ধারাবাহিক রম্য রচনায় সংযুক্তা দত্ত – ১৫

কাল গণপতিজী মর্ত্যে আগমনের দিন। বাধা বিঘ্ন দূর করার জন্য আমরা যার শরনাপন্ন হয়ে থাকি আর কী।
গণপতিজীর একটা জিনিস আমার হেব্বি লাগে মানে উনি নিজের হেব্বিনেস কমানোর জন্য কোনো চেষ্টা করেন না, ডায়েটিং ইত্যাদির একেবারেই ধার ধারেন না। তাই তো আমাদের ছোটবেলার ছড়ায় ছিল,” গনেশ দাদা পেটটি নাদা। ‘ আমিও এই ব্যাপারে গনেশ দাদার একনিষ্ঠ ছাত্রী অর্থাৎ ডায়েটিং নৈব নৈব চ। বিশাখাপটনমের কালীবাড়ির মহালয়া অনুষ্ঠান। বেশ কতগুলি আগমনী গানের সাথে নাচের প্রাকটিশ চলছে। নাচের দিদি একখানা কোরিওগ্রাফি করলেন যেখানে মাঝখানে একজন দুর্গা হয়ে দাঁড়াবে আর চারজন লক্ষী, সরস্বতী, কার্তিক গনেশ হবে, বাকিরা সামনে হাত জোড় করে বসবে। দুটি বেশ মিষ্টি মিষ্টি মেয়েকে লক্ষী সরস্বতী বাছা হল। একটি গোলগাল ছেলে হল গনেশ আর একটি রোগা পাতলা মেয়ে কার্তিক। এবার সাসপেন্স দুর্গা কে হবে? কীভাবে দিদি বাছবেন? নাচে সবচেয়ে এক্সপার্ট নাকী সবচেয়ে সুন্দরী? সবচেয়ে ভালো নাচত একটি কলেজে পড়া তেলেঙ্গানার মেয়ে। আমি সদ্য সদ্য বহু বছরের অনভ্যাসের পর যোগ দিয়েছি দলে সুতরাং আমি এই দৌড়ে নিজে আছি বলেই ভাবি নি। ওমা দেখি দিদি আমাকেই এক ধমক দিয়ে বলল দুর্গা পোজে দাঁড়াতে। অবাক কান্ড, অনেকেই অসন্তুষ্ট কিন্তু নাচের দিদি খুব রাগী তাই কেউ কিছু জিগ্গেস করতে পারছে না। কয়েকদিন পর আমি সাহস করে জিগ্গেস করলাম,”কেন আমায় দুর্গা বাছলে দিদি?” বলল দুটো কারণে, এক নম্বর চোখের এক্সপ্রেসন আর দু নম্বর ভরাট চেহারা। আসলে বাকি সবাই বেশ রোগা পাতলা ছিল আর আমি শত্তুরের মুখে ছাই দিয়ে বেশ শাঁসে জলে তাই স্টেজে দুর থেকেও বেশ দেখা যাবে এই দুর্গাকে।
মোদ্দা কথাখানা হল যে, গনেশ দাদাকে আইডল করে ডায়েটিং ফলো না করার ও যে কিছু ভালো সাইড এফেক্টস আছে সেদিন জেনেছিলাম।