T3 || সমবেত চিৎকার || বিশেষ সংখ্যায় স্মরজিৎ দত্ত

তিলোত্তমা বোধন

ওর পরিচিতি ও ভালো মেয়ে;
ভালো পড়াশোনায়, ভালো ব্যবহারে।
ভালোর শেষ নেই ওর মধ্যে,
সেই ভালো মেয়েটা আর-
আর কোনদিন ওই দুর্গা দালানে
জ্বালাবে না প্রদীপ, ঐ দুর্গা দালানে।

মায়ের বোধন হয়, মায়ের বোধন হবে;
তবে এই অযাচিত ভাবে
ভালো মেয়ে হিসেবে পরিচিত,
তার বোধন, তার পরিচিতরা কোনদিন,
কোনদিন পাবে না তাকে কাছে।

আর কোনদিন ফিরে আসবেনা সে;
ওর সমবয়সী, ওর বন্ধু, বান্ধবী
ওর পাড়ার লোক, সকলেই ওকে চেনে।
ওর পরিচিতি একটাই-
বড় ভালো ছিল ওই মেয়ে।

কবি বলেছিলেন,
কলকাতা একদিন তিলোত্তমা হবে।
আজ তিলোত্তমা আর নেই,
তবে হারিয়ে যাওয়া ঐ তিলোত্তমা
জাগিয়ে তুলেছে সারা বাংলাকে।
শুধু বাংলা নয়, সারা ভারতবর্ষে
বিরাট এক নিরাপত্তার প্রশ্নে,
প্রতিবাদের ঝড়ে প্রতিবাদী মুখর হয়ে।

দোষী খোঁজার জন্য
তোলপাড় হয়েছে প্রশাসন;
খবরের কাগজ খবর ছেপেছে প্রথম পাতাতে।
খবরের কাগজ একদিনেই টিআরপি তুলছে ধাপে ধাপে।
তারপর, তারপর-
ধীরে ধীরে একদিন হারিয়ে যাবে,
হারিয়ে যাবে সেই খবর ও সে।

কিন্তু ওই ভালো মেয়েটি,
ওই ভালো ডাক্তারটি,
ওই সুন্দর ব্যবহার দেখানো মেয়েটি,
ওই অসহায়ের আস্থা যে ছিল,
সেই সেই ত্রাতা অসহায়ের দিশা ঐ মেয়েটি!
তাকে কি আর কেউ, কোনোদিন, কোনো অসহায় খুঁজে পাবে তাকে?

শাস্তি আছে, আইন আছে,
প্রকৃত দোষী, হয়তো তাকেও পাওয়া যাবে
তাকেও পাওয়া যাবে খুঁজে।
তার হয়েও কোন আইন বিশেষজ্ঞ
আইনি বিশেষজ্ঞ দাঁড়াবে তাকে বাঁচাতে;
হয়তো বেঁচেও যেতে পারে সেই গুণীজনে।
পরিশেষে শুধুই খাতার পাতায় লেখা থাকবে;
বিচারের বাণী নিরবে নিভৃতে কাঁদে।

তিলোত্তমা, তুমি শেষ নিঃশ্বাস এর আগে
আগে অব্দি লড়াই করে ছিলে।
তবে, রোগী বাঁচাবার জন্য নয়,
তোমার নিজের বাঁচার জন্যে।
করোনাকে জয় করে ছিলে তুমি,
তোমার কাজের স্থলের লোক, তোমার কলিগ, তারাই সে কথা বলেছে বারেবারে।
সমস্ত ভয় জয় করে তুমি রোগীর পাশে
রোগীর পাশে দাঁড়িয়ে ছিলে সে দিনে।
অথচ তুমি তোমার নিজের জন্য শেষ লড়াইয়ে নিতান্ত বস্যতাকে নিলে মেনে।

দুদিন পরে মা দুর্গা আসবেন,
তার আবার অকাল বোধনও হবে।
তবে জনগণের হৃদয় মাঝে তুমি,
যে আসন পেতে দিয়ে গেছো আজকে।
তার বোধন শুরু হয়েছে,
শুরু হয়েছে দুর্গা পূজার বোধন;
দুর্গাপূজা বোধনের অনেক আগে।

সে বোধন জাগরনের বোধন,
সে বোধন প্রতিবাদের বোধন।
সে বোধন চক্ষু উন্মোচনের বোধন,
সে বোধন তিলোত্তমা জাগরণের বোধন।

ফেসবুক দিয়ে আপনার মন্তব্য করুন
Spread the love

You may also like...

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

কপি করার অনুমতি নেই।