সাপ্তাহিক ধারাবাহিকে সুদীপ ঘোষাল (পর্ব – ৪)

অজয়পাড়ের উপকথা, উপন্যাসের পরের কাহিনী

সীমানা ছাড়িয়ে

খুব সুন্দর পরিবেশে বড় হয়েছে নুর আলি । আর স্বপনও নুর আলির বন্ধু।
বাবার সঙ্গে ছোট থেকেই নুর আর স্বপন নিজেদের চাষের জমিতে যেত এবং চাষবাস দেখাশোনা করত। মধ্যবিত্ত পরিবার। অভাব থাকলেও সংসার চলে যায় কোন রকমে তাদের। সকালে মাঠে যাওয়ার পথে পা দিতেই স্বপনে ঘুম ঘুম ভাবটা কেটে গিয়ে চনমনে লাগে ঘড়িতে তখন বিকেল চারটে সমস্ত গ্রামটা যেন নিষ্পাপ শিশুর মত লাগে।স্বপন হালদার বয়স 25। গ্রাজুয়েট হয়েছে হাওড়া নরসিংহ দত্ত কলেজ থেকে। টিউশানি করে চুটিয়ে। গ্রামে থেকে চাষবাস দেখাশোনা করা, টিউশনি করা তার পেশা। বাবা মারা গেছেন দু বছর আগে বাড়িতে মারছোট ভাই আছে।স্বপনের অনেক বন্ধুর মধ্যে কেতুগ্রামের নুর আলি অন্যতম প্রধান বন্ধু। বাড়ি আসে আবার সময় পেলে ওদের বাড়ি যায় স্বপন। আসলে নুর আলির বাবার বন্ধু ছিলেন স্বপনের বাবা। এইভাবে হিন্দু-মুসলমানের পরিবার বন্ধুত্বের বন্ধনে আবদ্ধ। কবি নজরুল লিখেছিলেন, “আমরা একই বৃন্তে দুটি কুসুম হিন্দু মুসলমান।”স্বপন আজ খুব সকালে ঘুম থেকে উঠে মাঠে গিয়েছিল কবিগুরু রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর একটি গান গাইতে গাইতে। ” যদি তোমার দেখা না পাই প্রভু এ জীবনে” গাইতে গাইতে যাচ্ছিল! হঠাৎ মর্নিং ওয়াক করতে যাওয়া যদু মাস্টারের 19 বছরের মেয়ে তনুর সঙ্গে দেখা।সে বলল স্বপনদা মাঠে যাচ্ছ আজ একবার আমাদের বাড়িতে যেও ইংরেজিটা দেখিয়ে দেবে। বাড়িতে বাবা আছেন।বেগুনি আর মুড়ি খেতে খেতে স্বপন আর তনু কথা বলছিল। পাশের ঘরে তনুর বাবা-মা জানে ওদের প্রেমের কথা। ওদের দুই পরিবারের মধ্যে মিলনে কোন বাধা নেই। সকালে মুড়ি খাওয়ার পর হাত ধুয়ে তনু সামনে বসল বিয়ের দিন ঠিক হয়েছে পনেরোই কার্তিক মাস। নদীর জলে ভরা ঢেউ লাগলো, কেঁপে উঠলো শরীর বাঁশি। দুজনেই বিয়ের আগেই মিলনের অপূর্ব স্বাদ মিটিয়ে নিল। বিধাতার খেলা। কখন যে কার কি হয় কেউ বলতে পারে না।সেদিনের সেই ঘটনার পরে স্বপন চাইছিল যত তাড়াতাড়ি সম্ভব বিয়েটা সেরে ফেলতে। কারণ সাবধানতা অবলম্বন না করায় মা হওয়ার লক্ষন প্রকাশ পেল তনুর দেহে।বিয়ে হওয়ার কথা ছিল কিন্তু তনুর দাদু মরে যাওয়ায় বিয়ের দিন ঠিক হল এক বছর পরে। এদিকে তো চিন্তায় পরলো স্বপন আর তনু। স্বপন খুব ভোরে মাঠে গিয়েছে।নিজে গিয়ে জমিতে আল বেধেছে। অভ্যাস নেই। তবুও চেষ্টা করছে ।ঠিকই কিন্তু মুনিষ দিয়ে বেশিরভাগই কাজ করায়। কিন্তু ওর ইচ্ছে সব কিছু নিজে চাষ করে ফসল ফলানো।
তার মজাই আলাদা।একমাত্র কৃষক ছাড়া কেউ তা অনুভব করতে পারে না।
কৃষকের জয় হোক।সেনাবাহিনীর জয় হোক।

