T3 || কবিতা দিবস || বিশেষ সংখ্যায় সরমা দেবদত্ত

তুমি আমার কবিতা
যে কথা হয়নি বলা আজও, বলতে পারিনি কখনো
নির্ঘুম রাত কেটেছে শুধু তার কথা ভেবে ভেবে
বালিশ জড়িয়ে করেছি এপাশ ওপাশ, ছটফট অস্থির
কী যেন এক অব্যক্ত যন্ত্রণা অন্তর কুঁড়ে কুঁড়ে খায়
আকণ্ঠ দলা পাকিয়ে ওঠে, চীৎকার করতে চেয়েছি
কিন্তু পারিনি, কণ্ঠ রুদ্ধ হয়ে এসেছে প্রতিবারই
সে যেন দূর থেকে আমায় দেখতো যন্ত্রণায় ছটফট করতে
কাছে এসে ধরা দিতে চায়নি—
আমিও জীবনের এতগুলো বছর তাকে খুঁজেছি,খুঁজে পেতে চেয়েছি,কিন্তু কী সে তা বুঝতে পারিনি
গত জন্মের এক অতৃপ্ত বাসনা মনকে ঘিরে রেখেছে
পেতে চাই কিন্ত পাই না—
“তারে ধরি ধরি মনে করি ধরতে গেলেম আর পেলেম না”
অবশেষে তুমি ধরা দিলে আমার জীবনের এক অমাবস্যার গহন অন্ধকারে আলোর দিশারী হয়ে। যখন আমার আশেপাশে সবাই ক্ষুন্নিবৃত্তিতে ব্যস্ত তুমি আমার একলা যাপন সঙ্গী হয়ে এলে রাজকীয় বেশে
“ওরে দুয়ার খুলে দে রে, বাজা শঙ্খ বাজা
গভীর রাতে এসেছে আজ আঁধার ঘরের রাজা”
আমার হৃদয়ের অন্ধকার দ্বারগুলো হঠাৎই দমকা হাওয়ায় খুলে গেল, এক ঝলক মুক্ত বাতাসে আলোকিত হল হৃদয় প্রকোষ্ঠগুলো
আমি নিশ্চিন্তে তোমার হাতটি ধরে পথ চলতে আরম্ভ করলাম
মনের অজানা কুঠুরিতে আজন্ম লালিত হাজারো আনন্দ
বেদনার স্বতঃস্ফূর্ত প্রকাশ হল, কথারা মুক্ত বিহঙ্গের ন্যায়
অবাধ বিচরণে মত্ত হলো। মন, শব্দ আর প্রকৃতি যেন মিলেমিশে একাকার
“হৃদয় আজি মোর কেমনে গেল খুলি
জগৎ আসি সেথা করিছে কোলাকুলি”
তুমি আমার স্বস্তি তোমাতেই আমার মুক্তি
তুমি আমার শব্দ মালায় গাঁথা কবিতা
“আমার মুক্তি আলোয় আলোয় এই আকাশে ”
কিন্তু একি!!!
আমি এ কোন অথৈ সাগরে খাবি খাচ্ছি
সাঁতরে পাড়ে উঠতে পারছি না কেন?
সে যে সীমাহীন গহীন, শুরু আছে শেষ কোথায় তা জানা নেই
কল্পনার নানা রঙে তার আল্পনা আঁকা যায়, কিন্তু তাকে বেঁধে রাখা যায় না
অসীম নীল আকাশে দিগন্ত বিস্তৃত সবুজ মন মাঠে তার অবাধ বিচরণ, কোন বাঁধনে তাকে বাঁধবো
কবিতার কল্পজগতে অবগাহন করেও তাই এখনো
তুমি আমার
“অধরা মাধুরী”