T3 || কবিতা দিবস || বিশেষ সংখ্যায় সায়ন্তন ধর

কবিতা দিবস নিয়ে কিছু কথা
কবিতা কবির আবেগ নিংড়ে রচিত হয়, কবিতা সাহিত্যের সবচেয়ে শ্রুতিমধুর রূপ, হয়তো সুরের মূর্ছনায় সংগীত সুয়োরানী তবে দুয়োরানী হলেও কবিতাও কিন্তু রানী। তাছাড়া বলা হয় যে তুমি যদি গান ভালোবাসো, তবে তুমি গোপনে কবিতাকেই ভালোবাসো। কবিতা কঠিন? দুর্বোধ্য? একেবারেই নয়, কবিতা সকলের জন্য, সকল স্বাদের মানুষের, সকল বয়সের। কবিতা সরল, বিজয় সূচক শব্দে উদ্বুদ্ধ অথবা শুধুই মজার। তাল, মাত্রা, ছন্দ, ভাব মিলিয়ে কবিতা রান্নার উপকরণও কম কিছু নয়। পৃথিবীর যেকোন সাহিত্যেই গদ্যের অনেক আগেই জন্ম নিয়েছে কবিতা। এমনকি তা লিপি আবিস্কারেরও অনেক আগের কথা। যখন লোকমুখে কবিতার প্রচলন ছিল। এমনকি আমাদের বেদও শ্রুতি ছিল। প্রায় তিন হাজার খ্রিষ্টপূর্বাব্দের সুমের সভ্যতায় রচিত ‘Epic of Gilgamesh’ কে পৃথিবীর সবচেয়ে পুরনো কবিতা হিসেবে ধরা হয়। তেমনই গ্রীক মহাকাব্য ইলিয়াড ও ওডিসি এবং আমাদের রামায়ণ ও মহাভারত। এমনকি আজ যে কবিতা শুধুই একটি শিল্প, মানসিক আনন্দের খনি, সেই কবিতার সহজ সরল ভাষাতেই বৈদিক যুগে বিজ্ঞান পৌঁছে যেতো মানুষের মনের অন্দরে। প্রাচীন ছন্দোবদ্ধ কবিতা নানাভাবে রূপান্তরিত হয়ে সনেট, লিমেরিক, হাইকু, রুবাই, তানকা, সিজো, ল্যাবেরি, ত্রিওলে ইত্যাদির মাধ্যমে গদ্যকবিতা, অণুকবিতা, পরমাণুকবিতা নিয়ে এসেছে আমাদের কাব্যিক সমাজে।
এবারে আসি বিশ্ব কবিতা দিবসের কথায়। পৃথিবীতে প্রতিটি বিষয়কে সম্মান প্রদর্শন করতে একটা নির্দিষ্ট দিন বেছে নেওয়া হয়। তেমনই কবিতার প্রতি ও কবির প্রতি শ্রদ্ধা স্বরূপ ও বিশ্বের ভাষা বৈচিত্র্যকে অক্ষুণ্ন রাখতে ও হারিয়ে যেতে বসা ভাষাগুলিকে নতুন জীবন দিতে ইউনেস্কো ১৯৯৯ সালে আজকের দিনে অর্থাৎ ২১শে মার্চ কবিতা দিবস পালনের সিদ্ধান্ত নেয়। সে সময় বলা হয়েছিল, “এই দিবস বিভিন্ন জাতীয়, আঞ্চলিক ও আন্তর্জাতিক কবিতা আন্দোলনগুলিকে নতুন করে স্বীকৃতি ও গতি দান করবে।” তবে এর আগেও অক্টোবর মাসের বিভিন্ন সময়ে বিভিন্ন দেশে জাতীয় কবিতা দিবসের প্রচলন ছিল, যা পরে বিংশ শতাব্দীর শেষ দিকে রোমান সম্রাট অগাস্টাসের রাজকবি ভার্জিলের জন্মদিন স্মরণে রেখে ১৫ই অক্টোবর পালিত হতো। এখনও কোন কোন দেশে তার প্রচলন আছে।
এবছরের বিশ্ব কবিতা দিবসের থিম, “Standing on the Shoulders of Giants.” এই থিমের মাধ্যমে সেই সমস্ত আইকনিক, বিশ্বমানের কবিদের আমরা শ্রদ্ধা জানাবো যাঁদের নব নব কাজগুলি বৈশ্বিক সাংস্কৃতিক জগতে কবিতার পদচিহ্নকে প্রসারিত করেছে। একই সাথে সেই ভিত্তির ওপর নতুন কবিরা তাদের কাব্য-ইমারত নির্মাণ করবে।
এবিষয়ে কিছু কথা বলি, আমাদের খুব বদভ্যাস রয়েছে যে কোন বিষয়কে একটি দিনে সীমাবদ্ধ করতে। কিন্তু আমাদের বুঝতে হবে দিনটিকে রাখা হয়েছে সেই বিষয়ে প্রচারের জন্য, তার উদ্দেশ্য সম্পর্কে জানানোর জন্য, কিন্তু কর্মটি করে যেতে হবে সারা বছর ধরে। কবিতা দিবস একদিন, কবিতা লিখন প্রতিদিন। রাগ, দুঃখ, কষ্ট, সুখ, আনন্দ, উন্মাদনা, প্রেম, বিরহ সবকিছুকেই কবিতাতে রূপান্তরিত করতে হবে। কবিতা না এলেও অকবিতা লিখে যেতে হবে। কবিতা পাঠ ও আবৃত্তিকে ভাসিয়ে দিতে হবে তরঙ্গ মাধ্যমে। একদিন, এ পৃথিবী থাকবে না… সেদিন যেনো বহু আলোকবর্ষ দূরের কোন গ্যালাক্সির গ্রহে-উপগ্রহে পৌঁছে যায় পৃথিবীর কবিতা পাঠ। তারাও শুনবে এ পৃথিবীর শ্রেষ্ঠ শিল্পকে।
বিশ্ব কবিতা দিবসে
কবিতা আসে না নিব-এ
খড়কুটো কিছু পাইনি আজকে
স্ফুলিঙ্গ গিয়েছে নিভে
বছরে শুধু একদিন নয়
প্রতিদিন হোক কবিতা
ছন্দে ছন্দে ভরুক পৃথিবী
ঝেড়ে ফেলে সব ভণিতা
ইথারে বেতারে ছড়িয়ে পড়ুক
কবিতার বিষাদ-হর্ষ
কোন গ্রহ থেকে শুনতে পাবে
পেরিয়ে আলোকবর্ষ।
খুব ভালো লাগল। তথ্যসমৃদ্ধ, সাবলীল ও আন্তরিক প্রকাশ।
খুব ভালোলাগল ভাই,চমৎকার লিখেছ।