সম্পাদকীয় সায়ন্তন ধর

উৎসব শেষে ছন্দে ফেরা
দেখতে দেখতে শেষ হয়ে গেলো উৎসবের মরশুম। ধর্মীয় উৎসবের পাশাপাশি চলছিলো ক্রিকেট বিশ্বকাপ উৎসব। আর এর পাশাপাশিই আমার অফিসিয়াল কাজের অঙ্গ হিসেবে চলছিলো ভবিষ্যতের ক্ষুদে বিজ্ঞানীদের চিন্তায় কতটা অভিনবত্ব আছে তা বিবেচনা করার কাজ। এবারে এই তিনটি বিষয় নিয়ে ছোট করে একটু বলি। এবারে পুরো উৎসব জুড়ে ছিল অসাধারণ আবহাওয়া। বৃষ্টি এবার একদম উৎপাত করেনি। শীতের আমেজ চলে এসেছিলো দুর্গা পূজার সময়েই। কালীপূজায় সকালের ঘননীল আকাশ ফুঁড়ে সোনালী রোদের ঝলকেও ছিল শীতলতা। সমতলকে দেখা দিলো কাঞ্চনজঙ্ঘাও। দীপাবলির রাতগুলো আলোয় আলোয় ভরে উঠেছিল। এবারে সোশ্যাল মিডিয়ায় চাইনিজ টুনি বনাম দেশীয় প্রদীপের লড়াই তেমন চোখে পড়েনি। সত্যি কথা বলতে এটা আমার বেশ মনে ধরেছে। আমি তো দুটোকেই স্বাগত জানাই। তবে সবুজ বাজি আর নিষিদ্ধ শব্দবাজিতে যে কি ফারাক তা আমি ঠিক ধরতে পারিনি। এত আলো এত আনন্দের মাঝে বিশ্বের কোথাও পড়ছে বিনাশকারী বোমা, আর কোথাও চকোলেট বোমের উৎপাত। এই যে আশার মাঝে হতাশা এই ট্রেণ্ড দেখা গেলো বিশ্বকাপেও। টানা দশ ম্যাচে প্রতিপক্ষকে উড়িয়ে দেওয়া মেন ইন ব্লুজরা ফাইনালে হারিয়ে ফেললো ছন্দ। এর পেছনে ল’ অব অ্যাভারেজ নাকি অন্য কোন রাজনীতি তা নিয়ে আমি ভাবতে রাজি নই। যেদিন খেলা শেষ হলো ঠিক সেদিনই শেষ হলো ইন্সপায়ার মানক এর জন্য জমা পড়া শিশুবিজ্ঞানীদের আইডিয়া বাছাইয়ের কাজটি। কিন্তু ওই যে স্বাদের মধ্যে বিষাদ যেন এবারের নিয়ম হয়ে দাঁড়িয়েছে। আমার দেখা ৩৮০৮৩ টি আইডিয়ার মাঝে মেরেকেটে ৫০ টি আইডিয়া কিছুটা হলেও ইনোভেটিভ মনে হয়েছে। দোষটা কিন্তু শিক্ষার্থীদের নয়। আসলে কোনটি সায়েন্স প্রোজেক্ট আর কোনটি ইনোভেটিভ আইডিয়া তা নিয়ে কুয়াশার আড়ালে রয়েছে স্বয়ং শিক্ষক। মানব শ্বসনতন্ত্র, পৌষ্টিক তন্ত্র বা সংবহন তন্ত্রের মডেল, সৌরশক্তির ব্যবহার বা বায়ুকলের কার্যকারিতা তো আর বর্তমানে ইনোভেটিভ আইডিয়া হতে পারে না। বরং কোন এক ছোট্ট পরিবর্তনে যদি কোন কাজে বাড়তি সুবিধা পাওয়া যায়, তবে সেই পরিবর্তন নবপ্রবর্তনের উদাহরণ। ইনভেনশন ও ইনোভেশন যে সমার্থক নয় তা বোঝাতে হলে বলতে হয় বৈদ্যুতিক বাল্ব ইনভেনশন (আবিষ্কার) করেছিলেন টমাস আলভা এডিসন কিন্তু তারপর থেকে বৈদ্যুতিক বাল্বে যে পরিবর্তনগুলো এসেছে, যা কার্যকরিতায় ও পরিবেশ বান্ধব হিসেবে প্রথমটির তুলনায় অনেক উন্নত, সেই নিয়ন থেকে সিএফএল হয়ে বর্তমানের এলইডি এগুলো সবই ইনোভেশন (নবপ্রবর্তন)। যাই হোক আমার মনে হলো প্রথমে শিক্ষকদের ইনোভেশন খোঁজার এই কাজটা সম্পর্কে একটা ট্রেনিং এর প্রয়োজন আছে। আমি এ বিষয়ে কথাও বলেছি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে। আর এটি সম্ভব হলে উদ্ভাবনী চিন্তার শতকরা হার যে অনেকটাই বাড়বে তা নিয়ে আমি নিশ্চিত। যাইহোক, দীর্ঘ উৎসবের মরশুম কাটিয়ে আবার গতানুগতিক কাজে ফেরার পালা। আমরা আসছে বছর আবার পুজোয় আনন্দ করবো এই সংকল্প নিই। আশায় বুক বাঁধি যে মানব ঘাতক যুদ্ধাস্ত্র ও পরিবেশ ঘাতক বাজি একদিন শেষ হবে। ফাইনালের হারের ধাক্কা কাটিয়ে আমার দেশ ক্রিকেটে আবার জ্বলে উঠবে। শিক্ষক-শিক্ষার্থীর যৌথ প্রচেষ্টায় আগামীর ভারত চিন্তার নতুনত্বে মাত করবে পৃথিবীর তাবড় তাবড় দেশকে।