হিমযুগ বা মৃত্যুপুরির নাম শুনেছি এতদিন কিন্তু আমি যে মৃত্যুপুরীতে যেতে পারবো এ কথা ভাবতে পারিনি কখনো।
ছোটবেলায় মা ভয় দেখাতেন বাড়ি থেকে বেরোবি না বাইরে। বেরোলেই তোকে ধরবে আর আঘাত করে মেরে দেবে।
মায়ের কথা কোনদিন মিথ্যে হয় না না তাই না? আজ দেখি বাইরে বেরোনো কত ভয়, বাইরে বেরোলেই মৃত্যুভয় । এক কালো থাবা নিয়ে বসে আছে বিরাট দৈত্য তার নাম, করোনা।

মৃত্যুভয় আমার শুধু নয় পৃথিবীর সমস্ত প্রাণী ঘরের মধ্যে সেঁদিয়ে গেছে কোন এক ভয়ে। এক দৈত্যের ভয়ে।
পৃথিবীর প্রত্যেকটি দেশ লকডাউন পালন করছে। লকডাউন মানে ঘরে বসে থাকা।। ঘরে বসে থাকো, বাইরে বেরোবে না বাইরে বেরোলেই মৃত্যুর করাল থাবা বা মহা কাল তোমাকে গ্রাস করবে।
কিছু মানুষ সাহস দেখাচ্ছে তারা বাইরে বেরিয়ে কেউ চা খেতে যাচ্ছে কেউ আড্ডা মারতে যাচ্ছে কিন্তু তারা মূর্খ তারা ভেবেও দেখছে না তাদের জন্য তার পরিবার টাও ধ্বংস হবে।
বাইরে ঘুরে ঘুরে বেড়াচ্ছে তারপর রোগ নিয়ে ধুঁকছে বাড়িতে হাসপাতলে গিয়ে দেখছে করোনা। টেস্ট করলে করোনা পজেটিভ তখন বাড়ির সমস্ত সদস্যকে কোয়ারান্টিনে রাখা হচ্ছে কে যে কখন মরবে তার কোন গ্যারান্টি নেই।
কেমন রূপকথার মতো শোনাচ্ছে তাইনা আমাদের পরের যুগে যে যুগ আসবে তখন কার ছেলেমেয়েরা এইরূপকথা শুনবে আর ভাববে কি সুন্দর লিখে গেছে লেখক। রূপকথা ভুলবার নয়। এ রূপকথা যে সত্যিই তারা বিশ্বাসই করতে চাইবে না।
আমরা যেমন বলি তেপান্তরের মাঠ ছিল না তারপর রূপকথাও ছিল না। সব বানানো গল্প হয়তো সেগুলো ঠিক ছিল, হয়তো সত্যি সেগুলো, আমরা তাদের মিথ্যা বলি কিন্তু এখন যেগুলো ঘটনা ঘটছে সেগুলো তো একদম রূপকথার মতোই তাই বিশ্বাস না করে উপায় নেই।
জানালা দিয়ে দেখছি কিছু লোক ঘুরে ঘুরে বেড়াচ্ছে কত কায়দায় কত আর্ট নিয়ে ঘুরে বেড়াচ্ছে তারা ঘরে যারা আছে তাদের মূর্খ প্রতিপন্ন করছে। তাদের নামে কুৎসা রটাচ্ছে আর দেখা যাচ্ছে কিছুদিন পরে তারা রোগে আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে চলে যাচ্ছে। তোমাকে ভয় নেই করোনা তাদের, যারা বাইরে ঘুরে ঘুরে বেড়াচ্ছে আইন অমান্য করে। আর তারাই রোগ ছড়িয়ে দিচ্ছে।
তবে হ্যাঁ বাইরে যেতে হবে বৈকি। খাবারের জোগাড় করতে হবে তার জন্য অস্ত্র চাই তার জন্য বর্মা পরতে হবে। বর্মা কি? মুখে মাক্স নিতে হবে N95, তারপর হাতে গ্লাভস নিতে হবে পায়ে জুতো পরতে হবে সারা অঙ্গ ঢেকে রাখতে হবে তবে গিয়ে বাইরে বেরোতে হবে বাড়ি থেকে আসার পর সেসব সম্পূর্ণ চেঞ্জ করে তাদের সাবান দিয়ে ধুয়ে বালতিতে ডুবিয়ে রাখতে হবে তারপর নতুন কাপড় পরিধান করে এমনকি সবজিগুলো কেউ ধুয়ে নিতে পারলে ভালো হয়।
কিন্তু এত কিছু তো করা যায় না মানুষ তো অলসের জাতি তাই বলে থাক অত কিছু হবেনা আর ওইখানেই তো গন্ডগোল ওইখান থেকেই ছিদ্রপথে করোনাভাইরাস হাসতে হাসতে ঢুকে যায় আর ঢুকে গিয়ে ধ্বংস করে পৃথিবী।
অংশুমান আর মিলন বাবু জানলায় দুটো বাড়ি পাশাপাশি থাকে তারা জানলা দিয়ে কথাবার্তা বলছে মিলন বাবু তার বক্তব্য রাখছেন যে কিছু লোক আছে যারা বেপরোয়া হয়ে বাইরে ঘুরে বেড়াচ্ছে তাদের রোগের ভয় নেই কিন্তু অজান্তেই তাদের অজান্তেই বের হতো তাদের শরীরে প্রবেশ করেছে। মিলন বাবু জানলা দিয়ে বলছেন, করোনা ভাইরাসের জেরে বিশ্বদুুয়োর বন্ধ। লকডাউন শুরু হল বিশ্বজুড়ে করোনা ভাইরাসের প্রকোপে। দোকান, বাজার, হাট স্কুল, কলেজ সব বন্ধ।তবু মিলনবাবু দোকানে গেলেন একবার। তিনি বলেন, আমার কিছু হবে না’,।
কিন্তু বিজ্ঞানীরা বলছেন এই ভাবনাটাই করোনাকে, বিশ্ব মহামারীতে, পরিণত করার ক্ষেত্রে অন্যতম কারণ। সোশ্যাল ডিস্ট্যান্সিং নিয়ে বারবার বলা সত্ত্বেও এ দেশে বাজার-ঘাটে সেই দৃশ্য খুব কমই দেখা যাচ্ছে। অথচ দেশে ক্রমেই বাড়ছে আক্রান্তের সংখ্যা। এই পরিস্থিতিতে আমেরিকার একটি ঘটনা রীতিমতো আশঙ্কার সৃষ্টি করতে পারে। লকডাউন চলাকালীন মাত্র একবারের জন্য দোকানে গিয়েই করোনা আক্রান্ত হলেন এক ব্যক্তি। অথচ তিনি মাস্ক, গ্লাভস সমস্ত কিছুই পরে গিয়েছিলেন।

