গল্পবাজে সুদীপ ঘোষাল

নতুন চেহারায় পুরানো গপ্প
প্রকৃত বন্ধু
অজয় আর বিজয় দুই বন্ধু। তারা একসঙ্গে স্কুলে যায় একসঙ্গে একই গৃহশিক্ষকের কাছে পড়ে।
একবার এক জঙ্গলে দুইবন্ধু অজয় আর বিজয় বেড়াতে গেছিল। বনে তারা মনের আনন্দে ঘুরছে,ফিরছে, গান গাইছে।সবুজের সোহাগে দুজনেই আত্মহারা হয়ে গেছে।কতরকমের বুনোফুল ফুটে আছে জঙ্গলে।অজয় বলে বিজয়কে,কি করে এত সুন্দর হয় প্রকৃতি?কে এই বাগান সাজায়?
বিজয় বলে,জানি না রে।তুই কেমন সব অদ্ভুত কথা বলিস, কে আবার সাজাবে।
অজয় বলে,না রে, দেখ দেখ ঘাসফড়িংগুলো কেমন সুন্দর ঘাসের উপর বসে আছে।কত প্রজাপতি উড়ে উড়ে আকাশে উঠে আবার নেমে যাচ্ছে। কতরকমের পাখির ডাক।
বিজয় বলে,তোর কাছে লজেন্স আছে?
অজয় বলে,হ্যাঁ আছে। তারপর পকেট থেকে দুটো ক্যাডবেরি বের করল।একটা নিজে খেল আর একটা বিজয়কে দিল।
তারপর হঠাৎ এক বিরাট ভালুক এসে গেল তাদের কাছাকাছি। বিজয় বলে, এখনও ভালুকটা দেখতে পায় নি আমাদের দুজনকে।আমি গাছে উঠে পড়ি এখন।আপনি বাঁচলে বাপের নাম থাকবে।
বিজয় খুব চালাক আর স্বার্থপর ছেলে।সে নিজের প্রাণের ভয়ে,অজয়কে ভুলে একটা বড়গাছে উঠে পড়ল। অজয় গাছে উঠতে পারে না, বিজয় জানে।তবু বিজয় স্বার্থপর ছেলের মত অজয়ের জীবনের কথা চিন্তা না করেই পালিয়ে গেল।অজয় এখন একা।ভালুকটা নিজের মনে এগিয়ে আসছে ধীরে ধীরে। অজয় তার মায়ের কাছে শুনেছিল, ভালুক মরা মানুষ খায় না।এই অসময়ে মায়ের কথাই তো মনে পড়ে।
অজয় বুদ্ধি করে উবু হয়ে, মরা মানুষের মত পড়ে থাকল ঘাসের উপর ।ভালুকটা অজয়ের কাছে এল, বারবার তার দেহের গন্ধ শুঁকল, মুখ,চোখ,কান সব দেখেশুনে ভালুকটা একবার ভয়ংকর ডাক দিয়ে উঠল।তারপর ছুটে পালিয়ে গেল জঙ্গলের ভিতরে।
বিজয় গাছ থেকে নেমে বলল,গাছের ওপর থেকে দেখলাম, ভালুকটা তোর কানের কাছে মুখ নিয়ে তোকে কানে কানে কি বলল রে?
অজয় বলল,ভালুকটা আমাকে একটা ভাল উপদেশ দিল।সে বলল,বন্ধুর বিপদে আপদে যে থাকে না সে আসলে বন্ধুই নয়।
এই কথা বলে অজয় একলা, জঙ্গলের পথে হাঁটতে শুরু করল।
নীতিবাক্য- অসময়ে,দুখেসুখে যে কাছে থেকে সমব্যাথি হয়, সেইজন হল প্রকৃত বন্ধু।