ক্যাফে কাব্যে সপ্তর্ষি গাঙ্গুলী
by
TechTouchTalk Admin
·
Published
· Updated
বসন্ত মাধুরী
শীতক্লিষ্ট প্রকৃতির রঙ্গশালার সকল জরাজীর্ণ বিদীর্ণ করে আবির্ভূত হয় ঋতুরাজ বসন্ত।
রাজদরবারে ঋতুরাজকে সাদর অভ্যর্থনা জানাবার প্রস্তুতিতে প্রকৃতি বরণসাজি সাজায় নিরন্ত।।
ঋতুরাজের ময়ূর সিংহাসন স্থাপনে প্রকৃতি হয় ব্যগ্র ; অসাড় শীতের আড়ষ্টতায় নিজেরে করে রিক্ত।
বসন্তের আগমনী রাগ দূর হতে আসে ভেসে নাগকেশরের সুরভি সুকুমার বাতাসে হয়ে পৃক্ত।।
শিমূলের রক্তিম ছটা সুনির্মলা আসমানের সিঁথি রাঙিয়ে যেন তারে দেয় নববধূর স্বীকৃতি।
ক্ষেতের সকল সূর্যমুখী যেন পূবাকাশে উদিত রবির পানে সহাস্যে চেয়ে দেখে নিজ অবিকল প্রতিকৃতি।।
প্রকৃতির বুকে ঊষা হতে গোধূলি কোকিলের সুমিষ্ট কলতান যেন দখিনা বাতাসের স্তরে স্তরে ভরে দেয় শাশ্বত যৌবনীশক্তির মধু।
ললিত বসন্তের মধুর মিলন ডাকে সাড়া দিয়েও নিছক ক্রীড়াছলে নিজেরে সরিষা ক্ষেতির মনোহরণী হলুদের আবডালে রাখে বঁধু।।
ঋতুরাজের সভাগৃহের উন্মুক্ত সদরদ্বার দিয়ে মাধুরী আসে ভেসে শাখে শাখে পলাশের বাহারে ; পারুলের হিল্লোলে।
নব-কিশলয়ভারে মঞ্জরিত বৃক্ষের আমোদাধার যেন উছলে ওঠে শাখে ধরা আম্রমঞ্জরীর হিন্দোলে।।
বসন্ত উৎসবের আবিরের রাঙা পরশে খুশির জোয়ারে যায় ভেঙে যেন প্রকৃতির উতল মনের আগল।
নবজাতকের প্রতীক ঋতুরাজের উন্মেষে প্রকৃতির অপরূপ সজ্জায় বিহ্বল সকল প্রাণ যেন হয়ে ওঠে পাগল।।