সাপ্তাহিক ধারাবাহিকে সুদীপ ঘোষাল (পর্ব – ৪২)

সীমানা ছাড়িয়ে

কথা বললেই নাকি চন্দনের সুবাস বেরোয়। শুনে অনেকে নিমকাঠির ব্যবহার করেন। কিন্তু পরেশের মা বলতেন, শুধু নিমকাঠির ব্যবহার নয়, তার সঙ্গে মানুষকে ভালবাসতে হয়। কারও অমঙ্গল কামনা করতে নেই। মিথ্যা কথা বলতে নেই। তাহলেই মানুষের মুখে সুগন্ধ হয়। এমনকি দেহের সুগন্ধ ছড়িয়ে পড়ে দিকে দিকে। মানুষ তো দেবতার আর এক রূপ। দীনেশবাবু ছুটির দিনগুলোতে ফুটপাতের অসহায় লোকগুলোর জন্য হোটেল থেক ভাত তরকারি কিনে, প্যাকেটে ভরে তাদের হাতে দেন। তাঁর ইচ্ছে আছে গরীব লোকগুলোকে প্রত্যেকদিন একমুঠো করে মুখে অন্ন তুলে দেওয়ার।
তিনি সংসারী লোক। তাই এগোতে হবে ধীরে ধীরে।তিনি জানেন, এসব কাজে সবদিক চিন্তাভাবনা করে এগোতে হয়। তিনি ভাবেন, সামাজিক, আর্থিক, আইনগত সমস্ত দিক দেখে তবেই কাজে নামা প্রয়োজন। একদিন সকাল সকাল দীনেশবাবু ছেলেকে ডেকে তুললেন ঘুম থেকে। ছেলেকে বললেন, পড়তে বোসো বাবু। সকালে পড়া মুখস্থ হয় ভাল। ছেলে বলে, বাবা তোমার মুখ থেকে চন্দনের সুন্দর গন্ধ পাচ্ছি । দীনেশবাবু বলেন, ও তাই নাকি? তোমার মুখেও তে সুন্দর গন্ধ।রাস্তায়, স্কুলে যেখানেই দীনেশবাবু যাচ্ছেন সকলের মুখেই এক কথা,দীনুবাবু আর একটু কথা বলুন। আপনার মুখে চন্দনের সুবাস। বসুন বসুন। সকলের আদরে তিনি নিজেও যেন চন্দনের সুবাস অনুভব
করছেন। আদরের আতিশয্যে তিনি খুশি।