মিলনবাবু জানিয়েছেন, তিনি লকডাউন সম্পূর্ণই মেনে চলছিলেন। কিন্তু ঘরে খাবার শেষ হতেই তাঁকে যেতে হয়েছিল দোকানে। তাও একটি দোকানেই গিয়েছিলেন তিনি। সেদিন পর থেকেই শরীর খারাপ হতে থাকে। জ্বর, শরীরে অসহ্য ব্যথা। এরপরই প্রশাসনের সঙ্গে যোগাযোগ করলে তাঁর করোনা টেস্ট হয়। সেখানেই তাঁর রিপোর্ট পজিটিভ আসে।
মার্কিন এক যুবককে সাউদার্ন ক্যালিফোর্নিয়া হসপিটালে ভরতি করা হয়েছে। ৩১ বছর বয়সী সেই যুবকের নাম বেনজি হা।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, করোনায় আক্রান্ত ব্যক্তির হাঁচি বা কাশি থেকে ভাইরাস ছড়ায়। সেক্ষেত্রে আক্রান্ত ব্যক্তির সঙ্গে দূরত্ব বজায় রাখলেও সংক্রমিত হওয়ার আশঙ্কা থাকে। আক্রান্ত ব্যক্তির ড্রপলেট অন্য কারও নাক, মুখ, চোখ দিয়ে শরীরে প্রবেশ করতে পারে। তাই ভাল মাস্ক, চশমা পরাটা আবশ্যক বলে জানিয়েছেন বিশেষজ্ঞরা। বেনজির ক্ষেত্রেও সেভাবেই সংক্রমণ ছড়িয়েছে বেশি।

ফেসবুক দিয়ে আপনার মন্তব্য করুন
Spread the love

You may also like...

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

কপি করার অনুমতি নেই।