সম্পাদকীয়

হাল ছেড়ো না বন্ধু

সাফল্য বিচারের মাপকাঠি কিন্তু বেশ জটিল। ক্রিকেট দিয়ে বোঝানোর চেষ্টা করি… এই যে ভারত প্রথম বিশ্বকাপ জেতে ১৯৮৩ তে… তার আগে বা পরে কপিলদেবের খেলা প্রসঙ্গে সেই আমলের কাউকে তেমন বলতে শুনি না। বিশ্বকাপের মতো মঞ্চে নিজেকে উজাড় করে দিয়ে তিনি সেরাদের তালিকায় স্থান পেয়েছেন। আবার সুনীল গাভাস্কার সেই দলে থাকলেও তাঁর জনপ্রিয়তা ওয়েস্ট ইন্ডিজের বাঘা বাঘা বোলারদের সামলানোর ব্যাপারে। সৌরভ গাঙ্গুলীকে এখনও বিশ্ব ভারতের শ্রেষ্ঠ ক্যাপটেন হিসেবে চেনে। তাঁর কিন্তু একটাও বিশ্বকাপ জেতা হলো না। এখানে মাপকাঠি বিশ্বকাপ নয়, একটা নুইয়ে পড়া দলের আত্মবিশ্বাস ফিরিয়ে দল গঠন, যা তার রিটায়ারমেন্টের দশ বছর পরেও ফলপ্রসূ ছিল। একটাও বিশ্বকাপ না খেলা ভিভিএস লক্ষ্মণকে ডাকা হয় ভেরি ভেরি স্পেশাল নামে। যখনই দল বিপদে, তার কব্জির মোচড়ে সেই বিপদকে বাউন্ডারি পার করে দেওয়ার নাম লক্ষ্মণ। আবার সচিন, শেহবাগ, যুবরাজ, ধোনির মতো প্লেয়াররা যেমন বিশ্বকাপে জাত চিনিয়েছে, তেমনি অন্য সময়েও ছিল অপরিহার্য। বিরাটের কথা ধরুন, প্রথম বিশ্বকাপেই বাচ্চা ছেলেটা পেয়ে যায় ট্রফি জেতার স্বাদ। প্রথম ম্যাচে বাংলাদেশের বিরুদ্ধে সেঞ্চুরি বাদে তেমন উল্লেখযোগ্য কোন পারফরম্যান্স দেখিনি তার। তাই বলা যায় জীবনের প্রথম বিশ্বকাপেই জয় পাওয়াটাই কিন্তু তাকে ‘বিরাট’ করে তোলেনি। বরং তার পর থেকে রেগুলার পারফরম্যান্স, এমনকি পৃথিবীর সর্বকালের সবচেয়ে ধারাবাহিক ব্যাটসম্যান (ব্রাডম্যানকে বাদ দিচ্ছি কারণ তখন এত ধরনের ক্রিকেট ছিল না) হওয়ার সুবাদে গোটা বিশ্ব তাকে মনে মনে হলেও কুর্নিশ জানায়। প্রায় সমমানের প্লেয়ার হয়েও এবং বিরাটের এক বছর আগে অভিষেক হয়েও রোহিতের কিন্তু কোন বিশ্বকাপ জেতার নজির নেই… তবু সেও তার নিজগুণে আজ জনপ্রিয়। আবার এমন কিছু প্লেয়ার আছে যারা হয়তো ভাগ্যক্রমে বিশ্বকাপ দলে চান্স পেয়ে বিশ্বকাপটাও জিতে নিয়েছে। কিন্তু তারপর কোথায় যে হারিয়ে গেছে কেউ জানে না। মুনাফ প্যাটেলকে মনে পড়ে? সেও কিন্তু ২০১১ বিশ্বকাপের সদস্য ছিল। এখানে দেখা যাচ্ছে বিশ্বকাপ জয়ও তাকে সেই জনপ্রিয়তা এনে দিতে পারেনি। তাই একটা কথাই মনে রাখতে হবে… জনপ্রিয় হওয়ার একাধিক উপায় আছে। একটা দুটো উপায় ব্যর্থ হলেও ক্ষতি নেই, তৃতীয়, চতুর্থ উপায় অপেক্ষা করে আছে তোমার জন্য। তাই “হাল ছেড়ো না বন্ধু…”

সায়ন্তন ধর

ফেসবুক দিয়ে আপনার মন্তব্য করুন
Spread the love

You may also like...

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

কপি করার অনুমতি নেই।