সম্পাদকীয়

রঙীন আগামীর অঙ্গীকার

“অযুত বৎসর আগে হে বসন্ত,
প্রথম ফাল্গুনে মত্ত কুতূহলী,
প্রথম যেদিন খুলি নন্দনের
দক্ষিণ-দুয়ার মর্তে এলে চলি। ”
( রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর )

“এলো বনান্তে পাগল বসন্ত।
বনে বনে মনে মনে রং সে ছড়ায় রে,
চঞ্চল তরুণ দুরন্ত।
বাঁশীতে বাজায় সে বিধুর পরজ বসন্তের সুর,
পান্ডু-কপোলে জাগে রং নব অনুরাগে
রাঙা হল ধূসর দিগন্ত।।”
( কাজী নজরুল ইসলাম )

এই দুই বিশ্ববরেণ্য কবি পরাধীন ভারতে থেকে পরাধীনতার গ্লানিকে উপেক্ষা করে উপরিউক্ত কবিতার অবতারণা করেছেন। পরাধীণতার শোকে মুহ্যমান হয়ে তাঁরা বিলাপ করেন নি। জীবনের জয়গান গাইতে শিখিয়েছেন তাঁরা। আজ পৃথিবীর বিভিন্ন প্রান্ত যুদ্ধ বিধ্বস্ত। বাতাসে ছড়ানো বারুদের গন্ধ। নিরন্ন মানুষের হাহাকারে ক্লিষ্ট। দিগন্তের রঙ বড়োই ধূষর। নির্বিচারে অরণ্যনিধন যজ্ঞে মানুষ ব্যাপৃত হওয়ায় পৃথিবী থেকে সবুজ রঙ হারিয়ে যেতে বসেছে। আকাশও আজ দূষণের যূপকাষ্ঠে বিবর্ণ। এই অবস্থায় ঘরবন্দী থেকে ফেসবুকের প্রোফাইল কালো করে প্রতিবাদে সামিল হওয়ার চেয়ে বরং আসুন আমরা বৃক্ষরোপণ করে পৃথিবীর সবুজ রঙ ফিরিয়ে আনি। নিয়ম করে বর্ষা আসুক। আকাশ হোক নীল। নদীকে বন্ধনমুক্ত করে দিই। স্রোতস্বিনী ফিরে পাক স্রোত। সেই স্রোতে আবর্জনা ভেসে গিয়ে কলুষমুক্ত হোক বসতি। যুদ্ধমুক্ত পৃথিবী গড়ে তুলতে উৎসবকে সার্বজনীন মাত্রা দিয়ে মৈত্রী ও সম্প্রীতির বার্তা ছড়িয়ে দেওয়া হোক। রঙের আজ বড়োই অভাব। তাই আমাদের মনে হয় অনাবিল আনন্দের শরিক হতে প্ররোচনামূলক কথাকে আমল না দিয়ে সদর্থক চিন্তা ভাবনা মনে পোষণ করা প্রয়োজন। আর তাই আজ কবি সুকান্তের ভাষায় এই বসন্তোৎসবে শপথ নেবো:

” চলে যাবো, তবু আজ যতক্ষণ দেহে আছে প্রাণ, প্রাণপনে পৃথিবীর সরাব জঞ্জাল,
এ বিশ্বকে এ শিশুর বাসযোগ্য করে যাব আমি-
নবজাতকের কাছে এ আমার দৃঢ় অঙ্গীকার।”

সায়ন্তন ধর

ফেসবুক দিয়ে আপনার মন্তব্য করুন
Spread the love

You may also like...

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

কপি করার অনুমতি নেই।