সাপ্তাহিক ধারাবাহিকে সুদীপ ঘোষাল (পর্ব – ৪৫)

সীমানা ছাড়িয়ে
রাজস্থানে বেড়াতে গিয়ে ট্রেনে পরিচয়। সেই ফুলবাবার বাড়িতে বেড়াতে গিয়ে এক ভয়ংকর অভিজ্ঞতা হয়েছিলো।
ওনাদের বড়ো বড়ো পুকুর । পূর্ব বর্ধমানের এই গ্রামের মত বড় পুকুর খুব কম গ্রামেই আছে ।
আমার মাছ ধরার নেশা । কাউকে কিছু না বলে একটা মাছ ধরার হুইল নিয়ে শ্যাওড়া গাছের ছায়ায় বসেছি ।
দুপুর গড়িয়ে সন্ধ্যা হল । বাড়িতে সকলের শঙ্খধ্বনি শোনা যাচ্ছে ।এ নেশা সাংঘাতিক । যার আছে সেই জানে । ফাৎনা ডুবে গেছে । আমি খেঁচ মেরে মাছ ডাঙায় তুলে ফেলেছি ।এক হাতে টর্চ ।
হঠাৎ এক পায়ের এক সাদা কাপড় পড়া বুড়ি এসে বললো, পেলি এতক্ষণে একটা মাছ । এই দ্যাখ , আমি আনছি ।
বলেই জলে ঝাঁপিয়ে পড়লো । দু হাতে দুটো মাছ ধরে হাসতে লাগলো ।
_____হি হি হি হি
হৃদয় থমকে দেওয়া সেই হাসি ।
তারপর এক পায়ে লাফিয়ে শ্যাওড়া গাছে উঠে বললো, আয় আয় গাছে আয় ।
আর সঙ্গে সঙ্গে একটা ঝড় আমাকে উড়িয়ে গাছে তুলে আবার নামিয়ে দিলো ।
তারপর আমার জ্ঞান ছিলো না ।
শুনেছি আমার শালাবাবু বন্ধু দের সাথে নিয়ে আমাকে উদ্ধার করে ।
তারপর আর কোনোদিন মাছ ধরার শখ হলেই অই মেছো পেত্নীর কথা মনে পড়ত
।
এখন আমি জেনে গেছি ভূত বলে কিছু নেই । তবু ছোটোবেলার বিশ্বাস ধরে বেঁচে থাকতে ভালো লাগে । পাঠক নিশ্চয় ক্ষমা করবেন । আবার এক ঘটনা মনে পড়ছে। বলবেন, এই বয়সে । আমি বলি আমার কবি বন্ধু বলেন বয়সটা সংখ্যা মাত্র । অন্য কিছু নয় ।
আমার ছোট পিসির বাড়ি বেলুন গ্রামে । দূর থেকে যখন দেখতাম বাবলা পলাশ, শিমূলের মায়া ঘেরা একটা ছবি ভেসে উঠতো চোখের সামনে । আমার বাড়ি পুরুলে গ্রামে । তখন রাস্তা ঘাট এত উন্নত ছিল না । হাঁটা পথে আল রাস্তা ধরে আমি পিসির বাড়ি যাওয়া আসা করতাম । পিসীর আদরের টানে বার বার বেড়াতে যেতে মন হতো । কিন্তু ভয় করতো । সেই ভয়ের কথাই বলছি।
একদিন আমি ও আমার ভাই বাবু পিসির বাড়ি যাচ্ছিলাম । যেতে যেতে রাস্তায় সন্ধ্যা নেমে এলো । ছোটো কাঁদরের ধারে জঙ্গলে শিয়ালগুলো ডাকতে শুরু করেছে । তারা সুর করে বলছে, হুক্কাহুয়া হুক্কাহুয়া, ছোটো ছেলে বাগিয়ে শোয়া । খুব ভয় করছে । তারপর আবার মড়ার উপর খাঁড়ার ঘা ।
বটগাছতলার কাছাকাছি আসতেই দেখতে পেলাম বড় বড় দুটো পা রাস্তা আগলে রেখেছে।
বাবুর খুব সাহস । বললো, কে গো তুমি ,পা টা একটু সরাও না । আমরা যাবো ।
____দাঁড়া আমার প্রশ্নের উত্তর দিয়ে যা ।
____বলো কি বলছো ?
_____তোদের থলিতে কি আছে দেখা ।
____কিছু নেই ।
_____তবে রে , আমি তো মাছের গন্ধ পাচ্ছি ।
_____ঠিক বলেছো । পিসিকে দোবো ।
___আমাকে দে বলছি
এই বলে মেছে ভূতটা থলিটা উড়িয়ে নিয়ে বট গাছের ডালে ঝুলিয়ে কাঁচা মাছ চিবিয়ে খেতে লাগলো । জ্যোৎস্না শুনে ভয় পেয়ে জিজ্ঞাসা করতো, সত্যি, বাবারে আমি আর শুনবো না। বলেই ভয়ে আমাকে জড়িয়ে ধরতো। আমি বলতাম,
তারপর থেকে বাবার সঙ্গ ছাড়া আমরা পিসির বাড়ি যেতাম না ।
পরে বাবা বুঝিয়ে বলতেন, অই গাছের ডালপালা অন্ধকারে দেখতে ভয় লাগে । ভূত বলে কিছু হয় না ।
তবু আমারএই বিশ্বাস ধরে বেঁচে থাকতে ভালো লাগে ।আর একবার জ্যোৎস্নাকে গল্প শুনিয়ে ছিলাম। সে অবাক হয়ে শুনেছিলো।
অন্ধ কুসংস্কার কত জনের প্রাণ কেড়ে নেয় আমার মামার বাড়িতে দেখেছিলাম ।
বীরভূম জেলার আহমদপুর স্টেশনে নেমে জুঁইতা গ্রামে আমার মামার বাড়ি ।গ্রামের পাশ দিয়ে বয়ে চলেছে বক্রেশ্বর নদী ।গাছে গাছে সাজানো গ্রাম । তখন আমার বয়স চোদ্দ কি পনেরো।
আমি মামার বাড়িতে এলে একমাস থাকতাম। আসার দুই দিনের মধ্যেই জানতে পারলাম বুড়ো বটগাছতলায় একটি লোক একমুখ দাড়ি নিয়ে নানা রকমের বিস্ময়কর কাজ করে দেখাচ্ছে। হাত থেকে আগুন বের করে দেখাচ্ছে। প্রচুর লোক তাকে দেখতে আসছে ।
আমি একটা লোককে জিজ্ঞাসা করলাম, আপনি কি আশায় ওখানে যাচ্ছেন।
____ আরে দাদা, উনি মহাপুরুষ , উনি যা বলেন তাই হয় ।
——কি রকম, একটু ভেঙ্গে বলুন ।
——–একটো ঘটি আছে । ঘটিটো থেকে জল ছিটিং দিছে আর তারপর যা বঁলছে তাঁই হচে ।