T3 || আমার উমা || বিশেষ সংখ্যায় শর্মিষ্ঠা ঘোষ

আমার উমা
বাঙালীর ঘরে সম্বৎসরই বসত তার | মায়ের আদুরে মেয়েটি পায়ে পায়ে ঘুরঘুর । আহ্লাদ খেলাধুলো বায়না পুরস্কার তিরস্কার এসব মিলে পুতুল পুতুল । এই স্লেট পেন্সিল হাতেখড়ি বিদ্যাবতী সরস্বতী মিনার্ভা এই লক্ষ্মীশ্রী শান্ত নদীটি নরম সরম বকুলফুল কাশ শিউলি ওই হইহই রইরই দস্যি ঝরনা পাহাড়ি ঝোরা খলবল লক্ষ্মীছাড়া দৌড় প্রথা ভাঙা আগুন । আমার তো হাত খারাপ আঁকার । সবই হৃদপদ্মে টলমল ছলছল আদরকথা । ভদ্রজনে বলবেন আদিখ্যেতা ! গম্ভীর জনে বক্র হাসেন দাঁত চেপে । আমি ব্রাত্য জন । বাস করি প্রান্তিক টেরিটরিতে । অ্যান্টেনায় জটিল অঙ্ক আঁটেনা । আমার উমা খেলেন ডাম্ব শারাট্ মানি রোল । কাঁপিয়ে দেন খেলার মাঠ বিজ্ঞান ল্যাব । অ্যাস্ট্রোনট উমা মহাকাশ পাড়ি দিচ্ছেন ইটির সন্ধানে । স্কাই ইজ দ্য লিমিট। গত শতাব্দীতে উমা খেলতেন এক্কাদোক্কা ঘুঘুসই । তার ব্যাকুল পরাণের কথা শুধায় নি কেউ । শুধোলে জানা যেত ব্যাডমিন্টন পোলো ঘোড়দৌড় রক্ ক্লাইম্বিং বাঙ্গি জাম্পিং প্যারাশ্যুট গ্লাইডিং নানাবিধ অ্যাডভেঞ্চার স্পোর্টস ভালো লাগে কিনা । জানা যেত মহারাণী গায়ত্রীদেবী কতজনের হার্টথ্রব ছিলেন জেনানা মহলে । থোরি সে লক্ষ্মীব্রতকথা কপিবুক টাইপ ননীর ঢেলাটি ! আমার ধনভান্ডার উপচে পড়ে দস্যি উমাদের দুষ্টুমির গল্পে । সেই অসুর বিনাশী ভুবন মোহিনী স্মার্ট রূপটির আমি হেব্বি ফ্যান । তৃতীয় নয়নে বিচক্ষণতা আর অস্ত্রসকল শক্তি বুদ্ধি জ্ঞান ক্ষমা দয়া ভক্তি স্নেহ প্রেম নিয়ে বহুজন হিতায় জগত কল্যাণে যুগে যুগে আবির্ভূতা । সে কুবেরের ধনভান্ডার খুলে আবিশ্ব দেখাই চারানা আটানা সুখে । আমি কি হিংসুটে নাকি যে ঘরভরা আনন্দ কুক্ষিগত রাখব ? উমা কথকতা মুঠো মুঠো ছড়িয়ে দি হরিলুটের বাতাসা। উমা মা হাতটি ধরে থাকেন রণে বনে জলে জঙ্গলে । অভয় দেন সম্পদে বিপদে। কন্যা জায়া জননী উমা দশহাতে দশপ্রহর সামলে রাখেন জগত সংসার এবং মানুষের ঘরবাড়ি ।