একটি শিশু দৌড়ে তাঁর কাছে এল চন্দনের সুবাস নিয়ে। দীনুবাবু শিশুটির কপালে একটা চন্দন সুবাসের চুমু এঁকে দিলেন সস্নেহে। পরেশের মা বার বার এই গল্প শোনান। কারণ দীনুবাবুর বাড়ি পরেশের পাড়াতে। তাই পরেশের মা সব জানেন।
পরেশ কিন্তু দীনুবাবু হতে পারে না। তার ব্যক্তিত্ব কম। দীনুবাবুর মত লোক মহাপুরুষ। সে জানে। তাই মনে মনে মাষ্টারমশাইকে প্রণাম জানায় পরেশ। তবু একটা বাড়িতে পড়াতে গিয়ে সে চুপ করে বসে থাকত । তার ভাল লাগত না।বেশি গল্পগুজব ছাত্রীর সাথে করত না। মিনা পড়ত তার কাছে। সেই প্রথম ছাত্রী । বেশ সুন্দরী। ক্লাস টুয়েলভ এ পড়ে। বাড়িতে মিনার বাবা, মা আর একটা ভাই থাকে নীচতলায়। আর দোতলায় মিনা আর পরেশ পড়াশোনায় ব্যস্ত থাকে। চা দেয় মিনার মা। মিনার বাবা প্রয়োজনে ওপরে আসেন। তিনি একদিন বললেন, পরেশ অত চুপচাপ কেন? কোন লজ্জা করবে না। তোমার নিজের বাড়ি মনে করে পড়াবে। দেখবে আর লজ্জা লাগবে না। পরেশ তাই করে। একটা দুটো বাইরের কথা বলে। মিনা শোনে। এইভাবে একমাস হয়ে যায়। মাইনে পায় না পরেশ। তবু পড়ায়। আরও দুটো টিউশন ধরেছে সে। তারা দুজনেই কলেজের মেয়ে। পরেশ পড়াতে ভাল পারে না। সে স্বীকার করে নেয় আগেই। তবু অভিভাবকরা বলেন, আমরা তো কিছুই জানি না। তুমি বাংলা, ইংরাজীটা একটু দেখিয়ে দেবে। গ্রামের ছেলে, একটু উপকার না হয় করেই দিলে বাবা। পরেশ না করতে পারে না। আর সে তো বেকার ছেলে। লোকের ফাই ফরমাশি খাটাই তার কাজ। মিনার মা পরেশের সঙ্গে খুব কথা বলে। মিনা বিরক্ত হয়। তবু কথা বলে যায় মিনার মা। মিনা পড়তে বসার আগেই মিনার মা বসে থাকত। একদিন পরেশকে বলল, আমার বয়স তিরিশ। পরেশ বলল, ও আচ্ছা । মনে মনে ভাবলো, পঁয়ত্রিশ ও হতে পারে। তবে দেখলে মনে হয় পঁচিশ। বেশ সেজেগুজে ম্যাক্সি পরে থাকে। মিনার মা বলল, তুমি শহরে ছিলে, তবু এত বোকা কেন? আমরা তো বন্ধু হতে পারি। পরেশ ভাবল, এর সঙ্গে জমবে ভাল। মাল একদম রেডি। পরাণের পান্তুয়া। তবু মুখোশের আড়ালে বলল, নিশ্চয়, নিশ্চয়। মিনার মা বলল, কি নিশ্চয়। হাত টেনে কাছে বসিয়ে বলল, মিনা বাথরুমে গেছে। দেরি হবে। এখন বোসো। গল্প করি। এই বলে মিনার মা ুউরু তুলে বসল আনমনে। পরেশ দেখল, ম্যাক্সির তলা দিয়ে জংলা নদী দেখা যাচ্ছে। অনেকটা চেরা। পা ফাঁক করাতে বাদামের মত একটা অংশ দেখা যাচ্ছে। সে শুনেছে, এই ফুটোর নেশায় জমিদাররা বিঘে বিঘে জমি ঢুকিয়ে দিয়েছে এই ফুটোয় । অপরিষ্কার, কালো, অদ্ভুত । এই প্রথম তার জংলা নদীদর্শন। গা