সাপ্তাহিক ধারাবাহিক উপন্যাসে সুদীপ ঘোষাল (পর্ব – ৭১)

সীমানা ছাড়িয়ে 

আর কেউ প্রশ্ন করেন না সবাই জেনে গেছেন অনিমেষ নেই। সে ওখানে চলে গেছে পৃথিবী ছেড়ে আর অনিমেষের বাবা-মা মিথ্যার বোঝা নিয়ে ঘুরেন।

বৃষ্টি বলছে আবিরকে,
তুমি তো জানো আমি সমকামী।
মেয়েদের পছন্দ করি।
তবু তুমি বিয়েতে রাজি হলে কেন।

আবির উত্তর দিয়েছিল এটা প্রয়োজন ছিল।
আমাদের সংসার এর মান সম্মান রক্ষার্থে আজ আমাদের বিয়ে হয়ে গেছে।
এখন আমরা গোপনে কি করছি কেউ দেখতে পারবেনা। আর এখন তুমি আর আমি আর কেউ জানবে না আমাদের কথা। কলকাতা বড় শহর।লোকের সময় নেই।

বৃষ্টি বলেছিল তুমি ঠিক বলেছ।

এখন আমরা সকলে কলকাতা শহরে আছি তোমার বাবা-মা চলে গেছেন।
অনিমেষে বাবা-মা গ্রামের বাড়িতে চলে গেছেন। এখন আমরা স্বাধীনভাবে বাঁচতে পারব।

এত কেটে গেছে অনেকগুলো বছর অনিমেষ আর আবির সুখেই আছে।

সকাল বেলা বাজার করা কাজ তারপর দুজনে রান্না বান্না সেরে অফিসে চলে যায় অফিস থেকে ফিরে যায় তারপর রাতের খাবার পরে শুয়ে পড়ে।

এই পাঁচ বছরে এলাকায় পরিস্থিতি বেড়েছে প্রতিবেশীরা পরামর্শ দেয় এবার তোমরা বিয়ে করে এবং তোমাদের বয়স বেড়ে যাচ্ছে কেউ বলেন তোমরা কি কি কি তোমরা কি বিয়ে করবে না নাকি?

তারা সমস্যায় পড়ে যায় তাদের গোপন কথা তারা বলতে পারে না। তাদের পাড়া ছাড়তে হবে এভাবে কতদিন আর পালিয়ে বেড়াবে।

কলকাতা বড় শহর এক প্রান্তে আবির অনিমেষকে নিয়ে থাকে। অপরপ্রান্তে রুমকি বৃষ্টিকে নিয়ে তোকে বৃষ্টিকে।প্রতিবেশিরা প্রশ্ন করে কি গো তোমরা দুজনে মানুষের একা একা থাকো কি করে? ভয় করে না।

সেদিন বৃষ্টি একা ছিল। ভাবছিল প্রতিবেশি, কাকিমা, জেঠিমা আর ঠাকুমারা সন্দেহ করতে শুরু করেছে। এবার অন্য কোথাও সরে যেতে হবে।

ষড়যন্ত্র শুরু করল কাকিমা জেঠিমা ঠাকুমা। সমস্বরে বলল ঠিক বলেছেন ঠাকুমা, চলুন আজ রবিবার দুজনেই নিশ্চয়ই বাড়িতে আছে। আমরা কথাটা বলে আসি।
সদলবলে হাজির হলো। বৃষ্টির ঘরের দরজায় ঠোকা। দরজায় আওয়াজ শুনে বেরিয়ে এলো বললো কিসের চাঁদা কাকিমা?

কাকীমা বললেন চাঁদা নয়। তোমরা বিয়ে না করে তোমাদের এখানে থাকা হবে না।
রুমকি বলল আমরা বিয়ে করেছি তো। তারমানে কাকে বিয়ে করেছে।

আমি এই বৃষ্টি কে বিয়ে করেছি। আমরা পরস্পরকে ভালোবাসি। কাকা বললেন, কি নোংরা কথা বলছে। আমরা একটা মেয়ে আরেকটা মেয়েকে বিয়ে করতে পারে নাকি। এত নোংরামি আমাদের পাড়ায় এসব চলবে না। আমাদের পাড়ার ছাড়তে হবে।

এগুলো ঠিক আছে। আমরা পাড়া ছেড়ে দেবো। কিন্তু আইনের আমরা সাহায্য নিতে পারি। কাকিমা রাগে তাকিয়ে বললেন, পুলিশ কতদিন দেখবে তোমাদের। তা আমাদের ছাড়া তোমাদের কি করে থাকবে। আমাদের সঙ্গে লড়াই করে বাঁচতে পারবে?
আমরা কিন্তু অনেক কিছু করতে পারি। তারপর রুমকি এসে মুখের উপর দরজা বন্ধ করে দিয়েছিল। তারা দুজন আলোচনা করছিল বসে বসে। সমাজের সঙ্গে লড়াই করে তাদের মানসিকতা পরিবর্তন করতে আমরা একা পারব না। এর জন্য শিক্ষা বিস্তারে প্রয়োজন আছে।

