার মামুদপুরের মেশো একদিন আমাদের বাড়িতে বেড়াতে এসেছিলো। বিকালে ওই বাড়ির দিকে বেড়াতে গেছিলো। একট বাচ্চা ছেলে কাঁদতে কাঁদতে মেশোকে বললো, আমার খিদে পেয়েছে। মামা জিলাপি কিনে ছেলেটাকে বললো, যাও খেয়ে নাও।
ছেলেটি নাছোড়বান্দা। বললো, আমার বাবাকে দেখবে এসো। কতদিন খেতে পায়নি। এসো দেখে যাও।
মেশো সরল লোক। মায়া হলো। ভিতরে গিয়ে দেখলো বাবা নয়। এক ভয়ংকর স্কন্ধকাটা ভূত। বললো, আমার গলা কেটে সবাইকে মেরে আমার সংসার শেষ করেছে তোর মতো একটা পাষন্ড। আমি কাউকে ছড়বো না। কাটা মুন্ডুটা হাতে। সেই মুন্ডুই কথা বলছে।
মেশো ভয়ে কাঁপতে শুরু করেছে। এবার ভবলীলা সাঙ্গ ভাবছে মেশো। এমন সময় ছেলে্টি সামনে এসে বললো, বাবা এই লোকটি ভালো। জিলাপি কিনে দিয়েছে। এই বলে ছেলেটি উড়তে উড়তে জিলাপি খেতে লাগলো। উড়ন্ত অবস্থায় ছেলেটির মা বললো, এঁকে ছেঁড়ে দাঁও। যাঁও যাঁও। জিঁলাপি খাঁও।
তখন সুযোগ বুঝে মেশো পালিয়ে এসে বাঁচে।
টোটোন ভয় লুকিয়ে বাতেলা দিলো অনেক। বললো, ঠিক আছে আমরা কুড়িজন একসাথে যাবো ওই বাড়িতে। দেখা যাবে। কত ধানে কত চাল।