টা রি রি করে উঠল। হাতটা নিশপিশ করতে লাগলো। মিনার মা আনমনে পিয়ারা খাচ্ছে আর বাঁ হাতটা পরেশের লুঙ্গির তলা দিয়ে ঢুকিয়ে দিয়েছে। পরেশ আর কোন দ্বিধা না করে ম্যাক্সির তলা দিয়ে নদীর কিনারা বরাবর ঘুরতে থাকল। তার আঙুলে বন বাদাড় পরখ করতে করতে জলে পরল সটান। আঙুল চালিয়ে দিল গভীরে। মিনার মা চেপে ধরেছে পরেশের আট ইঞ্চি র লিঙ্গের মোটা বাঁট । পরেশ বেশ রসিয়ে চারটে আঙুল চালিয়ে দিল। বেমালুম কৃষ্ঞগহ্বরে ঢুকে গেলো মন। রস গড়াল দাবনা বেয়ে শীতের সকালে। পাক দিলেই যেন নলেন গুড় হবে । গা ঘেঁষাঘেঁষি করে ব’সে দুজনে। কারো খেয়াল নেই, তারা ঘরে আছে। মিনা হঠাৎ এসে চেঁচিয়ে বলল, মা নিচে যাও, ভাই ডাকছে। মিনার মা পালিয়ে বাঁচলো। মিনা মরিয়া হয়ে পরেশকে বললো, এই অঙ্কটা করে দিন। পরেশ আঙুল নিয়ে ব্যস্ত। কোথায় লুকোবে। তার কামের রেশ কাটেনি। মিনাকে দেখে তার জেদ চেপে গেলো। মিনা তার মায়ের কামে কাতর রূপ দেখে মরিয়া। মেয়েরা মনের কথা বুঝতে পারে দ্রুত। কিন্তু পরেশ না চাইলেও ভেজা আঙুল অজান্তে চলে গেলো মিনার প্যান্টির পাশ গলে কচি মাংসপিন্ডের গর্তে। আওয়াজ হতেই পরেশ সাবধান হয়ে বসলো। মিনার মা চা দিয়ে গেল। মিনাকে বলল, ভালো করে মন দিয়ে পড়। পরীক্ষা সামনে তোমার। চা খেতে খেতে পরেশ মিনার মুখের দিকে তাকাল।মিনার পরীক্ষা চলছে যোনীর ভিতরে। আঙুলের যাদু চলছে হৃদয়জুড়ে। এ পরীক্ষায় সে কি পাশ করবে? পরেশকে আকুল চোখে দেখে মিনা। জানালার বাইরে তখন সূর্যের রোদ প্রখর রূপে দেখা দিয়েছে। মিনা পরেশের প্রথম পরশে শিহরিত হয়ে উঠেছিল। সময়ে অসময়ে সে অইদৃশ্য কল্পনা করত। এই অনুভূতি আনার জন্য পরেশ দায়ী হয়ে রইল। এখন মিনা জোয়ারের সময় নিরাপদ নৌকোর দাঁড় খোঁজে। একমাত্র পরেশ পারে বাইতে সে নাও। পরেশ সকালে মিনাকে সাড়ে ন টা অবধি পড়িয়ে চলে যেত চুমকির বাড়ি। প্রতিদিন সে কলেজ যেতে চাইত না। পরেশ চুমকিকে পড়াত না। চুমকির মা বলেছিল, পরেশ আমার মেয়েকে একটু দরখাস্ত লেখা বা ইংরাজীটা একটু দেখিয়ে দিও। তারপর আমাদের বাড়িতে জলখাবার খাবে। তোমার সময়ও কাটবে। পরেশ বলত, আমি তো টীচার নই। কোনোদিন কলেজ স্টুডেন্ট পড়াই নি। বি,এ পাশ বলে অনেকে পড়া দেখিয়ে নেয়। বিনয়ে নিচু হয় সে।
চুমকির মা বলে, তুমি অত বিনয় দেখিও না তো। এস আমাদের বাড়ি যখন সময় পাবে চলে এস।
তাই পরেশ যেত চুমকির বাড়ি। শীতকালে ছাদে বসত। চুমকি চাদরের আড়ালে বই রেখে মাথা নিচু করে থাকত। পরেশ বলত, কই দেখাও?

