নিয়মিত বা অনিয়মিত পাঠকগণ এ বিষয়ে যে ঠিক কী ভাবেন, তা একপ্রকার অজ্ঞাত থাকলেও আপন গণমাধ্যমিক পরিসরটিকে প্রিয়জন সম্পর্কে ভিন্নতর রচনায় সুসজ্জিত রাখতে স্বাচ্ছন্দ্য বোধ ক’রি আমি। সারস্বত সাধনায় মূলতঃ বৈপ্লবিক বার্তাকেই অগ্রাধিকার দিতে চাইলেও প্রেমকেন্দ্রিক এই স্বতঃস্ফূর্ততা প্রায়শই বিস্মিত করে আমায়। নিজেকে প্রশ্ন ক’রি যে লক্ষ্যভ্রষ্ট হ’চ্ছিনা তো?
অথচ অভিজ্ঞতা পর্বতপ্রমাণ হওয়া সত্ত্বেও যখন সেটি নির্মাণ করে যৎকিঞ্চিৎ উত্থানের সমান্তরাল অজস্র পতনোন্মুখ মুহূর্ত, তখন সেগুলিকে লিপিবদ্ধ করবার আকাঙ্ক্ষা প্রবল হ’য়ে ওঠে। নিছক নির্লজ্জ প্রদর্শনই নয়, হৃদয়ের অকুল পারাবারে একান্তে তীরস্পর্শবশতও ভাষার দুর্বোধ্য লৌহজালিকার অন্তরালে এই স্বগতোক্তিসমূহ উন্মুক্ত রাখি। কৌলীন্যরক্ষার্থে কিছু পদক্ষেপ যে বাধ্যতামূলক গ্রহণ ক’রতেই হয় তা স্রষ্টার অধিক কে’ই বা জানে?
ব্যক্তিগত জীবনে যার সান্নিধ্যে প্রায় সমস্ত সুখের মুহূর্ত সংগ্রহে সক্ষম হ’য়েছি, দুঃখও আপন উপস্থিতি রেখেছে মূলতঃ তার পারিপার্শ্বিকেই। অধিকাংশের পরিপ্রেক্ষিতে অত্যুক্তি হ’লেও অতিক্ষুদ্র জীবৎকালে মনুষ্যকৃত আঘাতের পরিমাণ প্রবলতর হওয়ায় এখনও অবধি তথাকথিত সাফল্যের মুখদর্শন করা সম্ভব হয়নি। ব্যর্থতার দায় কেবল ব্যর্থেরই হ’লেও মানুষের ওপর বিশ্বাস না হারাবার শিক্ষা হয়তো দুর্বলতারই নামান্তর।
এই ক্ষুদ্র সময়টুকুতে অজস্র স্বপ্ন দেখেছি আমি (বা আমরা উভয়েই) এবং প্রত্যেকটিই জন্মের পূর্বে পত্রপাঠ স্বর্গলাভ ক’রেছে। সহস্রবার রক্তাক্ত হওয়া সত্ত্বেও কেবল জনৈকাই কখনও নিরুৎসাহ করেনি, বরং আপন সত্ত্বা বিসর্জন দিয়ে আমাকে পুনরায় আলোর উৎস নির্দেশ ক’রেছে। কিন্তু ক্রমানুসারে বহিরাগত আঘাতে নিজস্বতার শেষটুকুও আমি রক্ষা ক’রতে অপারগ, অথচ চরিত্রহীনতার অতলস্পর্শী অন্ধকারে ত’লিয়ে যাইনি কেবল সেই কারণেই।
এতোখানি সময় একত্রে অতিবাহিত ক’রেও কোনোদিন তাকে নিশ্চিন্ত ক’রতে পারিনি কেবল সংস্থানের অভাববশতঃ। এই সংস্থান আমি ক’রতে ইচ্ছুক ছিলাম গতানুগতিকতা পরিহার ক’রে, কিন্তু বিধাতাপুরুষের ললাটলিখন এতো অতিরিক্ত ভয়ানক ছিলো যে আপন মস্তিষ্ক ও হৃদয়ের যুদ্ধে আমি হৃদয়কে পরাজিত ঘোষণা ক’রতে বাধ্য হ’লাম (এ ব্যাখ্যা যথাসময়ে প্রকাশ্য)। প্রিয়তমা ব্যতীত এ সমর অনর্থক যে…
পাঁচটি বছর তার যতোখানি কেড়ে নিলো, আমি কেবল নতজানু হ’য়ে হাতে কোটিগুণে তুলে দিতে চাই।