মা বাবার আদরের মেয়ে হলো বৃষ্টি।যেমন সুন্দরী তেমন বুদ্ধিমতী আর নৃত্য পটীয়সী। পড়াশুনাই তার প্রাণ।বরাবরই ভালো রেজাল্ট করে এসেছে তাই উচ্চশিক্ষা করতে করতে ভালো সম্বন্ধ এলেও প্রত্যাখ্যান করে শুধুমাত্র পড়াশুনার জন্য। দেশের বাইরে পোস্ট ডক্টরেট করার ইচ্ছে। ইতিমধ্যে সে সিলেক্ট হয়েছে জুনিয়র সাইন্টিস্ট হিসেবে পলুশন কন্ট্রোল বোর্ডে। এত কম বয়সে সবাইকে বিট করে এগোনো অসম্ভব ছিল।বাড়ির সাপোর্ট ছাড়া সম্ভব না। যাই হোক মা বাবার আশীর্বাদে প্রথম দিন যোগদান করল সানন্দে। গিয়ে দেখে সহকর্মী মহিলা বলতে সে আর একজন। যত দিন এগোতে থাকে বুঝতে পারে এত পুরুষের মাঝে কন্যা রত্ন কে দেখে সবাই একটু ঈর্ষান্বিত, কেউ কেউ অন্যভাবে টিস করে,আবার কেউ ভালো মানুষির ভান করে।সত্যি বলতে ভালো মানুষের সংখ্যা কম। বস ও খিট খিটে। পান থেকে চুন খসলেই বিপদ।একটু মন মরাই থাকে বৃষ্টি।এমত অবস্থায় মনের মত সম্বন্ধ আসায় বেশ ছয় মাস আলাপচারিতার মাঝে বিবাহ সম্পন্ন হয় আই বি এম এর চিত্রকের সাথে। ছেলেটি খুব ভালো মনের মানুষ,বিয়ে করার একমাত্র কারণ,আর বৃষ্টি কে খুব ভালোবাসে ফেলেছে। প্রথম এক বছর স্বপ্নের মত কেটে গেলেও স্বপ্ন ভঙ্গ হতে শুরু করে।শ্বশুর বাড়িতে কাজ ভালোভাবে না করতে পারার জন্য কথা শুনা, শত চেষ্টাতেও কাউকে খুশি করতে ব্যর্থ হয়। এদিকে অফিসেও এক অবস্থা, মহিলারা যেন ভিন গ্রহের মানুষ, তারা সব কিছু পারলেই দোষ বা নানান অছিলায় কথা শুনা নিত্য সঙ্গী। কোথায় যেন অফিস বাড়ি ব্যাল্যান্স করতে পারছে না। সাকসেস ও মানুষকে সুখ দেয় না সবসময়। খুব কষ্ট হয় বৃষ্টির, বুক ফাটলেও মুখ ফোটে না। বৃষ্টির খুব প্রয়োজন নিজের সঙ্গে কথা বলা নিজেকে সময় দেওয়া। এবার দেশের বাড়িতে গিয়ে বৃষ্টি শুধু নিজের সাথে সময় কাটাবে।আর নিজের সাথে নিজের কথা বলবে আর সব অভাব অভিযোগ বাড়ির সামনের পুকুর ঘাটে জল দেবতাকে জানাবে।কথায় আছে ঘাটের কাছে জল দেবতাকে মনের দুঃখের কথা খুলে বললে অনেক দুঃখ লাঘব হয়। বৃষ্টি তাই করল চোখের জলের হিসেব চাইল ঘাটের কাছে।জানেনা সে আদৌ কষ্ট কম হবে কিনা।তবু যদি প্রবাদ ঠিক হয় সেই আশাতেই বুক বাঁধল।
তাই নারী স্বাধীনতা কতটা সার্থক হয়ত জানা নেই বৃষ্টির মত অনেকের।তবু প্রতিনিয়তই লড়াই চালিয়ে যেতে হবে স্বাধীনতা অর্জনে।কেউ পাশে না থাকলেও একলা ই চলতে হবে যে।