ঝগড়া মারামারি করে মানুষের মনের পরিবর্তন করা যায় না। কথায় বলেনা, গুঁতিয়ে হরিনাম হয় না।
শরীরে জৈবিক প্রবৃত্তি বিভিন্ন হরমোনের প্রভাবে মানুষের মধ্যে বিভিন্ন রকমের বিভিন্নতা দেখা যায়।
এর জন্য আমরা দায়ী মানুষ নয়। এর জন্য প্রকৃতি দায়ী।

আবির, অনিমেষ পাড়ায় থাকে। পুজোতে কোন অনুষ্ঠানে দুজনেই হাজির থাকে। মোটা টাকা চাঁদাও দেয়। মরে গেলে শ্মশানেও যায়। ফলে জনপ্রিয়তা বেড়েই চলেছে ভালোবাসা।

পাড়ার খোকন দা বলেন, এবার বিয়ে করলে করুন। আপনাদের আর পড়াশোনা করতে হবে না। কবে ছেলেমেয়ে মানুষ করবেন। পড়াশুনা আর চাকরি করেন একসাথে। এবার বিয়ে করুন। আমরা ভোজ খাই।

আবির বলে, দাদা আমরাও ভাবছি। দেখা যাক কি হয়।
অনিমেষ বাসা বাড়িতে ভাবে, কতদিন আর লুকিয়ে বেড়াবে। আবির বলল,বৃস্টি আর রুমকিকে আমরা ফলস বিয়ে করব। তারপর চারজন একসাথে থাকব। অনিমেষ বলে, বেড়ে আইডিয়া। ওরাওদুজনে লেসবিয়ান। ওদের ফোন করি একবার।

বৃষ্টি বাড়িতে ছিল চিন্তায়। সমাজের জেঠিমারা শাসিয়ে গেছে। এমন এক কঠিন সময়ে অনিমেষের ফোন। বৃষ্টি বলে, আমরা খুব বিপদে পড়েছি দাদা।
অনিমেষ বলে আমাদেরও একই অবস্থা। আমরা সমকামি। এসব কথা সমাজ মানবে না। তাই আমি তোকে বিয়ে করব আর আবির রুমকিকে বিয়ে করবে। তারপর একসঙ্গেই থাকব।

বৃষ্টি যেন হাতে চাঁদ ধরল। একটা উপায় বেরিয়েছে উর্বর মস্তিষ্ক থেকে। আর কোন চিন্তা নেই।

তারপর একদিন বিয়ের দিন দেখে চারজনের বিয়ে হল। পাড়া প্রতিবেশি জমিয়ে ভোজ খেল।

বাড়িতে বসে চারজনে আলোচনা করছে সমাজের মানুষের মানসিকতা নিয়ে। আবির বলল,সমকামিতা কোন রোগ নয় বিকৃত মানসিকতার নয় সুস্থ সুন্দর ভালবাসার নাম সমকামিতা তবু শোনে না কেন একজন পুরুষ আর একজন পুরুষকে পছন্দ করে আর একজন মহিলার একজন মহিলাকে পছন্দ করে। সমকামি ইউরোপবাসি গিনজা, বিশ্বাস করেন, ইট ইস এ কম্প্লেক্স অফ জেনেটিক হর্মনাল এন্ড এনভারমেন্টাল ইনফ্লুয়েন্স।

একটা জটিল শারীরিক প্রক্রিয়া এটি উনবিংশ শতাব্দী থেকেই সমাজে মান্যতা পাবার দাবি জানিয়ে আসছে এ দেশে অনেক জায়গায় স্বীকৃত কিন্তু আমাদের ভারতবর্ষের সুপ্রিম কোর্ট আইনত স্বীকৃতি দেয় কত মানুষ জীবন কাটায় কেউ তার হিসেব রাখে না সমাজে স্বীকৃতি পাওয়া উচিত বলে আমি মনে করি।সে আরও একবার বলল,ফিমেল সেক্সুয়ালিটি ইস মোর ফ্লুয়িড দ্যান মেল সেক্সুয়ালিটি।

নারী যে কেউ সমকামী হতে পারে এটা কোন অপরাধ নয় তাই কোন সমকামী সন্ধান পেলে তাকে নিয়ে থাকতে দেওয়া উচিত সমাজের স্বাভাবিক আচরণে তারা জীবন যাপন করুক।

ফেসবুক দিয়ে আপনার মন্তব্য করুন
Spread the love

You may also like...

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

কপি করার অনুমতি নেই।