চুমকি বলত, কি দেখাব? তুমি দেখাও।

—পড়বে না। কই একটা দরখাস্ত লেখ তো।
— ভাল লাগে না। মা বলুক। তুমি একটা গল্প বল না পরেশদা। কেউ জানতে পারবে না।
— কি গল্প রে?
—অই যে মিনাকে পড়াও। কখন যাও। কি পড়াও এইসব।প্রেম করো নাকি ওর সঙ্গে।
— তুই তো সব জানিস। প্রেম মানে ইয়ের প্রেম বুঝিস।
— জানি তো। মিনা আমাকে সব বলে। এইরকম প্রেম আমারও ভাল লাগে। বিয়ে করা প্রেম ভাল নয়।
—এই মেরেছে, কি বলে রে মেয়ে। অবশ্য আমিও বিয়েতে বিশ্বাসি নই। আমাকে ব্যবহার করলে করতে পারো। আমি রাজি। কিন্তু ফাঁদে পরে কাঁদতে রাজী নই।

চুমকি চুপ করে থাকে। হঠাৎ পরেশের আঙুল ধরে বলে, তোমার আঙুলগুলো কি বড় আর মোটা। একদম ভরপুর লেবেল। পরেশ ভাবে, যাক শালা লিঙ্গ দেখিস নি, তাই রক্ষে।
পরেশের বুকটা ছ্যাঁত করে ওঠে। তাহলে কি সব জানে। আবার ভাবে মরুক গো। জানলে কি হবে কি। সব জালি মাল। এ হয়ত তাই। চুমকি ভাবে, শালা আঙুল অবধি থাক। তোর ওটা ঢোকাবো না। কেলেংকারি হবে। চুমকি ইয়ার্কি মারে পরেশের সঙ্গে। লুঙ্গির ওপর দিয়ে খামচে ধরে। বলে, শালা মাগুরমাছ । পরেশের লিঙ্গ খাড়া হয় কিন্তু নিয়ন্ত্রণে রাখে। নিজের পরিচিত এলাকা। এখানে নোংরা ছড়ালে কেউ ছাড়বে না। মহাপুরুষের বাণি মনে পড়ে, ‘ভালো ছাড়া মন্দ করলে কেউ কিন্তু ছাড়বে না।’ তারপর হঠাৎ একদিন পরেশের কোলে বসে মিনা। বড় পাছার মাংসল পরশ । পরেশ বলে, কেউ দেখে ফেলবে। চুমকি বলে ছাদের দরজা বন্ধ করে দিয়েছি। কেউ আসবে না। পরেশ সুযোগ পেয়ে গেল। সে ভাবে, সুযোগ বার বার আসে না। ভাবাও যা আর কাজ শুরুও হয়ে যায়, আঙুলের। পরেশ আর কিছু জানে না। ডান হাতের আঙুল বাড়িয়ে দেয় চুমকির জাঙের ভেতরে। চুমকি পা দিয়ে চেপে ধরে, কেঁপে কেঁপে ওঠে, পরেশের চোখের আড়ালে। যোনীর এত রস, কোথা থেকে আসে, অবাক হয় পরেশ। তারও জাঙ্গিয়া ভিজে যায় কামরসে। ব্যস লাইন ক্লিয়ার, পরেশ ভাবে। এবার গিয়ে কাজ হবে শুধু গল্প আর গল্প। সে ভাবে, আমি টাকা পয়সা নিই না। সুতরাং বেইমানি এটা নয়। আমি জোর করি না। ধর্ষণ করি না কোনোদিন করব না। ওরা যেভাবে চালায় আমাকে সেইভাবে আমি চলি। ওরা আমাকে ব্যবহার করে। আমি ওদের কাছে একটা সেক্স টয় ছাড়া কিছুই নয়। একটা পদার্থ। না অপদার্থ। যা হোক, কিছু বটে। এটা পাপ বলে আমি মনে করি না। পরেশ নিজের মনের কাছে পরিষ্কার হতে চায়। সে পরিষ্কার। একদিন চুমকির মা বলল, এই বইটা পড়বে আড়ালে। কাউকে বলবে না। আমি দিয়েছি, কেউ যেন জানতে না পারে।পরেশ আড়ালে বনে বইটা পড়েছিল। পড়তে পড়তে দুবার হস্তমৈথুন করেছিল। সে ভাবছিল, কি করে একজন মহিলা এই বই দিতে পারে। কেন দিল। সামন্য বুদ্ধিতে ধরা পড়েনি মহিলার মন। তা না হলে অনেককিছু হতে পারত। পরেশ ভাবে, না এই মহিলাকে এড়িয়ে চলতে হবে। বেশি লোভ পাপের কারণ। এই মহিলাকে এড়িয়ে চুমকির টানে চোখবুজে ছাদে চলে যেত চাঁদ ধরতে। পরেশ কোনোদিন প্রেম কি পদার্থ কোনোদিন জানতে পারে নি। এক শীতের সকালে চুমকি পরেশের গোপন অঙ্গে হাত দিয়ে বলেছিল, কি সুন্দর।
পরেশ বলেছিল, তোরটা দেখি।
— না, বিয়ের পরে দেখবে। তোমার বৌকে ল্যাংটো করে দেখবে।
—- কে বিয়ে করবে? তোকে যদি ল্যাংটো করে জংলা নদীটা দেখি।
—- সে আবারবকি। যে হোক কেউ তো বিয়ে করবে। তখন নদী কেন সাগরও দেখো।
— কেন, তুই বিয়ে করবি না? তোর গরম যোনীর প্রেমে পড়ে গেছি।
— এইসব বলতে নেই। আমি আর একজনকে ভালোবাসি। সে বড়লোকের ছেলে। তুমি শুধু একবার করে মজা দেবে। আর কিছু না।
পরেশের মনটা খারাপ হয়ে গিয়েছিলো। সে জেনে গিয়েছিলো, খারাপ, গরীব ছেলের সাথে কেউ বিয়ে করবে না। এইসব দেহের খিদে মেটানের কাজ করতে পারে কিন্তু বিয়ে নয়। বিয়ে করার জন্য অন্য গুণের প্রয়োজন। মনটা ঘষটা খেতে খেতে ঘেঁটা পড়ে গেছিল। আর কোনো কথায় মনে বাজে না। তারপর থেকে পরেশ কেমন যান্ত্রিক হয়ে গিয়েছিল। মহিলা মহলে সে একজন প্লে বয়ের ছবি বয়ে বেড়াত। আর কিছু নয়। তার বদলে একটা মাছ ভাজা বা একবাটি মুড়ি জুটে যেত কোন কোনদিন। পরেশ এইভাবে অনেক মেয়ের দেহ জয় করেছে কিন্তু মন নয়।

ফেসবুক দিয়ে আপনার মন্তব্য করুন
Spread the love

You may also like...

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

কপি করার অনুমতি নেই।