হাতেখড়ি
হোঁচট খেয়ে পড়তে গিয়ে ওই মেয়ে
ব্যথায় ককিয়ে ওঠে “মাগো”
সেই মেয়ে “মা” লেখা অক্ষরটা চেনেনা।
হাটে-মাঠে কামিন খেটে; ঠকে গিয়েও
সেই কিশোরী বলে,
ঘরে চার চারটে প্যেটে:দানা যোগানোর কেউ নাই।
ইস্কুলে গেলে প্যাটের ক্ষুধা মিটবে?
ফ্যাক্টরিতে কম মজুরি হাতে পেয়েও সেই কিশোর
হাসিমুখে বলে মরা বাপের দায়িত্বটাই যে আমার ঘাড়ে…
ঘরে বিয়ের যুগ্যি দুই দিদি, অসুস্থ মা..
মোদের ঘরে আবার পড়ালেখা!
যে চাষি টিপছাপ দিয়ে টাকা
ধার নিতে এসে মহাজনের কাছে
বারেবারে ঠকে যায়,তবু
বর্ণপরিচয়ের সঙ্গে পরিচিত হতে তার ঘোর আপত্তি।
সে বলে-ওসব বড়লোকদের জন্য বাবু।
দাসপাড়ার মাঠে শুরু হয়েছে ভাষাদিবসের অনুষ্ঠান।
চা বিক্রি করছিল যে মহিলা;দেখি তাঁর চোখে জল।
ভাষাশহীদ সালাম,জব্বর,রফিক বরকতদের প্রাণ বলিদানের ঘটনা উনি মন দিয়ে শুনছিলেন।
মঞ্চে তখন বীর শহীদদের শুধুমাত্র মাতৃভাষা রক্ষার জন্য
প্রাণ বলিদানের কথা বলা হচ্ছে।
তাকে বলি-একি তুমি কাঁদছো কেন মাসি?
বাপের থেকে হাতে হাতে
শুধু টাকা পয়সাটা গুনতে শিখেছি গো।
অভাবের সংসার সই করতে শেখা আর হয়ে ওঠেনি।
আহারে;নিজের মায়ের ভাষাটাকে বাঁচানোর তাগিদে
কিকরে ছেলেগুলো সহজেই পরাণটা দিয়ে দিল গো!
চোখদুটো আঁচলের খুঁটে মুছে বললেন,
তোমাদের সন্ধ্যেবেলার ইস্কুলে ভর্তি নেবে?
তুমি আসবে আমাদের বয়স্কদের শিক্ষাকেন্দ্রে?
হুঁ,যাব তো।
শাকবেচা বকুল, মাছবেচা রতন ওদেরকেও ডাকবো। ওরা এই বয়সে এসেও লিখতে পড়তে চায়-জানো!
আমিই এতোকাল গেরাজ্জি করিনি।
হ্যাঁ নিশ্চয়ই আসবে। আজ-ই কাজ সেরে বাড়ি ফেরার আগে তোমরা সকলেই চলে আসবে।
এই মাতৃভাষা পালনের দিনেই হোক তোমাদের লেখাপড়ার হাতেখড়ি।