সম্পাদকীয়

উপেক্ষা

ইগনোর শব্দটির বাংলা করলে দাঁড়ায় উপেক্ষা। এই ইগনোর কথাটা আমাদের বন্ধুমহলে খুব প্রচলিত হয়েছে থ্রি ইডিয়ট সিনেমাটার পর থেকে। আমরা কিন্তু ছোট থেকেই এই শিক্ষাটাই পেয়ে আসি যে খারাপ কিছু, বা অপ্রয়োজনীয় কিছুকে ইগনোর করা উচিত। অথচ আমরা সেই শিক্ষাটাকেই ইগনোর করে ফেলি। ছোট থেকে বাবা মায়ের বলা কত কথাই না উপেক্ষা করেছি, এখনও করছি, ভবিষ্যতেও করবো। মানুষ এমনই, ইগনোর করাটাই তার স্বভাব। পৃথিবীকে বাঁচানোর কথা বলা হচ্ছে, কিন্তু কি হচ্ছে? বেল বিক্রেতা থেকে শুরু করে নোবেল লরিয়েট সকলেই তা উপেক্ষা করছে। তাই বৃহদার্থে না গিয়ে সাধারণ ভাবে বলি, ছোট থেকেই আমি একাকীত্বের কষ্টকে উপেক্ষা করেছি। পরিবর্তে একাকীত্ব আমাকে ভাবতে শিখিয়েছে। আমি উপেক্ষা করেছি আমার আশেপাশে থাকা সমস্ত অসুস্থ প্রতিদ্বন্দ্বিতাকে।। তবে সম্ভবত আমার মধ্যে কোন রকম প্রতিযোগিতাই নেই। আমি যে আগে যেতে চায়, তাকে আগে যেতে দিই। আমি আমার আশেপাশের সমস্ত খারাপকে উপেক্ষা করতে চাই, তবে হয়তো সব পেরে উঠিনা। আমার অজান্তেই আমার ভেতরে তারা বাসা বানাচ্ছে, কোন এক মোক্ষম সময়ে আমাকে খারাপ প্রতিপন্ন করতে। আমার সাথে খারাপ ব্যবহার করা মানুষদের আমি কিছু বলিনা, শুধু ইগনোর করি। পরিষ্কার করে বললে আমাকে যে ইগনোর করে, আমি তাকে ইগনোর করি। তবে আরও অনেক কিছুকে ইগনোর করা শিখতে হবে। ইগো কে ইগনোর করতে হবে। উস্কানিমূলক মন্তব্য বা কেউ যেচে পড়ে ঝগড়া করতে চাইলে তাদের উপেক্ষা করতে হবে। পৃথিবীর ইগনোর করার ক্ষমতাটা দেখেছে কেউ? এখনও পর্যন্ত মানুষের যা পর্যবেক্ষণ তাতে পৃথিবী একমাত্র গ্রহ যেখানে প্রাণ আছে। তাতে কি পৃথিবী তার এই একাকীত্বকে উপেক্ষা করে চলেছে প্রতিনিয়ত। মানুষ কতভাবে ক্ষতবিক্ষত করছে পৃথিবীকে, সেটাও উপেক্ষা করছে। তাহলে এবার আসি কি কি উপেক্ষা করা যাবে না সে প্রসঙ্গে। অনুজীব থেকে নীলতিমি (বৃহত্তম জীব) সকলের থেকে পাওয়া যেকোন শিক্ষাকে উপেক্ষা করা যাবে না। যে ভালোবাসে, তাকে উপেক্ষা করা যাবে না। আর সুযোগ। আমরা অনেকেই এই সুযোগ সময় এগুলোকে উপেক্ষা করি। সেটাকেও উপেক্ষা করা যাবে না। সবকিছুর মতো উপেক্ষারও ভালো ও মন্দ দিক রয়েছে। খারাপকে উপেক্ষা করতে না পারা বা ভালোকে উপেক্ষা করা খারাপ। আবার খারাপকে উপেক্ষা করে ও ভালোকে গ্রহণ করে চললে একটা সুন্দর জীবন থাকে সবার সামনে। যেমন একটি রাজপ্রাসাদ, সে যতই গাম্ভীর্য পূর্ণ বিষয় হোক না কেন, গাছেরা কিন্তু তাকে উপেক্ষা করে নিজেদের উপস্থিতি জাহির করছে। আবার গাছেদের উপস্থিতিকেও উপেক্ষা করছে প্রাসাদ। এই উপেক্ষার ব্যালেন্স যতদিন থাকবে ততদিন এ সহাবস্থান থাকবে। উপেক্ষার ব্যালেন্স বিঘ্নিত হলেই কোন একজনের বিদায় নিশ্চিত।

সায়ন্তন ধর

ফেসবুক দিয়ে আপনার মন্তব্য করুন
Spread the love

You may also like...

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

কপি করার অনুমতি নেই।